• ই-পেপার

সম্পর্কের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাক

  • বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ চুক্তি ও সমঝোতা

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

সংকটে সিমেন্টশিল্প

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় সিমেন্টশিল্প বিবিধ সংকটে জর্জরিত। একদিকে মাত্রাতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়, অন্যদিকে বাজারে চাহিদা একেবারে তলানিতে। চাহিদা না থাকায় উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশই অলস বসে রয়েছে। সংগত কারণে মুনাফা কমে গিয়ে চরম আর্থিক চাপের মুখে রয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, দেশের মেগাপ্রকল্পে ধীরগতি, আবাসন খাতে বিনিয়োগ হ্রাস, এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাড়ি নির্মাণে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় বাজারে সিমেন্টের চাহিদা বহুলাংশে কমেছে। আবার এর কাঁচামাল ক্লিংকার, স্ন্যাগ, চুনাপাথর, ফ্লাই অ্যাশ, জিপসামসহ প্রায় সব উপাদানই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিমেন্ট উৎপাদন ব্যয়ে। এর ওপর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, দেশের ৪০টি সিমেন্ট কারখানার মোট বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে আট কোটি ৬০ লাখ টন। এর মধ্যে ২০২৫ সালে সারা দেশে বিক্রি হয়েছে মাত্র তিন কোটি ৯৯ লাখ ৭০ হাজার টন সিমেন্ট। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) বিক্রির হার আরো ৩ শতাংশ কমেছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে শিল্পকাঠামো পরিচালনাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) নেতারা জানান, বর্তমানে প্রধান পাঁচটি কাঁচামাল আমদানিতে ২ থেকে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দিতে হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, শিল্পের টিকে থাকার স্বার্থে এই এআইটি কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ এবং বিক্রি পর্যায়ে করের হার ২ শতাংশের পরিবর্তে ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিসিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

গত বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপেও করের নতুন বোঝা নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন করব্যবস্থা, খুচরা পর্যায়ে অগ্রিম কর আরোপ, শিল্প খাতে অতিরিক্ত করের চাপ এবং কর প্রশাসনের সমালোচনা করেন। নেতাদের ভাষ্য, করভিত্তি সম্প্রসারণের নামে নতুন নতুন করের বোঝা চাপিয়ে দিলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় আরো বাড়বে।

আমরা মনে করি, চলমান অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ব্যবসায়ী নেতাদের যৌক্তিক দাবি সরকারের বিবেচনায় নেওয়া দরকার। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হলে করব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক করতে হবে।

রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে

অবহেলায় প্রত্নসম্পদ

রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে

প্রত্নসম্পদ থাকার কথা সযত্নে ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের আওতায়। সেই অমূল্য সম্পদই কিনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অযত্ন-অবহেলায়। শুধু তা-ই নয়, সংরক্ষিত প্রত্নস্থাপনা পরিণত হয়েছে স্থানীয় বখাটে ও মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায়। গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে এমনটিই জানা গেছে মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক বিক্রমপুরী বৌদ্ধ বিহার প্রত্নস্থান উন্মুক্ত জাদুঘর সম্পর্কে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে এক হাজার ৩০০ বছরের পুরনো এই প্রত্ননিদর্শন।

জানা গেছে, প্রত্নস্থানটি মহারাজ ধর্মপালের শাসনামলে নির্মিত ৩০টি উল্লেখযোগ্য বিহারের মধ্যে অন্যতম। ২০১০ সালে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এটির খননকাজ শুরু হয়। এতে অর্থের জোগান দেয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। কিন্তু কাজ শেষে ২০২২ সালে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রত্নস্থানটি অধিগ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য আবেদন করা হলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।

খবরে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত জাদুঘরের ভেতরে একটি পাঠাগার, পুকুর ও দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পাঠাগার বন্ধ রাখা হয়েছে। নানা ভোগান্তি হয় বলে দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, আগে দর্শনার্থী এলেও এখন আর কেউ আসে না। অভিযোগ রয়েছে, এখানে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে; চলে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। প্রত্নস্থানটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা হৃদয় মোল্লা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অর্থের অভাবে পুরো প্রকল্প কার্যত এখন বন্ধ।

অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এটা হচ্ছে বাংলাদেশে দ্বিতীয় উন্মুক্ত জাদুঘর। জাদুঘরের মনুমেন্টের অংশ ছাড়া বাকি ঘর তৈরি, পুকুর করা, গাছ লাগানোসহ বেশ কিছু জমি অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন কিনে নিয়েছে। কিন্তু এই বৌদ্ধ বিহারের স্ট্রাকচার এত বড় যে বাকিটা উদ্ধার করতে আরো ২০ বছর লাগবে। সব আশপাশের মাটির নিচে। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় এখন বিদ্যুতের সংযোগও বন্ধ করতে হয়েছে। এদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে চলতি বছরই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রত্ননির্দশন যেকোনো দেশের, জাতির আদি বর্ণমালার মতো, যা শিকড়ের পরিচয় বহন করে থাকে। কাজেই অতীত জানতে হলে অবশ্যই আমাদের প্রত্ননির্দশনগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। আশা করছি, মুন্সীগঞ্জের উন্মুক্ত জাদুঘরটি সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

চিকিৎসাশিক্ষার মান নিম্নগামী

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

চিকিৎসাবিষয়ক শিক্ষা আর দশটি সাধারণ শিক্ষার মতো নয়। এই শিক্ষার সঙ্গে মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত। চিকিৎসকের সামান্য ভুলেও রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এ জন্য চিকিৎসাশিক্ষার মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তবে সেই মান নিশ্চিত হচ্ছে কি? গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিকিৎসাশিক্ষার দুরবস্থার নির্মম চিত্রই উঠে এসেছে। সরকারি ৩৭টি মেডিক্যাল কলেজে ফরেনসিক বিষয়ে অধ্যাপক আছেন মাত্র একজন। নেই পর্যাপ্ত অধ্যাপক, সহযোগী কিংবা সহকারী অধ্যাপকও। অনেক মেডিক্যাল কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল নেই, ক্লিনিক্যাল শিক্ষার জন্য যেতে হয় অন্য কোনো হাসপাতালে। রয়েছে অবকাঠামোসহ নানা রকম সংকট। তা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার সম্প্রতি আরো দুটি মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন দিয়েছে। বিবেচনাধীন আরো ছয়টি মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন।

জানা যায়, পাঁচ বছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ। এখনো সেখানে নিজস্ব কোনো হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি। ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে সপ্তাহে দুই দিন শিক্ষার্থীদের যেতে হয় ৫০ কিলোমিটার দূরের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শুধু সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ নয়, একই চিত্র দেখা যায় নেত্রকোনা, নওগাঁ, নীলফামারী, মাগুরা, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও রাঙামাটিএই সাতটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজেও। এসব মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পরও প্রয়োজনীয় নিজস্ব ক্যাম্পাস বা হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি।

অন্যদিকে সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে প্রায় অর্ধেক শিক্ষকের পদ শূন্য। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে মৌলিক ও ক্লিনিক্যাল বিষয়ে অনুমোদিত শিক্ষকের পদ সাত হাজার ৩৬টি। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে তিন হাজার ৫২টি পদ। অর্থাৎ মোট পদের প্রায় ৪৩ শতাংশই খালি। আটটি মৌলিক বিষয়ে ২৫ শতাংশ এবং ক্লিনিক্যাল বিষয়ে ৪৮ শতাংশ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ফরেনসিক মেডিসিনে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র একজন, তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত। মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে অধ্যাপক পদের ৭২.৭২ শতাংশ, সহযোগী অধ্যাপক পদের ৫১.৬৯ শতাংশ এবং সহকারী অধ্যাপক পদের ২৯ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিক্যাল এডুকেশনের সাবেক জ্যেষ্ঠ পরামর্শক অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে প্রকৃত চিকিৎসাশিক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর মতে, দক্ষ শিক্ষক না থাকলে দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হবে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার ওপর। ফরেনসিক মেডিসিনের শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে শুধু চিকিৎসাশিক্ষাই নয়, বিচারব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মান কমে গেলে মানুষ সঠিক বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

প্রয়োজনীয় নীতি ও পরিকল্পনার অভাব এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় একের পর এক মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কারণে দেশে চিকিৎসাশিক্ষার মান দ্রুত নিম্নগামী হচ্ছে। আমরা মনে করি, আর কোনো নতুন মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন দেওয়ার আগে পুরনো সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, ক্লিনিক্যাল শিক্ষার জন্য হাসপাতাল ও শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানসম্মত চিকিৎসক তৈরি না হলে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় ধস নামবে এবং ভুল চিকিৎসায় মানুষের জীবনহানির শঙ্কাই শুধু বাড়বে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। দীর্ঘদিন থেকেই এই অবস্থা। সম্প্রতি এই বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যন্ত অটোরিকশার দাপট। এসব অটোরিকশার না আছে লাইসেন্স, না আছে চালকের দক্ষতা, না মানছে তারা আইন। এতে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অপরিহার্য।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এআই ক্যামেরায় মামলা হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার রাস্তায় সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে চলাচল এবং হঠাৎ লেন পরিবর্তনের মতো অনিয়ম কমেছে। তবে অটোরিকশার চলাচল এখনো নিয়ন্ত্রণহীন। ফলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। আগামী মাসের মাঝামাঝি এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক মেগাসিটির প্রধান সড়কে অটোরিকশার মতো যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকা উচিত নয়। এসব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গতিবেগ বেশি হলেও এগুলোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল। তা ছাড়া অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে এই অটোরিকশাগুলোর ব্যাটারি চার্জ করার ফলে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে, যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে মুদ্রার অপর পিঠটিও ভেবে দেখতে হবে। বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে এই অটোরিকশা বেশ সাশ্রয়ী এবং সহজপ্রাপ্য। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। কাজেই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। অতীতে বেশ কয়েকবার অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেছে। ওয়াকিফহাল মহলের মতে, জোনভিত্তিক চলাচল সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া, চালকের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স প্রদান এবং অটোরিকশার কাঠামোগত ত্রুটি দূর করা হলে চলমান সংকটের অনেকটা অবসান হবে।

আমরা মনে করি, রাজধানীর মতো জনবহুল শহরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। ঢাকার সড়ক সচল ও নিরাপদ করতে হলে সরকারকে কঠোর ও মানবিকউভয় ভূমিকাই একসঙ্গে পালন করতে হবে। অটোরিকশা রাতারাতি বন্ধ করা যাবে না, কিন্তু এর দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেই হবে। পাশাপাশি রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।