• ই-পেপার

কোরআন অনুধাবনে যে সাতটি বিষয় প্রতিবন্ধক

এবার তীব্র গরমে মক্কা ও মদিনায় বিশেষ সতর্কতা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
এবার তীব্র গরমে মক্কা ও মদিনায় বিশেষ সতর্কতা
সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ধূলিঝড় ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে, বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের কিছু অংশে দিনের বেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনার পাশাপাশি আল-জাওফ, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, হাইল, আল-কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল এবং নাজরানের কিছু এলাকায় ধুলা ও বালুবাহী প্রবল বাতাস বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও আবহাওয়া অস্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জাজান, আসির ও আল-বাহা অঞ্চলের কিছু অংশ এবং মক্কার দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় বাতাসের সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ফেরেশতাদের দোয়া লাভের সেরা ১০ উপায়

মুফতি ওমর বিন নাছির
ফেরেশতাদের দোয়া লাভের সেরা ১০ উপায়
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে আল্লাহর রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের অন্যতম উপায় হলো ফেরেশতাদের দোয়া লাভ করা। ফেরেশতারা হলেন আল্লাহর নুর থেকে সৃষ্ট এমন সম্মানিত বান্দা, যারা সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকেন এবং তাঁর নির্দেশের বাইরে কোনো কাজ করেন না। তারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, রহমতের দোয়া করেন এবং নেক আমলের সাক্ষী হন। কোরআন ও সহিহ হাদিসে এমন বহু আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে, যেগুলো করলে ফেরেশতারা বান্দার জন্য দোয়া করেন। 

ফেরেশতাদের দোয়া লাভের সেরা ১০ উপায়
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অপরিসীম দয়াশীল। তিনি এমন কিছু নেক আমলের ব্যবস্থা রেখেছেন, যেগুলোর মাধ্যমে ফেরেশতারা মুমিনদের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করেন। এসব আমল কেবল আখিরাতের পুঁজি নয়; বরং দুনিয়ার জীবনেও প্রশান্তি, বরকত ও কল্যাণের উৎস।

১. ঈমান ও তওবার ওপর অবিচল থাকা
মুমিনদের জন্য ফেরেশতাদের দোয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ঈমান ও আন্তরিক তওবা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে, তাঁর ওপর ঈমান আনে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। অতএব যারা তওবা করেছে এবং আপনার পথ অনুসরণ করেছে, তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৭)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আন্তরিক তওবাকারী ও আল্লাহর পথে অবিচল বান্দাদের জন্য ফেরেশতারা নিয়মিত দোয়া করেন।

২. নামাজের অপেক্ষায় অজু অবস্থায় বসে থাকা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার নামাজের স্থানে বসে থাকে এবং তার অজু নষ্ট না হয়, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন—‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, তার প্রতি দয়া করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৪৫)
এ কারণে ফরজ নামাজের আগে-পরে কিছু সময় মসজিদে বসে জিকির-আজকার করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

৩. প্রথম কাতারে নামাজ আদায় করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা প্রথম কাতারের মুসল্লিদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৯৯৭)
তাই প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর আগ্রহ মুমিনের ঈমান ও আল্লাহপ্রেমের পরিচায়ক।

৪. অসুস্থ মুসলিমকে দেখতে যাওয়া
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৯)
তাই অসুস্থকে দেখতে যাওয়া শুধু মানবিক কর্তব্য নয়; এটি ফেরেশতাদের দোয়া লাভেরও একটি মাধ্যম।

৫. মুসলিম ভাইয়ের জন্য অগোচরে দোয়া করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যখন তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া করে, তখন একজন নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন, ‘আমীন, এবং তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭৩২)
এজন্য অন্যের কল্যাণ কামনা করলে নিজের জন্যও একই কল্যাণের দোয়া লাভ হয়।

৬. রোজাদারকে ইফতার করানো
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭)
অন্য হাদিসে এসেছে, রোজাদারের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন। তাই ইফতার করানোও রহমত লাভের উত্তম মাধ্যম।

৭. ইলম শিক্ষা ও শিক্ষা দানে নিয়োজিত থাকা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞান অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ফেরেশতারা তাদের ডানা বিছিয়ে দেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৬৪১)
তাই ইসলামের জ্ঞান অর্জন ও প্রচার করা ফেরেশতাদের সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম পথ।

৮. মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। একজন বলেন, ‘হে আল্লাহ! যে দান করে তাকে আরো দান করুন।’ অন্যজন বলেন, ‘যে কৃপণতা করে তার সম্পদ ধ্বংস করে দিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪৪২)
এ হাদিস দানশীলতার মর্যাদা ও ফেরেশতাদের দোয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট করে।

৯. মহানবী (সা.)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৮)
তাই দরুদ পাঠ মুমিনের জন্য ফেরেশতাদের দোয়া লাভের অন্যতম বিশেষ উপায়। 

১০. সর্বদা পবিত্র ও অজু অবস্থায় থাকা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (অজুসহ) রাত কাটায়, একজন ফেরেশতা তার সঙ্গে রাত যাপন করেন। সে যখন জাগে, ফেরেশতা বলে, ‘হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন, কারণ সে পবিত্র অবস্থায় রাত কাটিয়েছে।’ (ইবনে হিব্বান, আল-মুজামুল কাবির)

সুতরাং ফেরেশতাদের দোয়া লাভ করা কোনো অলৌকিক বিষয় নয়; বরং এটি নেক আমলের স্বাভাবিক প্রতিদান। আর ফেরেশতাদের দোয়া এমন এক অমূল্য নেয়ামত, যা একজন মুমিনের জীবনকে আলোকিত করে এবং আখিরাতের সফলতার পথ সুগম করে। পৃথিবীর কোনো মানুষের দোয়ার চেয়েও ফেরেশতাদের দোয়া অধিক পবিত্র ও বরকতময়, কারণ তারা নিষ্পাপ এবং সর্বদা আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন, যাতে আমরা দুনিয়ায় তাঁর রহমত এবং আখিরাতে জান্নাত লাভের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি। আমিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৮ ‍জুলাই ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৮ ‍জুলাই ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, ২২ মহররম, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—
জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৭ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১৯ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৪ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৭ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

কারো বদনজর লাগছে কিভাবে বুঝবেন? করণীয় কী?

অনলাইন ডেস্ক
কারো বদনজর লাগছে কিভাবে বুঝবেন? করণীয় কী?
সংগৃহীত ছবি

দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন মুমিনের জন্য পরীক্ষার হলের মতো। চিরসত্য মৃত্যুর মধ্যদিয়ে প্রত্যেককেই অনন্তকালের জীবনে প্রবেশ করতে হবে। তবে পরকালে সফল হতে অবশ্যই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তবেই আখিরাতে মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত : ৭)

এ জন্য অনেক সময় দুনিয়াতে নানা ধরনের বিপদ-আপদের মাধ্যমেও মহান রাব্বুল আলামিন বান্দার পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। কখনো এটি হতে পারে শারীরিক কোনো রোগ-ব্যাধি দিয়ে, আবার কখনো জীবন বা সম্পদের ক্ষতির মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে বদনজর লাগাও আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনের জন্য একটি পরীক্ষা। কারণ, বদনজর যেমন সত্য, তেমনি এর খারাপ প্রভাবও রয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বদনজর লাগা সত্য (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৭৯)। এ ছাড়া আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- তোমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। কেননা বদনজর সত্য বা বাস্তব ব্যাপার। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস : ৩৫০৮)

এমনকি পবিত্র কোরআনেও বদনজরের বিষয়টি এসেছে, ইরশাদ হয়েছে- ‘কাফিররা যখন কোরআন শুনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়ে ফেলবে। আর তারা বলে, সে তো অবশ্যই পাগল।’ (সুরা কলম, আয়াত : ৫১)।

মূলত বদনজর হলো কারো হিংসাত্মক দৃষ্টির কুফল। এ ক্ষেত্রে কারো হিংসাত্মক দৃষ্টির ফলে কোনো ব্যক্তির বা বিষয়ের ভালো অবস্থা থেকে ব্যত্যয় ঘটলে এমনটা বদনজরের কারণে হয়ে থাকতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ভালোমতো খাওয়া-দাওয়া করা কোনো শিশুকে কেউ যদি হিংসাত্মক দৃষ্টিতে দেখে, সে ক্ষেত্রে প্রায়ই ওই শিশুর খাবার খেতে অনীহার মতো বিষয় দেখা যায়।

এ ক্ষেত্রে কারো মধ্যে বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেলে তার ওপর কারো বদনজর লেগেছে কি না, সেটি বোঝা যায়। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো চেহারায় কালিমা পড়া (চেহারার স্বাভাবিক নূর বা উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাওয়া)। উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার রাসুল (সা.) তার ঘরে এমন একটি মেয়েকে দেখলেন যে, তার চেহারায় কালিমা রয়েছে। তখন নবীজি (সা.) বললেন তাকে ঝাড়-ফুঁক করাও, কেননা তার ওপর (বদ) নজর লেগেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৫৩৭; সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩২৮)

এ ছাড়া বিনা কারণেই শরীর অতিরিক্ত দুর্বল ও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়াও বজনজরের কারণে হতে পারে। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাযম পরিবারকে সাপের ছোবলে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করার অনুমতি দেন এবং আসমা বিনতু উমায়স (রা.) কে বললেন, আমার ভাই জাফার (রা.) এর ছেলে-মেয়েদের কী হলো যে, তাদের শরীর আমি দুর্বল দেখতে পাচ্ছি? তাদের কি অভাব দেখা দিয়েছে? জবাবে আসমা (রা.) বললেন, না। কিন্তু তাদের ওপর তাড়াতাড়ি কুনজর লেগে যায়। এরপর নবীজি (সা.) বললেন, তুমি তাদের ঝাড়-ফুঁক করো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৬১৯)

তবে বদনজর লাগা নিয়ে প্রচলিত একটি কথা প্রায়ই শোনা যায় যে, বদনজর লাগলে সোনা বা রূপা ধৌত করা পানি খেলে বা সেই পানি দিয়ে গোসল করলে বদনজর কেটে যায়। আবার কেউ কেউ বদনজর কাটাতে পশুর হাড় ঝুলিয়ে রাখেন। তবে শরিয়তে এমন সবকিছুর ভিত্তি নেই।

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কারও বদনজর লেগেছে এমনটা নিশ্চিত হলে দুইভাবে মূলত বদনজর কাটানো যায়। এর মধ্যে একটি হলো যার বদনজর লেগেছে কোনোভাবে তার শরীর নিসৃত পানি (হাত ধোয়, গোসল করা পানি ইত্যাদি) সংগ্রহ করে যার ওপর বদনজর লেগেছে তার ওপর প্রয়োগ করা। অর্থাৎ, সেই পানি দিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নেয়া বা গোসল করা। এছাড়া অন্যটি হলো- বিশেষ কোনো দোয়া বা কোরআনের আয়াত পাঠ করা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যেটি করা যেতে পারে সেটি হলো- সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করা। এ ক্ষেত্রে কোনো পানিতে এই দুই সুরা পড়ে ফুঁ দিয়ে সেই পানি দিয়ে যার ওপর বদনজর লেগেছে তার শরীর ধুয়ে নেয়া যেতে পারে।

এর বাইরেও বদনজর কাটাতে বিভিন্ন দোয়া পড়া যেতে পারে। সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এমন একটি দোয়ার কথা এসেছে। যার মাধ্যমে জিবরিল (আ.) নবীজিকে (সা.) ঝাড়ফুঁক করেছিলেন। সহিহ মুসলিমে আসা হাদিসটি হলো- একবার জিবরিল (আ.) রাসুল (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া মুহাম্মদ! (সা.) আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? জবাবে নবীজি বললেন, হ্যাঁ। পরে জিবরিল (আ.) বললেন-

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

বাংলা : বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইয়্যুজিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসাদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা, বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।

অর্থ : আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি- সেসব জিনিস থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দেয়, সব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদনজর থেকে আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন, আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৫১২)

এছাড়া কারও বদনজর লাগলে যে ঝাড়-ফুক করা যায় হাদিসে সে বিষয়টিও এসেছে। উবাইদ ইবনু রিফাআ আয-যুরাকী (রাহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার আসমা বিনতু উমাইস (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), জাফরের সন্তানদের তাড়াতাড়ি বদনজর লেগে যায়। আমি কি তাদের ঝাড়-ফুঁক করতে পারি? জবাবে নবীজি (সা.) বলেন, হ্যাঁ। কেননা, কোনো জিনিস যদি ভাগ্যকে অতিক্রম করতে পারত তাহলে বদনজরই তা অতিক্রম করতে পারত। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ২০৫৯)