• ই-পেপার

ওয়ানডে সিরিজ থেকেও ছিটকে গেলেন লিটন, বদলি ইমন

ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে আর্জেন্টিনার ৫ রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে আর্জেন্টিনার ৫ রেফারি

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারি ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) একাধিক বির্তকিত সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

আটলান্টায় কাল রাতে আর্জেন্টিনার কাছে অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিকে নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে মিশর। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে অভিযোগ মিশরের। 

এমন বির্তকের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি বিতর্কে যুক্ত হয়েছে আর্জেন্টিনার নাম।

বোস্টনে আগামীকাল রাতে ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে এমন এক রেফারি প্যানেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা চলতি বিশ্বকাপে আগের ৯৬টি ম্যাচে দেখা যায়নি। 

এই প্রথম কোনো ম্যাচে মাঠে ও মাঠের বাইরে মিলিয়ে ৫ জন অফিশিয়ালের সবাই এসেছেন একই দেশ থেকে—আর্জেন্টিনা! গতকাল ফিফা এই ম্যাচ অফিশিয়ালদের নাম ঘোষণা করেছে। তবে বেশিরভাগ ফুটবলপ্রেমীর নজরে এসেছে আজ।

এই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স, যারা সর্বশেষ দুটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলেছে।

২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স ৪-৩ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল। তবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ৩-৩ গোলে ড্রয়ের পর পেনাল্টিতে ৪-২ ব্যবধানে জয়ী হয়।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্ট ফিফার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো লজ্জা নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে ফিফার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘ফ্রান্সের ম্যাচের জন্য সব আর্জেন্টিনার রেফারি। ফিফা আবারো আর্জেন্টিনার জন্য বিশ্বকাপ কারচুপি করার সব চেষ্টা করছে।’

অন্য একজন পোস্ট করেছেন, ‘ফিফা আর এটা লুকায় না। সবাই আর্জেন্টাইন। আপনারা মেসিকে কেন ভিএআর পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে আসছেন না?’

মূল রেফারি হিসেবে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টাইন ফাকুন্দো তেল্লোকে। ফ্রান্স-মরক্কো ২০২২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

তেল্লোর স্বদেশি জুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চাদেকে সহকারী রেফারি হিসেবে দেখা যাবে। আরেক আর্জেন্টাইন দারিও হেরেরাকে চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে রাখা হয়েছে। ক্রিস্তিয়ান নাভারো থাকবেন রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে। তিনিও আর্জেন্টাইন।

৫ আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়ে কথা বলেছেন ফরাসি ডিফেন্ডার দায়োত উপামেকানো। তিনি বলেন, ‘রেফারি কে হবেন, তার ওপর আমি মনোযোগ দিতে যাচ্ছি না। আমরা এর আগে কখনো এমনটি করিনি, আমরা মরক্কো ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা এই ম্যাচ জিততে চাই। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

ফাউলের পর ফাউল করেও এত কম কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা!

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাউলের পর ফাউল করেও এত কম কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা!

একের পর এক ফাউল, প্রতিপক্ষ ফুটবলারকে বাজেভাবে ট্যাকল, জার্সি টেনে ধরা—এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়ের এমন দৃশ্যের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। 

সবচেয়ে বেশি সমালোচিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি। নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর দিনেই আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে বুটের তলা উঁচিয়ে পায়ের পেছনের অংশে মাড়িয়ে দেওয়ার পরও মেসিকে কোনো কার্ড না দেখানো হয়নি।

এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সাভের শালগারকে নিজেদের অর্ধে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তবু রেফারি ফাউল না ধরে খেলা চালিয়ে যেতে দেন। সেখান থেকেই আক্রমণ গড়ে তুলে গোল করেন মেসি। 

আর গত রাতে মিসরের সঙ্গে সুবিধা পাওয়ার দৃশ্যগুলো তো তরতাজাই। 

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই যে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা এত ফাউল করছেন, তবু তাদের খুব একটা খুঁত খুঁজে পাচ্ছেন না রেফারি। আলবিসেলেস্তেদের কার্ড দেখিয়ে সতর্কও করা হচ্ছে না তেমন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো মেসি-মার্তিনেজদের প্রতিপক্ষরাই কার্ড দেখছেন!

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত যে পাঁচ ম্যাচ খেলেছে, এর চারটিতেই প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেরা বেশি ফাউল করেছে। 
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১২টি, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ১৩টি, মিসরের বিপক্ষে ১৩টি এমনকি নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষেও ১৩টি ফাউল করেছে। একমাত্র কম ফাউল করেছে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বেশ পিছিয়ে থাকা দল জর্ডানের বিপক্ষে (৭টি)। 

ক্রীড়াভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ও কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম বোলাভিআইপি দিয়েছে আরেক চমকপ্রদ তথ্য। বিশ্বকাপে যে আট দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে, তাদের মধ্যে ফাউলপ্রতি সবচেয়ে কম কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দল প্রতি ১৯.৭ ফাউলে কার্ড দেখেছে একটি।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি কার্ড দেখানো হয়েছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের। সবই হলুদ কার্ড; লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়নি কাউকে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের কার্ড দেখার অনুপাতে সবচেয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড। ইংলিশদের প্রতি ৭.৭ ফাউলে একবার কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেছেন রেফারিরা। 

সংখ্যার হিসেবে শেষ আটে ওঠা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ২টি কার্ড দেখেছে নরওয়ে। ব্রাজিলকে বিদায় করে দেওয়া নরওয়ে ফাউলও করেছে অনেক কম। পাঁচ ম্যাচ খেলে মাত্র ৪৮টি। আর্লিং হালান্ড-মার্টিন ওডেগার্ডদের খেলার ধরন ও মাঠে শৃঙ্খলা বা রেফারির কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়া নিয়েও কারো কোনো অভিযোগ নেই। 

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের কার্ড দেখার অনুপাত

ইংল্যান্ড ⟩ প্রতি ৭.৭ ফাউলে এক কার্ড
মরক্কো ⟩ প্রতি ১০.২ ফাউলে এক কার্ড
সুইজারল্যান্ড ⟩ প্রতি ১১.৫ ফাউলে এক কার্ড
ফ্রান্স ⟩ প্রতি ১২.৩ ফাউলে এক কার্ড
বেলজিয়াম ⟩ প্রতি ১৫ ফাউলে এক কার্ড
স্পেন ⟩ প্রতি ১৮.৩ ফাউলে এক কার্ড
আর্জেন্টিনা ⟩ প্রতি ১৯.৭ ফাউলে এক কার্ড
নরওয়ে ⟩ প্রতি ২৪ ফাউলে এক কার্ড

রেফারিং নিয়ে কথা না বলতে চাপ সালাহকে

ক্রীড়া ডেস্ক
রেফারিং নিয়ে কথা না বলতে চাপ সালাহকে
ছবি : কেডিসি গ্লোবাল

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিসর। ম্যাচজুড়ে একাধিক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিসর কোচ হোসাম হাসান ও বেশ কয়েকজন ফুটবলার। তখন নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অধিনায়ক মোহামেদ সালাহর একটি মন্তব্য নেটদুনিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়।

যেই মন্তব্যে ফিফার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মোহামেদ সালাহ বলেন, ‘রেফারি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না, বললে সমস্যায় পড়ব। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ ম্যাচে সব সিদ্ধান্ত যদি আপনার বিপক্ষে যায়, সেটা সত্যিই হতাশাজনক। ফুটবলের জন্য এটি দুঃখজনক।’

তবে এটি ফেসবুক, রেডিট, এক্স, থ্রেডসে ছড়িয়ে পড়েছিল কোনো ভিডিও পাওয়া যায়নি বা কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এই স্টোরি করেনি।

এই ঘটনাগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে অভিযোগ করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা। অভিযোগে তিনি ম্যাচ পরিচালনায় রেফারির একাধিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। মিসরের দাবি, রেফারি ও তাঁর সহকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ম্যাচের সব কিছু চাপিয়ে এখন আলোচনায় রেফারিং বিতর্ক। তবে তার পরও ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে মেসির অতিমানবীয় খেলায় ম্যাচে ফিরে জয় রূপকথার গল্পের মতোই ইতিহাস হয়ে থাকবে।

ইংলিশ ক্লাবে যোগ দিলেন দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী স্পেনের তারকা

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংলিশ ক্লাবে যোগ দিলেন দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী স্পেনের তারকা
ছবি : গোলডটকম

দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী স্পেনের নারী দলের মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিয়া পুটেলাসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে লন্ডন সিটি লায়নেস। তিন বছরের চুক্তিতে ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন দুইবার ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে এই ক্লাবে যোগ দেন।

নারী ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা এবং স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার বার্সেলোনার দীর্ঘ ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমালেন। গত মে মাসে বার্সেলোনা ছাড়ার পর বিশ্বের প্রায় সব শীর্ষ ক্লাবই তাকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন লন্ডন সিটি ক্লাবকে। খবর বিবিসি

৩২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় বার্সেলোনার হয়ে ১০টি লিগ শিরোপাসহ ৩৮টি ট্রফি জিতেছেন। এই চুক্তিটি উইমেনস সুপার লিগ (ডব্লিউএসএল) তথা বিশ্ব নারী ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

লন্ডন সিটির মার্কিন ধনকুবের মালিক মিশেল ক্যাংয়ের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক সিটিতে পুটেলাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় পুটেলাস বলেন, `‘লন্ডন সিটি লায়নেসের সঙ্গে এই নতুন অধ্যায় শুরু করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত।’

চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ বা আর্সেনালের মতো বড় কোনো পুরুষ ক্লাবের ছায়ায় না থেকে, সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং শুধু নারীদের জন্য নিবেদিত একটি ক্লাবের হয়ে ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তিনি।  ক্লাবটির মালিক মিশেল ক্যাং-এর নারী ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নেওয়ার অনন্য পরিকল্পনা  আকৃষ্ট করেছে পুটেলাসকে।

পুটেলাস আরো বলেন, ‘মাঠের বাইরে, যুব ফুটবল উন্নয়নের প্রতি আমার যে ভালোবাসা রয়েছে, তা বজায় রেখে ইংল্যান্ডে এবং বিশ্বমঞ্চে নারী ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মিশেলের সাথে কাজ করতে আমি সমানভাবে উচ্ছ্বসিত।’

পুটেলাস তার শেষ মৌসুমে অধিনায়ক হিসেবে বার্সেলোনাকে চতুর্থ চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতিয়েছিলেন। অন্যদিকে লন্ডন সিটি তাদের প্রথম ডব্লিউএসএল মৌসুমে ষষ্ঠ স্থানে থেকে শেষ করে।