• ই-পেপার

৩ দেশের সঙ্গে ড্রোন চুক্তি স্বাক্ষর করলেন জেলেনস্কি

পশ্চিমবঙ্গে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-হত্যা

পুলিশের গুলিতে অভিযুক্ত ছেলের মৃত্যুর পর মা বললেন, কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশের গুলিতে অভিযুক্ত ছেলের মৃত্যুর পর মা বললেন, কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে
সংগৃহীত ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে কিশোরীকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকালে পুলিশ প্রভাসের মৃত্যুর খবর তার মা সন্ধ্যা মণ্ডলকে জানায়। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি জানান, তার ছেলে নিজের অপরাধের শাস্তি পেয়েছে। এমনকি ছেলের মরদেহ আনতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, তার ছেলে যে অপরাধ করেছে, তার পরিণতি সে পেয়েছে। একটি শিশুর সঙ্গে অন্যায় করার পর তার মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কোনো দুঃখ বা আপত্তি অনুভব করছেন না। তিনি বলেন, 'ও যেরকম কর্ম করেছে, মারা গেছে, ও যেরকম দুষ্কর্ম করেছে, আমার কোনও আর আপত্তি নেই, কষ্ট নেই, আর দুঃখ নেই। ও যেরকম একটা মেয়েকে কষ্ট দিয়ে মেরেছে, ও তো সেই মরেছে। শেষ আমার। আমরা আনব না। আমার কেউ নেই। আমি আনতে পারব না। আমি ও দেখতে পারব না। আমি ওর আর কিছু করব না। ও যাক।'

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে বারুইপুর থানার একটি দল প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। তদন্তের অংশ হিসেবে সেখানে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। পুলিশের দাবি, ওই সময় প্রভাস এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর তিনি পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশ গুলি চালালে প্রভাস গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের দাবি, তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যে পুকুর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, তার কাছের একটি ঝুপড়িতে বসে ঘটনার দিন আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার মাদক সেবন করছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তারা প্রভাস মণ্ডলকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে সেখানে নিয়ে আসতে বলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীকে সেখানে আনার পর সে পালানোর চেষ্টা করলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে একটি বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহ ফেলার সময় বস্তা ছিঁড়ে যায়। এরপর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

বারুইপুরের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার ও প্রভাস মণ্ডলকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ঘটনার পর প্রভাস মণ্ডলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান স্থানীয় বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল। এখন প্রভাসের মৃত্যু হলেও মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত বিচার করে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছরের ওই কিশোরী। পরের দিন একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর  তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সন্দেহভাজনক একজনকে গণধোলাই দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। 

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

অনলাইন ডেস্ক
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধীচক্রগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বড় আন্তর্জাতিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপজুড়ে ২৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, হত্যা, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত এসব অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় অভিযান এটি।

‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে এই সমন্বিত অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ইউনাইটেড স্টেটস অ্যাটর্নি অফিস। কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে সংঘটিত সহিংসতা, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য সংগঠিত অপরাধে জড়িত তিনটি বড় অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক বছরের যৌথ তদন্তের ফল হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ফেডারেল প্রসিকিউটররা ৩৭ জনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন ক্যালিফোর্নিয়ায়, একজন ইন্ডিয়ানায় এবং একজন জর্জিয়ায় গ্রেপ্তার হন।

এ ছাড়া কানাডায় তিনজন এবং স্পেনে একজনকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযানের আগেই সাতজন আসামি হেফাজতে ছিলেন। তবে এখনো ১০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ইউরোপে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযানের সময় তদন্তকারীরা প্রায় এক মেট্রিক টন কোকেন, এক কেজি হেরোইন, প্রায় ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ এবং ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছেন। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো এলাকায় ২৩টি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে ১১টি স্থাপনায় তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়।

এই অভিযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া এবং সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত অপরাধ দমনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো যৌথভাবে কাজ করেছে।

কর্তৃপক্ষ এই তদন্তকে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব সংগঠন সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসাইলি বলেন, ‘যেসব আন্তর্জাতিক অপরাধীচক্র ভয়, মাদক ও সহিংসতা ছড়ায়, তাদের আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।’ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ ও এশিয়ার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো একযোগে কাজ করে একাধিক মহাদেশে সক্রিয় এসব অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।

এদিকে মামলার অন্যতম গুরুতর অভিযোগটি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংকে ঘিরে। ৩৩ বছর বয়সী গ্যাং নেতা লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে ভারতে কারাবন্দি রয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি কারাগারে বসেই অবৈধ মোবাইল ফোন ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগযন্ত্র ব্যবহার করে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষ্ণোই নিজেকে জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করলেও আড়ালে তিনি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার এবং মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি বড় অপরাধীচক্র পরিচালনা করতেন।

হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ড

অভিযোগগুলোর মধ্যে ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরে খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও রয়েছে। আদালতের নথিতে তাকে শুধু ‘এইচ.এস.এন’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্র শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় অপরাধীচক্রের কারারুদ্ধ প্রধান লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার উত্তর আমেরিকাভিত্তিক সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে ‘গোল্ডি ব্রার’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। 

লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালতে প্রকাশিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরের একটি শিখ গুরুদ্বারের বাইরে হরদীপ সিং নিজ্জারকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মুখে পড়ে। 

নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের পর কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কয়েক মাস পর তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের এজেন্টদের সম্পৃক্ততার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে কানাডার কর্তৃপক্ষ। তবে ভারত সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে।

যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বিষ্ণোই ও সিংহের বিরুদ্ধে কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এবং অন্য কোনো কর্মকর্তা দাবি করেননি যে, ভারত সরকার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বা এ সম্পর্কে আগে থেকে জানত।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় অবৈধ একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে লরেন্স বিষ্ণোই এই হত্যার পরিকল্পনা পরিচালনা করেন। তিনি এক সহযোগীর কাছে হরদীপ সিং নিজ্জারের ছবি ও অবস্থানের একাধিক ঠিকানা পাঠিয়েছিলেন, যাতে হামলা চালানো সহজ হয়। এতে আরো বলা হয়, বিষ্ণোইয়ের শৈশবের বন্ধু সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে ‘গোল্ডি ব্রার’ উত্তর আমেরিকায় ‘লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’-এর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
 
কানাডার নাগরিক নিজ্জার ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে ‘খালিস্তান’ নামে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচারণা চালাতেন। এ কারণে নয়াদিল্লি তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।

কানাডার পুলিশ ২০২৪ সালের মে মাসে হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করে। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগপত্রে কথিত বন্দুকধারীদের আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাদের শুধু ষড়যন্ত্রে সাহায্য করেছে বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আমলে অটোয়া ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রথম সরকারি সফরে ভারত সফর করেন এবং দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। আশা করা হচ্ছে, চুক্তিটি নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তবে কার্নির এই উদ্যোগ কিছু শিখ সংগঠনের সমালোচনার মুখে পড়েছে। 

তাদের অভিযোগ, কানাডা সরকার ভারতকে যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশি হস্তক্ষেপ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে শিখ-কানাডীয়দের সুরক্ষা দিতেও অটোয়া যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তারা দাবি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় সেতুর টাওয়ারে উঠে গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ায় সেতুর টাওয়ারে উঠে গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
ছবি: রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে ১৪০ মিটার উঁচু একটি সেতুর টাওয়ারে উঠে ছবি আঁকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে টাওয়ারের চূড়ায় অবস্থান করায় পুলিশের সঙ্গে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এ সময় সেতুর একটি লেন বন্ধ রাখতে হয়, ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

মঙ্গলবার মেলবোর্নের বোল্টে ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে। শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার কাছে অবস্থিত এই ক্যান্টিলিভার সেতুর টাওয়ারে উঠে ওই যুবক স্প্রে পেইন্ট দিয়ে একটি বড় কার্টুন পাখির ছবি আঁকেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুবকটি টাওয়ারের একেবারে চূড়ায় বসে আছেন। তার দুই পা নিচের দিকে ঝুলছিল। পরে একই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় কর কমানোর দাবি জানান। পাশাপাশি বলেন, নিচে নামার আগে তার কাছে ড্রোনের মাধ্যমে একটি চিনাবাদামের মাখনের স্যান্ডউইচ পৌঁছে দিতে হবে।

তার এই দাবির পর পুলিশ ও ওই যুবকের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা চলে। নিরাপত্তার কারণে সেতুর একটি লেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ভিক্টোরিয়া পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সার্জেন্ট পল হোগান বলেন, কয়েক ঘণ্টা পর যুবকটি টাওয়ার থেকে নিচে নামলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, যুবকের বিরুদ্ধে সেতুর বাইরের দেয়ালে স্প্রে দিয়ে ছবি আঁকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ বারবার নিচে নামতে বললেও তিনি দীর্ঘ সময় সেই নির্দেশ মানেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, পুরো ঘটনায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলে ইউনিফর্মধারী পুলিশ, মহাসড়ক টহল পুলিশ, সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা দল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং জল পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সেতুর গায়ে আঁকা ছবিটি ‘প্যাম দ্য বার্ড’ নামে পরিচিত একটি কার্টুন পাখির ছবির সঙ্গে মিল রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেলবোর্নের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে এই প্রতীক দেখা গেছে। শহরের ঐতিহাসিক ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট রেলওয়ে স্টেশনেও একই ধরনের ছবি আঁকা হয়েছিল। তবে কী কারণে শেষ পর্যন্ত ওই যুবক নিচে নামতে রাজি হন, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। এদিকে ঘটনার পর ওই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে লেখা হয়, 'স্যান্ডউইচ ছাড়াই এখানে ড্রোন উড়িয়ে পাঠানোর সাহস দেখাল!' পোস্টটি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তার দাবি অনুযায়ী চিনাবাদামের মাখনের স্যান্ডউইচ পাঠানো হয়নি।

মেলোনিকে ‘ভালো মানুষ’ বললেও ইরানের বিষয়ে সাহায্য না করায় সমালোচনা ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
মেলোনিকে ‘ভালো মানুষ’ বললেও ইরানের বিষয়ে সাহায্য না করায় সমালোচনা ট্রাম্পের

একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক বিরোধ এখন তুঙ্গে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ট্রাম্প মেলোনিকে একজন ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও সংকটে ওয়াশিংটনকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তুরস্কে আয়োজিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন করে চাপের মুখে ফেলেছে।

তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেলোনির সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা স্বীকার করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে মেলোনি আমাদের সাহায্য করতে অস্বীকার করায় তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কিছুটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তিনি এই সংকটে জড়াতে রাজি হননি, তাই সম্পর্কটা কিছুটা তিক্ত হয়েছে। তবে আমি তাকে পছন্দ করি, তিনি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু আমার মনে হয় তিনি একটি বড় ভুল করেছেন।’

মূলত গত মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার পথে সিসিলির সিগোনেলা বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক বিমানকে অবতরণের অনুমতি দেয়নি ইতালি। ওয়াশিংটন রোম সরকারের কাছ থেকে কোনো পূর্বানুমতি না নেওয়ায় ইতালি এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। এ ছাড়া ইরান সংকটে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে ইতালির পাশে দাঁড়াতেও অস্বীকৃতি জানান।

মেলোনি ও ট্রাম্পের মধ্যকার এই বিরোধের সূত্রপাত গত মাসে, যখন ট্রাম্প দাবি করেন যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সাথে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। মেলোনি এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানিয়ে বলা গল্প বলে প্রত্যাখ্যান করেন। এরপরই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে মেলোনিকে ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় এবং ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘সংযম প্রয়োজন’। এই পোস্টটি দুই নেতার বিবাদকে পুনরায় উস্কে দেয়। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের নিন্দা করায় পোপ লিও-র ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প, যা নিয়ে মেলোনিও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন।

ট্রাম্পের একের পর এক উস্কানিমূলক মন্তব্যের জবাবে ইতালীয় সরকার আপাতত নীরব থাকার এবং উত্তেজনা না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘ট্রাম্প নিজের হয়েই কথা বলেন। আমাদের এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আছেন যিনি বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি দিতে ভালোবাসেন। আমরা এই ধরনের মন্তব্যের জবাব দেওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের মুখোমুখি হলে মেলোনি কী করবেন, তা নিয়ে তার কার্যালয় আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মেলোনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি ট্রাম্পকে এড়িয়ে যাবেন না, বরং এই পরিস্থিতি বুদ্ধিমত্তার সাথে সামলাবেন এবং ট্রাম্পকে হাসিমুখে অভিবাদন জানাতে পারেন।