ফ্রান্স-মরক্কো (রাত ২টা)
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় রদবদল
পররাষ্ট্রসচিব হচ্ছেন নোমান, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- দিল্লিতে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম
আজকের খেলা

হামে আক্রান্ত

একই সময়ে সূর্যের আলোতে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ

গতকাল বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিট) পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে দিনের আলো বা গোধূলি আলোর সাক্ষী হয়েছে। পৃথিবীর অক্ষের অবস্থান এবং উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৮৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি পূর্ণ দিনের আলোতে ছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় এক মিনিট স্থায়ী এই বিরল সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বেশির ভাগ জনবহুল অঞ্চলের মানুষ একই সঙ্গে সূর্যের আলো পেয়েছে। অন্যদিকে এ সময় সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল শুধু অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকা। প্রতিবছর মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রায় ৬০ দিন ধরে দিনের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে মানবজাতির প্রায় পুরোটাই সূর্যালোকের আওতায় থাকে।
গবেষকরা বলেন, পৃথিবীর ভৌগোলিক জনসংখ্যা বণ্টন এবং অক্ষীয় ঘূর্ণনের একটি নিখুঁত সমন্বয়ের কারণে এই বিরল ঘটনাটি ঘটে। তবে এটি মহাজাগতিক কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। বরং দুটি প্রধান কারণ একসঙ্গে মিলে যাওয়ায় এটি সম্ভব হয়। কারণ দুটি হলো উত্তর গোলার্ধে জনসংখ্যার অতিঘনত্ব। পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ উত্তর গোলার্ধে বসবাস করে। এই বিশেষ মুহূর্তে সূর্যের আলো যে অঞ্চলে পড়ে, তার মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। ঠিক একই সময়ে পৃথিবীর যে অংশে রাত থাকে, সেটি মূলত বিশাল ও জনমানবহীন প্রশান্ত মহাসাগর, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড অঞ্চল। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে থাকলেও সেখানে মাত্র ১ শতাংশ মানুষের বসবাস। দ্বিতীয় কারণ হলো পৃথিবী তার কক্ষপথে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে ঘোরে। মে থেকে জুলাই মাসের এই সময়ে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে সূর্যের অবস্থান এমন একটি নিখুঁত বিন্দুতে আসে, যা একই সঙ্গে আমেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু করে পূর্ব এশিয়ার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত আলো (সরাসরি দিন অথবা গোধূলি) ছড়াতে পারে। তবে এই ৯৯ শতাংশ হিসাবের মধ্যে কিন্তু সবাই কড়া রোদ পায়নি। এর মধ্যে ৮৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি দিনের আলোতে ছিল; বাকি ১৬ শতাংশ মানুষ ছিল গোধূলির আলোতে। বৈজ্ঞানিক নিয়মে গোধূলির আবছা আলোকেও সূর্যের আলোর অংশ ধরা হয় বলেই সংখ্যাটি ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
অনেকের ধারণা, বছরে শুধু এক দিনই এমন মুহূর্ত আসে। বিষয়টি আসলে তেমন নয়। প্রতিবছর ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৬০ দিন এমন সংক্ষিপ্ত মুহূর্ত আসে। ৮ জুলাই ঘিরে বেশি মাতামাতি হওয়ার কারণ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট। ২০২২ সালের ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বছরে শুধু এক দিনই এমন ঘটনা ঘটে। পরে নরওয়ের টাইম অ্যান্ড ডেটের একটি ফ্যাক্ট চেকে দেখা যায়, ৮ জুলাই দিনের ও গোধূলির আলো পাওয়ার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকলেও উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সূত্র : আল জাজিরা
ভুল থেকেও জীবন ফেরাতে জানেন মেসি

এবারের বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে বসে বেশ কয়েকটি ম্যাচ দেখেছি। কিন্তু আর্জেন্টিনা-মিসরের এই ম্যাচটি দীর্ঘদিন মনে থাকবে। কারণ এই ম্যাচ আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবলে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অনেক দলই ভেঙে পড়ে। লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের পরও মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার সামনে পথটা আরো কঠিন হয়ে গেল। গ্যালারিতে তখন এক ধরনের নীরবতা। কিন্তু মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের
শরীরী ভাষা ছিল ভিন্ন। তাঁদের মধ্যে আমি হতাশা নয়, ফিরে আসার বিশ্বাস দেখেছি। আমি সব সময় মনে করি, বড় দল আর ছোট দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য মানসিকতায়। কঠিন মুহূর্তে কারা মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারে, সেটাই আসল পরীক্ষা। আর্জেন্টিনা সেই পরীক্ষায় দারুণভাবে উতরে গেছে। তারা নিজেদের খেলার ধরন বদলায়নি, তাড়াহুড়া করেনি। ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষা করেছে, আর সুযোগ পেয়েই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে। মেসিকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। পেনাল্টি মিস করার পর অনেকেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। কিন্তু কিংবদন্তিরা ভুলের ভেতর থেকেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে জানেন। মেসি সেটিই করেছেন। শুধু নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, পুরো দলকে বিশ্বাস জুগিয়েছেন। একজন অধিনায়ক হিসেবে এটিই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
তবে এই জয়কে শুধু মেসির জয় বললে অন্যদের প্রতি অবিচার করা হবে। রোমেরোর গোলটি আর্জেন্টিনাকে নতুন জীবন দিয়েছে। এরপর পুরো দল যেন অন্য এক ছন্দে খেলেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই তাদের জয় এনে দিয়েছে। মিসরের জন্য অবশ্যই কষ্ট লাগছে। তারা দীর্ঘ সময় দারুণ ফুটবল খেলেছে। পরিকল্পনাও ছিল সপষ্ট। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে কয়েক মিনিটের জন্য মনোযোগ হারালেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়। এই বাস্তবতা খুব কঠিন, কিন্তু এটাই বড় টুর্নামেন্টের সত্য। অনেক সময় বড় দলও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। অথচ আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিল, স্কোরলাইন নয়, বিশ্বাসই ম্যাচের সবচেয়ে বড় শক্তি। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।
ফুটবল অনেক সময় নিষ্ঠুর। ৮০ মিনিট ভালো খেলেও শেষ ১০ মিনিটে সব হারিয়ে যেতে পারে। আবার অনেক সময় একটি গোল পুরো ম্যাচের গতি বদলে দেয়। আর্জেন্টিনা-মিসরের ম্যাচটি ছিল তারই সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এখানে কৌশল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক দৃঢ়তা। স্কোরলাইন যতই বিপক্ষে থাকুক, বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে ফিরে আসা অসম্ভব। আর বিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে। শেষ বাঁশি বাজার পরের দৃশ্যটি ছিল এই ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস, একে অন্যকে জড়িয়ে ধরা, লিওনেল স্কালোনির চোখের জল আর গ্যালারিজুড়ে সমর্থকদের উন্মাদনা—সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার এই দল অদম্য মানসিকতার। আর এই মানসিকতাই আর্জেন্টিনাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে।
