• ই-পেপার

ভারতে ভারি বৃষ্টিতে ১০ মৃত্যু, বন্ধ মহাসড়ক

আতশবাজিতে দূষিত ওয়াশিংটনের বাতাস

অনলাইন ডেস্ক
আতশবাজিতে দূষিত ওয়াশিংটনের বাতাস
ছবি: রয়টার্স

নজিরবিহীন আতশবাজিতে দূষিত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বাতাস। চার জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছরপূর্তি উদযাপনে আয়োজন ছিল ব্যাপক। এরমধ্যে আতশবাজি ছাড়িয়ে গেছে আগের সব রেকর্ড। রেকর্ডভাঙ্গা আতশবাজি অল্প সময়ের জন্য ওয়াশিংটন ডিসিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরে পরিণত করেছিল।

ফলে কর্তৃপক্ষকে শহরে `কোড রেড এলার্ট’ জারি করতে হয়েছিল এবং নাগরিকদের প্রকাশ্যে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে এলেও সবাইকে এন৯৫ মাস্ক পরার পরামর্শ দেয়া হয়। সতর্কতায় বলা হয়, এই বাতাস বয়স্ক, শিশু অসুস্থ মানুষদের জন্য ক্ষতিকর, এমনকি সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে পারেন। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, আতশবাজি প্রদর্শনীর কারণে ডিসিতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। উৎসব চলাকালে শত শত মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে হয়েছে।

   
গ্লোবাল এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম-এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল আতশবাজি প্রদর্শনীর পর স্থানীয় সময় রবিবার সকালে ওয়াশিংটন ডি‌সি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে পৌঁছায়। তীব্র গরম ও বাতাস না থাকায় আতশবাজির ক্ষতিকারক পিএম ২.৫ কণা এবং ধোঁয়া মাটির কাছাকাছি আটকে থাকে, যা বাতাসকে দ্রুত দূষিত করে দেয়। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। ঝড়-বৃষ্টি এবং বাতাস বাড়ার কারণে ধোঁয়া দ্রুত কেটে যায় এবং রবিবার বিকেলের মধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসি বৈশ্বিক দূষণের তালিকায় ২৬তম স্থানে নেমে আসে। বিশেষজ্ঞরা ওয়াশিংটনের দূষিত বাতাসকে ‘ধূমপান করতে করতে ম্যারাথন দৌড়ানোর’ সাথে তুলনা করেছেন।  

আমেরিকার ২৫০ পূর্তি উদযাপনে শনিবার মধ্যরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পর শুরু হয় আতশবাজির মহাযজ্ঞ।  ন্যাশনাল মল,  পটোম্যাক নদী, পটোম্যাক পার্কসহ অন্তত ১০টি স্থান থেকে ৪০ মিনিট ধরে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ আতশবাজির শেল ফোটানো হয়। আতশবাজির আলো, শব্দ আর ধো&য়ায় বদলে যায় অভিজাত ওয়াশিংটন ডিসির চেনা পরিবেশ। আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ধারাবাহিক ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্বে থাকা ট্রাম্প-সমর্থিত অলাভজনক সংস্থা `ফ্রিডম ২৫০' এই আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। বলা হচ্ছে, এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আতশবাজি প্রদর্শনী। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৬ সালের নববর্ষের কাউন্টডাউন উদযাপনে ফিলিপাইনে ফোটানো ৮ লাখ ১০ হাজার ৯০৪টি আতশবাজির। 

আতশবাজির আয়োজনে মুগ্ধ ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘এই প্রদর্শনীটি ছিল আমার দেখা সবচেয়ে চমৎকার আতশবাজি প্রদর্শনী এবং আমি পুরোটাই দেখেছি। চমৎকার কাজের জন্য অভিনন্দন।’
 

অনশনের ৯ম দিনে ওয়াংচুকের ‘এখনো বেঁচে আছি’ পোস্ট ঘিরে আলোড়ন

অনলাইন ডেস্ক
অনশনের ৯ম দিনে ওয়াংচুকের ‘এখনো বেঁচে আছি’ পোস্ট ঘিরে আলোড়ন
সংগৃহীত ছবি

দিল্লির জন্তর-মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসা জলবায়ু আন্দোলনকারী ও প্রকৌশলী  সোনম ওয়াংচুকের অনশন আজ সোমবার নবম দিনে পৌঁছেছে। এই অনশন ঘিরে তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তার সমর্থকদের মধ্যে।

এই অনশন কর্মসূচিতে শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘সোনম ওয়াংচুকের অনশনের নবম দিন।’ এর একদিন আগে, অনশনের অষ্টম দিনে, সোনম ওয়াংচুক নিজেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে আপডেট দেন। তিনি এক্সে লেখেন, ‘এখনো বেঁচে আছি।’ তিনি আরো জানান, ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার মানুষ জন্তর-মন্তরে জড়ো হয়েছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতা-কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

ওয়াংচুক তার পোস্টে লেখেন, আন্দোলনের প্রতি অনলাইনে সমালোচনাকারী বা ‘ট্রোল’ বাড়ছে। তার মতে, এই সমালোচনার সংখ্যা বাড়া মানেই আন্দোলনের প্রভাবও বাড়ছে। তিনি লেখেন, যেদিন আর কোনো ট্রোল থাকবে না, সেদিন তিনি হতাশ হবেন, কারণ সেটাই হবে আন্দোলনের প্রভাব কমে যাওয়ার ইঙ্গিত। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক কর্মী এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা এই অনশনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এখনো প্রতিদিনই জন্তর মন্তরে সমর্থন জানাতে মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তবে এই অনশন বা ওয়াংচুকের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এই আন্দোলনের প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআই (এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, সিপিআই (এম) নেতা বৃন্দা কারাত, সিপিআইয়ের ডি রাজা, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সিপিআই নেতা অ্যানি রাজা, স্বচ্ছতা আন্দোলনের অঞ্জলি ভরদ্বাজ, তথ্য অধিকার কর্মী নিখিল দে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও মহুয়া মৈত্র।

উল্লেখ্য যে, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ভারতের বিভিন্ন পরীক্ষায়, বিশেষ করে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটসহ একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। আজ সোমবার আন্দোলনের ১৭তম দিন ছিল। এদিকে দিল্লির জন্তর-মন্তরে একই ইস্যুতে আলাদা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত ছয়জন শিক্ষার্থী।


 

মার্কিন দ্বীপপুঞ্জে আছড়ে পড়ল সুপার টাইফুন ‘বাভি’, গুয়াম ঘাঁটিতে সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন দ্বীপপুঞ্জে আছড়ে পড়ল সুপার টাইফুন ‘বাভি’, গুয়াম ঘাঁটিতে সতর্কতা
সংগৃহীত ছবি

প্রশান্ত মহাসাগরীয় মার্কিন দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের শক্তিসম্পন্ন এই প্রলয়ঙ্কারী ঝড়টি সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ‘রোটা’ দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে শুরু করে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়টির কেন্দ্রস্থলে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ মাইলেরও বেশি, যা এই অঞ্চলে গত এপ্রিলের পর দ্বিতীয় কোনো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত।

প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘গুয়াম’ থেকে মাত্র ৫০ মাইল উত্তরে ঝড়টি অবস্থান করায় সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী। টাইফুন ‘বাভি’র প্রভাবে গুয়াম ও এর আশপাশের দ্বীপাঞ্চলে ধ্বংসাত্মক বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেড় লাখের বেশি জনসংখ্যার এই দ্বীপে অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি ও নৌঘাঁটিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বি-১, বি-২ ও বি-৫২ বোমারু বিমান এবং পাঁচটি পরমাণুচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন মোতায়েন রয়েছে।

সোমবার ভোরে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঘাঁটিতে নিয়োজিত ৭০০০-এরও বেশি সক্রিয় সেনা সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষায় সর্বোচ্চ স্তরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুনের প্রভাবে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগ অতিক্রম করার পরেও মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে, যা বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা ডেকে আনতে পারে। এ ছাড়া সাগরে ওঠা বিশাল ঢেউ ও প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো তীব্র বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

রোটা দ্বীপের উত্তরের দুই দ্বীপ সাইপান ও টিনিয়ানের বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলটি এখনো গত এপ্রিল মাসে আঘাত হানা ক্যাটাগরি-৪ ঝড় ‘সুপার টাইফুন সিনলাকু’র ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সিনলাকুর ধীরগতির কারণে সে সময় ২০ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত ও ব্যাপক বন্যা হয়েছিল, যার ফলে সাইপানের কিছু অংশ এখনো বিদ্যুৎহীন। সেই ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে বাভির প্রভাবে সেখানে ঘণ্টায় ৭৪ মাইল বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ টিনিয়ান দ্বীপটির ওপর দিয়েও এই ঝড়ের প্রভাব যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ওপর পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকারী মার্কিন বি-২৯ বোমারু বিমানগুলো এই দ্বীপ থেকেই ওড়া শুরু করেছিল। বর্তমানে গুয়ামের বিকল্প বিমানঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন প্রশাসন এই দ্বীপটির সংস্কার কাজ চালাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন, সুপার টাইফুন বাভি সোমবার বিকেল নাগাদ মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ এলাকা ছেড়ে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৩ মাইল বেগে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে।

আলী খামেনির জানাজায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান

অনলাইন ডেস্ক
আলী খামেনির জানাজায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান
ছবি : এনডিটিভি।

নিহত সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা জনসমক্ষে উপস্থিত হন। দাফন অনুষ্ঠানে শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের আহ্বানও জোরালোভাবে উঠে আসে।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় টানানো পোস্টার, গ্রাফিতি এবং জনতার স্লোগানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কিছু বক্তা ও অংশগ্রহণকারী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ শ্লোগান দেন। 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে চার মাসের বেশি সময় বিলম্বের পর ইরান খামেনি এবং তার পরিবারের আরো চার সদস্যের জন্য এক সপ্তাহব্যাপী দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের প্রথম দিন নিহত হন।

জানাজার নামাজে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। অনেকে সারারাত মসজিদে অবস্থান করেন, আবার অনেকেই ভোরের আগে এসে উপস্থিত হন যাতে সকাল ৮টার নামাজে অংশ নিতে পারেন। ইরানের জাতীয় পতাকা ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত লাল পতাকা হাতে অনেক মানুষ খামেনির ছবি বহন করেন। এ সময় ভিড়ের মধ্যে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের ধ্বংস হোক’ স্লোগানও শোনা যায়।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে কিছু পোস্টার, গ্রাফিতি ও জনতার স্লোগানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে কবি মোহাম্মদ রসৌলি লাউডস্পিকারে বক্তব্য দেন। তিনি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানালে উপস্থিত জনতার একটি অংশ উল্লাস প্রকাশ করে।

২৯ বছর বয়সী মুদি দোকানের কর্মী গোলামরেজা সাবুনি বলেন, ‘আমি এখানে প্রতিবাদ জানাতে এবং প্রতিশোধের দাবি তুলতে এসেছি। তারা আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘ওরা আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে। আমাদেরও ওদের নেতা ট্রাম্পকে হত্যা করা উচিত।’

পরে আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত খলিল শিরঘোলামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় লেখেন, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু তার চিন্তা ও আদর্শ আরো ছড়িয়ে পড়েছে।’

তিনি দাবি করেন, খামেনির মৃত্যু তার অনুসারীদের বিশ্বাস ও আদর্শকে দুর্বল করতে পারেনি। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর বলেন, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মানুষ দুটি মূল বার্তা দিচ্ছেন—শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ইরানের নিহত নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া।

আলি খামেনির জানাজাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও ইসরায়েলি হুমকির মধ্যেই রবিবার ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা জনসমক্ষে উপস্থিত হন। এ সময় নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ভাই মাসুদ, মেইসাম ও মোস্তফাকে দেখা যায়। এ ছাড়া বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল আহমদ ভাহিদির ছবিও প্রকাশিত হয়। যুদ্ধের পর এই প্রথম তাদের জনসমক্ষে দেখা গেল।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এবং কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ ও চলমান উত্তেজনার মধ্যে তাদের এই উপস্থিতি দেশের ঐক্য, প্রতিরোধের মনোভাব এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আস্থার বার্তা দিয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি মোজতবা খামেনিকে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবাকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল। সে সময় মোজতবা খামেনিকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

৯৭ বছর বয়সী শিয়া ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আলী খামেনি, তার পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়গানিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি ছিল ছোট্ট নাতনির কফিন, যা অন্য কফিনগুলোর তুলনায় অনেক ছোট ছিল।

খামেনির মরদেহ ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে নেওয়া হবে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় তার কফিনসহ অন্যান্য কফিন নিয়ে শোকযাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উপলক্ষে অনেক সড়ক ও জনসাধারণের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে দাফনের মাধ্যমে শোকযাত্রা শেষ হবে।

শনিবার ও রবিবারের অনুষ্ঠানে কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে ইরানের বিভিন্ন শহরেও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দাফন অনুষ্ঠান ছিল জাতীয় ঐক্যের একটি প্রদর্শন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ইরান আংশিক নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবানন-সংক্রান্ত আঞ্চলিক ইস্যুতেও দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়েছে।

রবিবার মার্কিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক সংস্থা জানায়, গত ৭২ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৭০টি জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে শনিবারেই ১৮টি জাহাজ চলাচল করেছে।

সংস্থাটি আরো জানায়, ওমান ও ইরানের কাছাকাছি নৌপথে চলাচল স্থিতিশীল থাকলেও তা এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় কম। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে এবং মাইন অপসারণ ও জরিপ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।