• ই-পেপার

হামের টিকা সংকট ও শিশুমৃত্যু

ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক খুন

৯ জেলায় ৭ হত্যা, ৩ লাশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক খুন
বিল্লাল হোসেন

রাজধানীতে ছুরি মেরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। পাবনা শহরে চরমপন্থী সদস্যসহ দুজনকে খুন করা হয়েছে। যশোরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে খুন করে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। বরগুনায় রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর সকালে একটি খাল থেকে ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গাইবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধে খুন হয়েছে এক কলেজছাত্র। ময়মনসিংহে ছুরিকাঘাতে এক যুবক এবং খুলনায় গণপিটুনিতে আরেকজন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ঢাকা : মৌচাক এলাকার আনারকলি মার্কেটের সামনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এক নেতাকে ছুরি মেরে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, পূর্ববিরোধসহ আরো কয়েকটি কারণে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম বিল্লাল হোসেন তালুকদার। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক আহ্বায়ক। পরে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

পাবনা : শহরে দুটি মোটরসাইকেলে এসে আলী হোসেন (৫৩) নামের এক চরমপন্থী সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মাসুম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেলে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন কলেজছাত্র মনিরুল ইসলাম।

যশোর : ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে খুন করে স্বামী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল ভোরে শহরের শেখহাটি তমালতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

বরগুনা : সদর উপজেলার বড় গৌরীচন্না খাল থেকে গতকাল সকালে ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি হলেন গৌরীচন্না গ্রামের মোনসের আলী ব্যাপারীর ছেলে শামীম ব্যাপারী (৪০)। তিনি একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী ছিলেন।

গাইবান্ধা : সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে রবিবার রাতে জমিসংক্রান্ত বিরোধে ছুরিকাঘাতে ফাহমিদ রুমন (১৯) নামের কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই ফারদিন রুহিত (২২) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) : উপজেলা ভূমি অফিসের পেছনে গতকাল বিকেলে হেলাল উদ্দিন নামের এক যুবক ছুরিকাঘাতে মারা গেছেন। তিনি পৌর শহরের কাচারীপাড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে।

খুলনা : পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী বাজারে হাসান মোড়ল (৩৭) নামের এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বাজারের পশুর হাটে রবিবার সন্ধ্যার দিকে ইজারা আদায়কারী আজাহারুল ইসলামের টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেন হাসান। পরে স্থানীয় লোকজন হাসানকে ধরে পিটুনি দেয়। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে রাতে তিনি মারা যান।

সিরাজগঞ্জ : অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক সড়কের চণ্ডীদাসগাতি সেতুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রাম : কর্ণফুলী নদীর মাঝিরঘাট এলাকা থেকে গতকাল দুপুরে ৪০-৪৫ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।

নৌ পুলিশের সদঘাট থানার ওসি মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি তিন থেকে চার দিন আগে মারা গেছেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়া উঠে গেছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েও তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী

নতুন শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে আরো ৪ বিষয়

এসএসসি ও সমমানের ফল ২০ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে আরো ৪ বিষয়

২০২৮ সাল থেকে সরকার যে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা করেছে তাতে আরো চারটি বিষয় যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নিয়ে দুটি বিষয় পড়তে হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস। এ ছাড়া নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো একটি বিষয়ের সঙ্গে বড় অধ্যায় যুক্ত হতে পারে।

গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান। জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চলমান কর্মসূচি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা প্রথমত বিদ্যমান শিক্ষাক্রমকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মতভাবে এটাকে আমরা রিভাইজ করে ২০২৭ সালে দিচ্ছি। আর টোটাল চেইঞ্জ যেটা আশা করছেন, সেটা আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০২৮ সালে গিয়ে আপনারা সেটা দেখতে পারবেন, এখন নয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ১৬ বছরের সব সমস্যা হয়তো এক দিনে বা এক বছরে সমাধান করা যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। যতটা দ্রুত সম্ভব আমরা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনব। এখানে কারিকুলামের ভেতরে একটি অংশ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন-পরিমার্জন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় আমরা যুক্ত করছি।

এসএসসি ও সমমানের ফল ২০ জুলাই : এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে। এ লক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডকে সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পথ সুগম করতে এবং পরীক্ষা-পরবর্তী সময় অপচয় রোধে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যেই এই পরীক্ষার ফলাফল একযোগে দেশব্যাপী প্রকাশ করা হবে। বোর্ডগুলোকে সেই অনুযায়ী সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের পূর্ণ সুবিধা নিতে হলে আমাদের এই সময় অপচয় রুখতেই হবে। শুধু এসএসসি নয়, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের সেশনগুলোকেও আমরা একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছি। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তিন বছরের কোর্স তিন বছরে এবং পাঁচ বছরের কোর্স পাঁচ বছরেই শেষ করতে হবে, কোনো ওয়েটিং সেশন বা বিলম্ব বরদাশত করা হবে না।

আগামী শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ হয়ে যাবে। সেশনজট পুরোপুরি দূর করতে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু এবং ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার একটি খসড়া রুটিন তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষায় সোয়া লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ : আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে এক লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ মিলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এই অর্থবছরে আমরা জিডিপির ২ শতাংশ পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন এই বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত করা হবে। বিদায়ি অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১.৭৭ শতাংশ। আর কেবল শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ জিডিপির ১.৫৩ শতাংশ।

১২ জুন শুরু স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম : দেশব্যপী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উপজেলা, জেলা, মহানগর ও জাতীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম আয়োজিত হতে যাচ্ছে। সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এই প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতি দলে থাকবে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক। আগামী ১২ জুন থেকে উপজেলা পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এই প্রোগ্রামের বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ১০০টি দল জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তাদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী প্রজেক্ট উপস্থাপন করবে। আগামী ২৮ জুন  বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ে এই শোকেসিং প্রোগ্রাম আয়োজিত হবে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার এবং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকে পরিণত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রমুখ।

এক দশক পর চীনা ইকোনমিক জোন একনেকে উঠছে আজ

এম আর মাসফি
এক দশক পর চীনা ইকোনমিক জোন একনেকে উঠছে আজ

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে নানা জটিলতায় আটকে থাকা চার হাজার ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্পটি সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় আজ অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ঠিক আগে প্রকল্পটি একনেক সভায় উঠছে। ২৩ জুন থেকে শুরু হচ্ছে তাঁর চার দিনের এই চীন সফর।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একনেকে অনুমোদন মিললে শুধু প্রকল্পটির বাস্তবায়নই ত্বরান্বিত হবে না, চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক বার্তা যাবে। বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সংশ্লিষ্ট সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ২৩ জুন চার দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন। এর আগে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়া চুনইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, সম্ভাব্য চুক্তি, বিনিয়োগ সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এই প্রেক্ষাপটে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি) ভিত্তিতে গড়ে তোলা হচ্ছে চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় অঞ্চলটির অবস্থানকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, এটি ভবিষ্যতে চীনা বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মধ্যে ২০১৪ সালে এই অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়। ২০১৬ সালে প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ডেভেলপার নির্বাচন, অর্থায়ন কাঠামো এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।

শুরুতে প্রকল্পটির ডেভেলপার হিসেবে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানিকে (সিএইচইসি) বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় অগ্রগতি থমকে যায়। পরে ২০২২ সালে চীন সরকারের মনোনয়নে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে দায়িত্ব পায়। বর্তমানে সিআরবিসির সঙ্গে ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে বেজা।

একনেকে উপস্থাপিত সর্বশেষ পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণের আওতায় পাওয়া যাবে দুই হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা।

প্রকল্পের আওতায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড ও ৩৩০ মিটার সেতু, এক হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ চার লেন সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার সক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, ট্রান্সমিশন লাইন, পানি সংরক্ষণাগার এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাউন্ডারি ওয়াল।

বেজা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি চূড়ান্ত হলে অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে। সম্প্রতি বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, চীনা পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং প্রকল্পটিকে উভয় দেশই অগ্রাধিকারভুক্ত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছে।

সরকারের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত এক লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাতে চীনা বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পর অবশেষে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে একনেকে প্রকল্পটির অনুমোদন মিললে তা শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি নয়, বরং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারির নতুন গতি সৃষ্টিরও প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে আনোয়ারার এই চীনা ইকোনমিক জোনকে তাই এখন সরকারের অন্যতম কৌশলগত প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনা ইকোনমিক জোন ছাড়াও একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য আরো ১১টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে। অনুমোদন পেলে মোট ১২টি প্রকল্পে ব্যয় হবে আট হাজার ১০৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন পাঁচ হাজার ৫৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ দুই হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প ছয়টি, সংশোধিত প্রকল্প চারটি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প দুটি। সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভায় অবহিত করা হবে।

পেপারবুক প্রস্তুত

শুনানির অপেক্ষায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
শুনানির অপেক্ষায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিল

মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) শুনানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পেপারবুক ছাপার কাজ শেষ। হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেছেন, সরকারি ছাপাখানা (বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়বিজি প্রেস) থেকে মামলাটির পেপারবুক প্রস্তুত করে শাখায় পাঠানো হয়েছে। এখন সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিচারিক আদালত কোনো অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী সেই মৃত্যুদণ্ড কর্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। অনুমোদনের প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ডেথ রেফারেন্স। রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায়সহ মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দণ্ডিত আসামি বা আসামিদের আপিল। ডেথ রেফারেন্স ও আপিল ক্রমানুসারে সাজিয়ে বাঁধাই করে যে বই (ভলিউম) তৈরি করা হয়, সেটিকে পেপারবুক বলে। হাইকোর্ট এই পেপারবুকের ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তি করে থাকেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় হয় গত বছরের ১৭ মে। এরপর ওই বছরের মে মাসের শেষের দিকে মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। আর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দণ্ডিত হিটু শেখ। এরপর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পেপারবুক তৈরির জন্য মামলার যাবতীয় নথি বিজি প্রেসে পাঠায়। ছাপার কাজ শেষে সম্প্রতি তা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়।

ডেথ রেফারেন্স শাখার ওই কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, যাচাই-বাছাই ও আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলা বা পেপারবুকটি শুনানির জন্য পাঠাবেন।

গত বছরের ৬ মার্চ শ্রীপুরে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। ধর্ষণকারী হিটু শেখ শিশুটির বোনের শ্বশুর। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। পরে তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার সাত দিন পর ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যায় শিশুটি। এরপর ১৩ এপ্রিল মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/২ ধারায় (ধর্ষণের ফলে মৃত্যুর অপরাধ), শিশুটির বোনের স্বামী ও ভাশুরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার দ্বিতীয় অংশ (ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং বোনের শাশুড়ির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (অপরাধের আলামত নষ্টের অভিযোগ) অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২৯ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। সব মিলিয়ে ঘটনার দুই মাস ১১ দিনের মাথায় মামলাটির রায় হয়। রায়ে মামলার মূল আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। মামলার বাকি তিন আসামি শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাঁদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। এর পরই ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি অপেক্ষমাণ থাকার মধ্যে গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে একটি ভবনের ফ্ল্যাটে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় গত রবিবার মামলার রায় দেন বিচারিক আদালত। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হবে। সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা বলছেন, হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দিয়েই শুরু হতে পারে বিশেষ বেঞ্চের বিচারকাজ।