ফ্রান্স-মরক্কো (রাত ২টা)
একই সময়ে সূর্যের আলোতে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ
আজকের খেলা

হামে আক্রান্ত

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় রদবদল
পররাষ্ট্রসচিব হচ্ছেন নোমান, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
দিল্লিতে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন পররাষ্ট্রসচিব, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী ও উপস্থায়ী প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার পরিবর্তন করা হচ্ছে, লন্ডনে হাইকমিশনার এবং জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পদে নতুন নিয়োগ দিচ্ছে সরকার।
পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান। তিনি ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল এবং ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ, অর্থনৈতিক, প্রশাসন, প্রটোকল, এক্সটারনাল পাবলিসিটি ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগ এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমিতেও কাজ করেছেন।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দিয়ে গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
আইরিন খান ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৩ সালে এই ম্যান্ডেট চালুর পর তিনিই প্রথম নারী, যিনি এই পদে নিযুক্ত হন। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগেই আইরিন খান নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। ফলে তাঁর যোগদানের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই পররাষ্ট্রসচিব, দিল্লির হাইকমিশনার, জেনেভার স্থায়ী প্রতিনিধি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কার্যকর হতে পারে।
এ ছাড়া নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান (এপেলো)-কে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
আসাদ আলম সিয়াম ২০২৫ সালের ২০ জুন পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিনকে পররাষ্ট্রসচিব করা হলেও প্রায় ৯ মাস পর তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে আসাদ আলম সিয়ামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে জেনেভায় দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানকে ঢাকায় ফিরিয়ে এনে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
গত মার্চ থেকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের পদ শূন্য রয়েছে। সরকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির বর্তমান রেক্টর ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে লন্ডনে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপি সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে নিযুক্ত চার রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। তাঁদের মধ্যে পর্তুগালে এম মাহফুজুল হক, পোল্যান্ডে মো. ময়নুল ইসলাম এবং মেক্সিকোতে এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) দেশে ফিরলেও মালদ্বীপে নিযুক্ত হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম এখনো কর্মস্থলে রয়েছেন। তিনি সরকারের কাছে আবেদন করে দায়িত্ব অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সরকার এরই মধ্যে জকি আহাদকে ডেনমার্ক, নুর-ই আলমকে আয়ারল্যান্ড, এ এফ এম জাহিদুল ইসলামকে আর্জেন্টিনা এবং সাবেক প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে পর্তুগালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থাসমূহ) এম ফরহাদুল ইসলামকে মরিশাসে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর ও ইরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য রয়েছে।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এসব নিয়োগ ও রদবদল বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ভুল থেকেও জীবন ফেরাতে জানেন মেসি

এবারের বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে বসে বেশ কয়েকটি ম্যাচ দেখেছি। কিন্তু আর্জেন্টিনা-মিসরের এই ম্যাচটি দীর্ঘদিন মনে থাকবে। কারণ এই ম্যাচ আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবলে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অনেক দলই ভেঙে পড়ে। লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের পরও মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার সামনে পথটা আরো কঠিন হয়ে গেল। গ্যালারিতে তখন এক ধরনের নীরবতা। কিন্তু মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের
শরীরী ভাষা ছিল ভিন্ন। তাঁদের মধ্যে আমি হতাশা নয়, ফিরে আসার বিশ্বাস দেখেছি। আমি সব সময় মনে করি, বড় দল আর ছোট দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য মানসিকতায়। কঠিন মুহূর্তে কারা মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারে, সেটাই আসল পরীক্ষা। আর্জেন্টিনা সেই পরীক্ষায় দারুণভাবে উতরে গেছে। তারা নিজেদের খেলার ধরন বদলায়নি, তাড়াহুড়া করেনি। ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষা করেছে, আর সুযোগ পেয়েই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে। মেসিকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। পেনাল্টি মিস করার পর অনেকেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। কিন্তু কিংবদন্তিরা ভুলের ভেতর থেকেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে জানেন। মেসি সেটিই করেছেন। শুধু নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, পুরো দলকে বিশ্বাস জুগিয়েছেন। একজন অধিনায়ক হিসেবে এটিই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
তবে এই জয়কে শুধু মেসির জয় বললে অন্যদের প্রতি অবিচার করা হবে। রোমেরোর গোলটি আর্জেন্টিনাকে নতুন জীবন দিয়েছে। এরপর পুরো দল যেন অন্য এক ছন্দে খেলেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই তাদের জয় এনে দিয়েছে। মিসরের জন্য অবশ্যই কষ্ট লাগছে। তারা দীর্ঘ সময় দারুণ ফুটবল খেলেছে। পরিকল্পনাও ছিল সপষ্ট। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে কয়েক মিনিটের জন্য মনোযোগ হারালেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়। এই বাস্তবতা খুব কঠিন, কিন্তু এটাই বড় টুর্নামেন্টের সত্য। অনেক সময় বড় দলও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। অথচ আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিল, স্কোরলাইন নয়, বিশ্বাসই ম্যাচের সবচেয়ে বড় শক্তি। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।
ফুটবল অনেক সময় নিষ্ঠুর। ৮০ মিনিট ভালো খেলেও শেষ ১০ মিনিটে সব হারিয়ে যেতে পারে। আবার অনেক সময় একটি গোল পুরো ম্যাচের গতি বদলে দেয়। আর্জেন্টিনা-মিসরের ম্যাচটি ছিল তারই সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এখানে কৌশল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক দৃঢ়তা। স্কোরলাইন যতই বিপক্ষে থাকুক, বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে ফিরে আসা অসম্ভব। আর বিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে। শেষ বাঁশি বাজার পরের দৃশ্যটি ছিল এই ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস, একে অন্যকে জড়িয়ে ধরা, লিওনেল স্কালোনির চোখের জল আর গ্যালারিজুড়ে সমর্থকদের উন্মাদনা—সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার এই দল অদম্য মানসিকতার। আর এই মানসিকতাই আর্জেন্টিনাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে।
