• ই-পেপার

ইংল্যান্ডকে হটিয়ে শীর্ষস্থান নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করল ক্রোয়েশিয়া

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও ঘানাও গেল নকআউটে

ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও ঘানাও গেল নকআউটে

বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপে শেষ মুহূর্তের নাটকিয়তা বেশ ভালই জমে উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে হাসি মুখেই মাঠ ছাড়ল ফেবারিট ইংল্যান্ড।

পানামার বিপক্ষে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলেছে ইংল্যান্ড। মাঠের দখল ও আক্রমণে থ্রি লায়ন্সরা পুরোপুরি দাপট দেখালেও প্রথমার্ধে কাজের কাজ গোলটি অধরাই রয়ে যায় হ্যারি কেইনদের। অপর ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া জালের দেখা পাওয়ায় শঙ্কা জাগে কেইনদের শীর্ষস্থান হারানোর।

তবে দ্বিতীয়ার্ধেই ঘুরে দাঁড়ায় থ্রি লায়ন্সরা। ডালাসের মাঠে ম্যাচের ৬২ মিনিটে বুকায়ো সাকার কর্নার থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে লিড এনে দেন জুড বেলিংহাম। এর পাঁচ মিনিটের মাথায় বেলিংহামের বাড়ানো এক নিখুঁত ও চোখ ধাঁধানো ক্রসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান হ্যারি কেইন।

এতেই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।

এরপর ম্যাচে আর কেউ জালের দেখা না পাওয়ায় ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে থমাস টুখেলের দল। এতে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের।

গ্রুপের অপর ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। এতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরের রাউন্ডে যাচ্ছেন মদরিচরা। অপর দিকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করা ঘানাও যাচ্ছে শেষ ৩২-এ। গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে উপরের দিকে থাকায় নতুন নিয়মে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

বিশ্বকাপে গোলের অনন্য রেকর্ড গড়লেন হ্যারি কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে গোলের অনন্য রেকর্ড গড়লেন হ্যারি কেইন
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে জালের দেখা পেয়েছেন থ্রি লায়ন্স অধিনায়ক হ্যারি কেইন। আর এই গোলের সঙ্গেই অনন্য এক কীর্তিতে নিজের নাম লেখালেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।

ডালাসের মাঠে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে জুড বেলিংহামের বাড়ানো এক নিখুঁত ও চোখ ধাঁধানো ক্রসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান হ্যারি কেইন। আর এই এক গোলেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক মহাকাব্য লিখলেন তিনি।

এই গোলটির মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসলেন কেইন। এতোদিন ১০টি গোল নিয়ে এই রেকর্ডের চূড়ায় বসেছিলেন কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার। আজ লিনেকারকে ছাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে কেইনের গোলসংখ্যা এখন ১১টি।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার আগে যা বললেন কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষক

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার আগে যা বললেন কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষক
ছবি : রয়টার্স

দিনকয়েক আগেও ফুটবল দুনিয়ায় তার নামটা কজনই বা জানত! অথচ আজ একবিংশ শতাব্দীর ফুটবল বিশ্বমঞ্চে তিনি এক জীবন্ত রূপকথার নায়ক। মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন কেড়েছেন আলো, তেমনি নেটদুনিয়ায় তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এখন অনুসারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখের ঘর। তিনি আর কেউ নন, পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী ভোজিনহা। তার অতিমানবীয় বিশ্বস্ত গ্লাভসে ভর করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে এসেই শেষ ৩২-এর টিকিট কেটেছে কেপ ভার্দে।

বিশ্বমঞ্চের গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে আর সৌদি আরবের মতো পরাশক্তিদের রুখে দিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। আর সেখানে শেষ ৩২-এর মঞ্চে এই পুঁচকে দলটির প্রতিপক্ষ খোদ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা! কয়েক সপ্তাহ আগেও যে সমীকরণ ছিল অলীক কল্পনা, আজ তা এক রূঢ় বাস্তব। এই পুরো পরাবাস্তব জার্নিটা খোদ ভোজিনহার কাছেও এক অন্তহীন স্বপ্নের মতো।

সৌদি আরবের বিপক্ষে মহানাটকীয় ম্যাচের পর উচ্ছ্বসিত ভোজিনহা বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলাটা আমাদের ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম দারুণ একটা ঘটনা হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসির বিপক্ষে মাঠে নামাটা দুনিয়ার যেকোনো ফুটবলারের জন্যই এক পরম স্বপ্ন।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বিশ্বসেরা স্পেনের সাথে গোলশূন্য ড্র করে ফুটবল দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল কেপ ভার্দে, আর সেই ম্যাচের নায়ক ছিলেন এই ভোজিনহাই। এরপরই আলোর গতিতে ছড়িয়ে পড়ে তার জীবনের এক আবেগঘন গল্প। ঠিক সময়ে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান করতে না পারায় ভোজিনহার মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া আটকে গিয়েছিল। অথচ ভাগ্যের কী অদ্ভুত খেলা, সেই মা-ই এবার গ্যালারিতে বসে চোখের সামনে ছেলেকে বিশ্বমঞ্চে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে দেখছেন।

সৌদি আরবকে রুখে দিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভোজিনহা। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই সম্ভবত কখনো এমন অবিশ্বাস্য কিছু কল্পনা করিনি। তবে আমরা মনেপ্রাণে জানতাম, দল হিসেবে আমরা কতটা শক্তিশালী। বিশ্বকাপে আসার সময় হয়তো অনেকেই ভেবেছিল আমরা একটা ম্যাচও জিততে পারব না। কিন্তু আমাদের এই স্কোয়াডটা দুর্দান্ত, এখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার মতো সামর্থ্যবান ফুটবলাররা আছেন।’

মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের দেশ কেপ ভার্দে। বাছাইপর্বে পরাক্রমশালী ক্যামেরুনকে বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে তারা টিকিট পেয়েছিল বিশ্বকাপের। আর আজ সেই পুঁচকে দেশটিই বিশ্বের সেরা ৩২টি দলের একটি!

ভোজিনহা বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে দেখাতে পেরেছি, দেশের প্রতি আমাদের ভালোবাসা কতটা গভীর। আমরা মাঠে শুধু কজন খেলোয়াড়কে রিপ্রেজেন্ট করছি না, দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি কেপ ভার্দিয়ান মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি। আয়তনে বা জনসংখ্যায় আমরা হয়তো ছোট একটা দেশ হতে পারি, কিন্তু আমাদের বুকভরা সাহস আর একটা বড় হৃদয় আছে। আর দিনশেষে আমরা লড়াই করতে জানি।’

কে এই ১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী সাংবাদিক, যার প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন না স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক
কে এই ১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী সাংবাদিক, যার প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন না স্কালোনি
সংগৃহীত ছবি

সংবাদ সম্মেলনে স্কোয়াড বা একাদশ নিয়ে প্রশ্নে সাধারণত মুখ খোলেন না লিওনেল স্কালোনি। সবসময় অন্য কোনো প্রসঙ্গ এনে শুরুর একাদশ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান আর্জেন্টিনার কোচ। তবে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তা করেননি স্কালোনি।

বরং গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে লিওনেল মেসিকে যে শুরুর একাদশে রাখা হবে না, সেটি আগেই জানিয়ে দিলেন আর্জেন্টাইন কোচ। তবে এটি জানিয়ে দিয়েছেন বিশেষ এক কারণে। আর সেই কারণ মূলত, প্রশ্নটি করেছেন ৯১ বছর বয়সী সাংবাদিক এনরিকে মাকায়া মার্কেস।

১৯৩৪ সালের ২০ নভেম্বর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আইরেসে জন্ম নেওয়া মার্কেস জীবনের ৯টি দশক পেরিয়ে আসার পরও চালিয়ে যাচ্ছেন ক্রীড়া সাংবাদিকতা। ১৯৫৮ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক।

টানা ১৮টি বিশ্বকাপ কাভার করায় এরই মধ্যে ফিফার কাছ থেকে বিশেষ স্মারক পেয়েছেন মার্কেস। শুধু তাই নয়, তার দেশের কোচ লিওনেল স্কালোনিও সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছেন আলাদা সম্মান। অন্য কেউ যেই প্রশ্নটি করলে এড়িয়ে যান, সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মার্কেসের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন স্কালোনি।

ডালাসে বাংলাদেশ সময় রবিবার সকাল ৮টায় গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনির কাছে মেসির ব্যাপারে আপডেট জানতে চান মার্কেস।

অন্য কোনো সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে সাধারণত এড়িয়ে যান স্কালোনি। অথবা বলে দেন, ম্যাচ শুরুর আগে জানা যাবে, আর্জেন্টিনার একাদশ। তবে মার্কেসের প্রতি সম্মানের কারণে আর এড়িয়ে যাননি আর্জেন্টিনার কোচ।

বরং উত্তর দেওয়ার আগে বর্ষীয়ান সাংবাদিককে একরকম ট্রিবিউট দেন স্কালোনি। তিনি বলেন, এনরিকে মার্কেস, আপনার প্রশ্ন শুনতে এবং আপনাকে এখানে দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ১৮টি বিশ্বকাপ, এটা অবিশ্বাস্য। আমি যখন আর্জেন্টিনায় খেলতাম, আপনাকে নিয়মিত দেখতাম। আপনি তখন যেমন কিংবদন্তি ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন।

পরে নিজের স্বভাবের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে মার্কেসের প্রশ্নের উত্তরও দেন স্কালোনি। তিনি বলেন, আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। লিও বেঞ্চে থাকবে। শুধু আপনার জন্যই এটা বলছি, অন্য কাউকে হলে এড়িয়ে যেতাম। দলের বাকি নামগুলো এখন বলব না। শুধু লিওর বিষয়টি জানালাম। কাল (ম্যাচের আগে) পুরো একাদশ ঘোষণা করা হবে।

মেসি শুরু থেকে না খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত নকআউট পর্বের আগে তাকে ছন্দে রাখতেই এই পরিকল্পনা স্কালোনির। গ্রুপপর্ব আগেই নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলবে আগামী ৪ জুলাই ভোরে, মায়ামিতে।

স্কালোনির পরে সংবাদ সম্মেলনে আসা ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোও মার্কেসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে তাকে দেখে বড় হয়েছি। তার কণ্ঠ শুনলেই মনে হয় একজন কিংবদন্তির কথা শুনছি। তিনি এখানে আছেন, এটা আমাদের জন্যও গর্বের। আশা করি, আমরা ভালো খেলতে পারব, যাতে তিনিও আরেকটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারেন।