• ই-পেপার

ইশতেহার মেনে মানবসম্পদে জোর

উক্তি

উক্তি

কেবল এক জায়গায় পিআর আছে। তা হলো সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন। এটাকে যদি ডাইরেক্ট করা যেত, তাহলে অনেক সুবিধা হতো।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার

বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন শুরু

আলোচনায় পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন শুরু

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হয়েছে ভারতের নয়াদিল্লিতে। গতকাল সোমবার এই বৈঠক শুরু হয়েছে। তা চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। সম্মেলনে বিএসএফ, ভারতীয় নাগরিক ও দুষ্কৃতকারীদের হাতে সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, পুশ ইন বন্ধ, ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এটি বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সম্মেলন। ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাহিনীর ডিজি প্রবীণ কুমার।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।

বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন। পুশ ইনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ওড়ানো এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নিষ্পত্তি এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।

এদিকে ভারত থেকে পুশ ইনের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে বিজিবি। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিএসএফের কয়েক দফা পুশ ইনের চেষ্টা তারা ঠেকিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, চার দিনের এই সম্মেলনে অনুপ্রবেশসংক্রান্ত আলোচনা, ভারতীয় নাগরিকদের ওপর আক্রমণ, আন্ত সীমান্ত অপরাধ, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। উল্লেখ্য, উভয় বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বছরে একবার অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুইবার আয়োজন করা হচ্ছে। দুই দেশ পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও দিল্লিতে এই বৈঠকের আয়োজন করে।

 

তরুণদের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের প্রস্তাব

শফিকুল ইসলাম
তরুণদের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের প্রস্তাব

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাতে তাঁদের জন্য কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তরুণরা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং, তথ্য-প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ সহায়তা এবং কর ছাড়ের নানা উদ্যোগও থাকছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাতে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ খাতে কর ছাড়, বিশেষ তহবিল ও রিফাইন্যান্স সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুব ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা গঠন এবং দক্ষতা উন্নয়নে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যুব ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি, বিশেষ তহবিল গঠন এবং তথ্য-প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ লাখ তরুণকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের জন্য যুব ঋণের সর্বোচ্চ সীমা দুই লাখ টাকা এবং সফল উদ্যোক্তাদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র আরো জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হবে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

আসন্ন প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে নতুন মাইলফলকে নিতে হলে উচ্চাভিলাষ দরকার। তাই আমাদের সরকারের প্রথম বাজেটটি হবে উচ্চাভিলাষী। আমরা মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাই এবং প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে নিতে চাই।

বাজেটের আকার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্য : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার তুলনায় এটি এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি, শতকরা হিসাবে বৃদ্ধি ১৮.৭৩ শতাংশ। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করবে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক ঋণ এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রবৃৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সৃজনশীল অর্থনীতি ও কোদালের পাশে ল্যাপটপ: প্রস্তাবিত বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে নতুন অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ধারণাকে অনেকে সহজভাবে কোদালের পাশে ল্যাপটপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

এই অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো মেধা, সৃজনশীলতা, মেধাস্বত্ব ও প্রযুক্তি। আগে যেখানে জমি ও কাঁচামাল ছিল প্রধান সম্পদ, এখন সেখানে ডিজিটাল দক্ষতা, উদ্ভাবন ও চিন্তাশক্তিকেও অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ই-কমার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কাজ ভবিষ্যতের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। সরকারও তরুণদের এ খাতে যুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

কর ছাড় ও নতুন সুযোগ : বাজেট প্রস্তাবে তথ্য-প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার খাতে বিদ্যমান কর অব্যাহতি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। এটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন, গেম ডেভেলপমেন্ট, অ্যানিমেশন, মিউজিক প্রোডাকশন, ডিজাইন সার্ভিস ও ফ্রিল্যান্সিংকে কর সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্টার্টআপ ও ইনোভেশন খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৫০ কোটি টাকার রিফাইন্যান্স স্কিমে সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই তহবিলে সুদের হার কম এবং জামানত শিথিল থাকবে। এ তহবিলের আকার বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিতে ক্রিয়েটিভ হাব বা ইনোভেশন জোন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ সুবিধা, আধুনিক কম্পিউটার ও ভিডিও এডিটিং সুবিধা থাকবে। তরুণ উদ্যোক্তারা স্বল্প ভাড়ায় কাজের সুযোগ পাবেন।

ভারতের স্টার্টআপ ইন্ডিয়া হাব ও ইন্দোনেশিয়ার বেকরাফ হাব মডেলে এসব কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে বলে জানা গেছে।

দক্ষতা উন্নয়ন ও রপ্তানি সহায়তা : বাজেটে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, থ্রিডি অ্যানিমেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও মিউজিক প্রোডাকশনে তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ ব্যয়ের একটি অংশ সরকার ভর্তুকি দেবে।

এ ছাড়া সফটওয়্যার, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেম ও অ্যানিমেশন রপ্তানির ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তার প্রস্তাব রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আয় করা উদ্যোক্তারা বাড়তি সুবিধা পাবেন।

সামাজিক সুরক্ষা ও অগ্রাধিকার খাত : অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ খাতে এক লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি।

উপদেষ্টার মন্তব্য : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, প্রচলিত চাকরির বাইরে গিয়ে তরুণদের নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে সৃজনশীল অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, তরুণরা এখন মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহার করে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করছেন। সরকারের দায়িত্ব তাঁদের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। এ বাস্তবতায় এনএসডিএর মাধ্যমে আন্তর্জাতিকমানের ক্রিয়েটিভ
স্কিল সার্টিফিকেশন
চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রত্যাশার চাপহীন জার্মানি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রত্যাশার চাপহীন জার্মানি
ম্যানুয়েল নয়ার

বরাবরই ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখে জার্মানি। এবার অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সেরা হওয়ার তালিকায় স্পেন, আর্জেন্টিনার মতো দলগুলোর কাতারে উচ্চারিত হচ্ছে না তাদের নাম। একটু পেছন ফিরে তাকালেই কারণটা স্পষ্ট হবে। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গত দুই প্রত্যাশার চাপহীন জার্মানিআসরে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় ঘণ্টা বাজে প্রথম রাউন্ডে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আটবার ফাইনাল খেলা দলটি এর আগে মাত্র একবারই প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছিল। সেটাও ১৯৩৮ সালে। সেই দাপুটে জার্মানিকে গত দুই আসরে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ কারণেই এবার প্রত্যাশার চাপ কম ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১০ নম্বরে থাকা জার্মানিকে ঘিরে।

অন্যান্য বিশ্বকাপের মতো এবার জার্মানির গায়ে যে ফেভারিটের সিলমোহর নেই, সেটি অকপটেই উঠে এসেছে লিওন গোরেত্জকার কণ্ঠে। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মিডফিল্ডার বলেন, পরিস্থিতি সত্যিই আগের টুর্নামেন্টগুলোর তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। সত্যি বলতে, আমি মনে করি না যে আমরা শীর্ষ ফেভারিটদের মধ্যে থাকব। তবে ভালো কিছু করার তাড়না আছে দলের মধ্যে।  গোরেত্জকার বলেন, একটি ফুটবলপ্রেমী জাতি হিসেবে আমাদের কাছে উচ্চ প্রত্যাশা থাকবে। সেটি যথার্থও। আমাদের দলে কয়েকজন অসাধারণ তারকা খেলোয়াড় আছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই যদি ফিট থাকি এবং ভালো ফর্মে থাকি, তাহলে এই বিশ্বকাপে অনেক কিছু অর্জন করতে পারব।

গোরেত্জকারের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে জার্মানির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে আশাবাদী হওয়ার মতো ফুটবল খেলছে দলটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯টি ম্যাচ জিতেছে জার্মানি। এই জয়ের ধারায় তারা মোট ২৯টি গোল করেছে এবং হজম করেছে মাত্র ছয়টি। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতেও দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে জার্মানি। সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। শিকাগোর সোলজার ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জার্মানির হয়ে গোল করেন কাই হাভার্টজ ও লেরয় সানে। বিশ্বকাপেও জার্মানির এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে এই দুজনের ওপর। এবারের আসরকে সমর্থকদের আস্থা ফিরে পাওয়ার অভিযান হিসেবেও দেখছে জার্মানি। সেটি পরিষ্কার গোরেত্জকারের কথায়, আমরা সবকিছু আবার ঠিকঠাক করতে চাই। অতীতের ঘটনাগুলো এখন আর আমাদের খুব একটা বিরক্ত করে না। কিন্তু এটা সত্য, বর্তমানে সেই উচ্ছ্বাস এবং সমর্থকদের সঙ্গে যে একাত্মতার অনুভূতি ছিল, তা আর আগের মতো নেই। তারা আমাদের ওপর কিছুটা আস্থা হারিয়েছে। আমরা সত্যিই আবার তাদের বিশ্বাস ও সমর্থন ফিরে পেতে চাই। ব্যক্তিগতভাবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। পুরো দলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। 

গত দুই আসরে ব্যর্থতার চক্র ভাঙতে না পারা জার্মান দলটির সঙ্গী ছিলেন গোরেত্জকা। তবে সেই স্মৃতিগুলো বেশি স্মরণ করে পড়ে থাকতে চান না তিনি। বিশ্বকাপের সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য তাই মুখিয়ে আছেন ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার, আপনি সব সময়ই নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারেন এবং নেওয়া উচিত। কিন্তু এখন সেগুলো নিয়ে পড়ে থাকলে আমাদের কোনো উপকার হবে না। আমরা শুধু সামনে তাকাতে চাই এবং আমাদের সামনে থাকা এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাই। আমরা জানি, আমাদের একটি ভালো দল রয়েছে।