• ই-পেপার

অনশনের ৯ম দিনে ওয়াংচুকের ‘এখনো বেঁচে আছি’ পোস্ট ঘিরে আলোড়ন

কিয়েভে রুশ হামলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০

অনলাইন ডেস্ক
কিয়েভে রুশ হামলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, হামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। সোমবার ভোরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কিয়েভে আঘাত হানে। হামলায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি আবাসিক ভবনের অংশ ধসে পড়ে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন। শহরের ঐতিহাসিক পোদিলস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তকাচেঙ্কোর মতে, শুধু পোদিলস্কি জেলাতেই চারটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো শহরে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। ক্লিচকো আরো জানান, আংশিক ধসে পড়া একটি ভবন থেকে ১৫ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারী ও ছয়জন শিশু রয়েছেন। এদিকে কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমে বুচা জেলায় আরো একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, শহরের পূর্বাঞ্চলীয় দারনিৎসকি জেলায় দুজন নিহত হয়েছেন। সেখানে একটি ২৫ তলা আবাসিক ভবনে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানে। ভবনের ওপরের তলাগুলোতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তিনি আরো জানান, দারনিৎসকির একটি ৩০ তলা ভবনে আগুন লেগেছে।

গত বৃহস্পতিবারও এই এলাকায় রাশিয়ার বড় ধরনের হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেদিন রাশিয়া শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যাতে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটে। রয়টার্সের সাংবাদিকরা কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একই সময়ে রুশ ড্রোন প্রতিহত করতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন এবং আহতদের স্ট্রেচারে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রকাশিত ছবিতে কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবন ও একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। অনেক ভবনের ভেতরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। বায়ুর মান খারাপ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্লগাররা বাসিন্দাদের জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন। অনেক মানুষ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় জড়ো হন।

এদিকে ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সম্ভাব্য রুশ হামলার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছিলেন।
 

ট্রাম্পের চাপে নেতানিয়াহু, দুই মিত্রের দূরত্ব বাড়ছে?

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের চাপে নেতানিয়াহু, দুই মিত্রের দূরত্ব বাড়ছে?
ছবি : রয়টার্স

অনেক ইসরায়েলির কাছে মনে হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারেন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওয়াশিংটনের এই জোট দেশটির সামরিক শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন। দুর্নীতির মামলাগুলোর কারণে তিনি আইনি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। পাশাপাশি এ বছরের শেষ দিকে সম্ভাব্য সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু এখন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ অনুসরণ করছেন।

ইরানের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে লেবাননের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্যদিকে ২০২৩ সাল থেকে লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসা ইসরায়েলের একটি বড় অংশ সেই সংঘাত অব্যাহত রাখার পক্ষে। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে পড়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন।

২০২৫ সালের জুনে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এক বছর পর তেহরানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে সেই দূরত্ব আরো বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনায় তেহরান দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি তুলেছে। এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মাসে ফাঁস হওয়া একটি কথিত ফোনালাপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়, যার সত্যতা হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেনি। ওই কথোপকথনে ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত শেষ করতে আগ্রহী ট্রাম্পকে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই কথিত ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলে উল্লেখ করেন এবং অকৃতজ্ঞতার অভিযোগ তোলেন। তিনি নাকি নেতানিয়াহুকে বলেন, তার হস্তক্ষেপ না থাকলে নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই কারাগারে থাকতেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আরো বলেন, ‘এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এই ঘটনার কারণে সবাই ইসরায়েলকেও ঘৃণা করছে।’

গত সপ্তাহে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘জানেন, আসল কর্তৃত্ব কার হাতে।’ এই মন্তব্যকে দুই নেতার সম্পর্কের টানাপড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে জুন মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, বর্তমানে ট্রাম্পই বিশ্বের একমাত্র শীর্ষ নেতা, যিনি ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান বজায় রেখেছেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তির সমালোচনা করা ইসরায়েলি মন্ত্রীদেরও সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে এবং এর ব্যয় বহন করেছেন মার্কিন করদাতারা।’

‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শিবিরেও বাড়ছে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, শুধু সাধারণ মার্কিন জনগণই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (এমএজিএ) আন্দোলনের একটি অংশের মধ্যেও ইসরায়েলকে নিয়ে সংশয় ও সমালোচনা বাড়ছে। এমএজিএ শিবিরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যেমন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক মার্জোরি টেইলর গ্রিন, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

ডানপন্থী রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম সরব সমালোচক সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক টাকার কার্লসন। তিনি জুনের শেষদিকে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছেন যে ইসরায়েলই তার প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বা ঝুঁকির উৎস হয়ে উঠতে পারে।

নিজের পডকাস্টে টাকার কার্লসন অভিযোগ করেন, ইসরায়েল নানা ধরনের চাপ, প্ররোচনা ও তদবিরের মাধ্যমে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে রাজি করিয়েছিল। তার দাবি, এই হামলাকে ব্যবহার করে পরে প্রতিবেশী দেশ লেবাননের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।

কার্লসনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের পেছনে ইসরায়েলের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আরো গভীর আঞ্চলিক সংকটে জড়িয়ে ফেলতে পারে।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সাধারণ এবং জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যানিয়েল বাইম্যান মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে ইসরায়েল নীতি নিয়ে তার হাতে যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বায়ম্যান বলেন, ‘ট্রাম্পের যথেষ্ট রাজনৈতিক নমনীয়তা রয়েছে। যদিও রিপাবলিকান পার্টির অনেক সদস্য দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলপন্থী, তবুও ট্রাম্পের একটি অত্যন্ত অনুগত সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে এবং তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে দলের অধিকাংশ সদস্যকে নিজের অবস্থানের পক্ষে আনতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে তিনি অনেক ডেমোক্র্যাটেরও সমর্থন পেতে পারেন, কারণ দলটির মধ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে।’

ইসরায়েলের ইতিহাসজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তার গুরুত্ব দেশটির খুব কম মানুষই অস্বীকার করেন। ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইসরায়েল ১০ বছরে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে করা সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা চুক্তিগুলোর একটি।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের প্রধান সমর্থক হিসেবে কাজ করেছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়লেও ওয়াশিংটন বিভিন্ন সময়ে দেশটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘে গাজা ইস্যুতে আনা একাধিক প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক নির্ভরতা নিয়ে বিতর্ক

ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতাকে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন।

জুনের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, তিনি ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিড লিখেছিলেন, ‘আমরা যদি দ্রুত এই সরকারকে পরিবর্তন করতে না পারি, তাহলে ইসরায়েলের বৈদেশিক সম্পর্ক ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও নেতানিয়াহুর পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার কঠোর সমালোচনা করেছেন। আইজেনকটের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর ভুল পদক্ষেপের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোতে উৎসাহিত হয়েছেন। এর ফলে ইসরায়েল তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরো দূরে সরে যাচ্ছে।

ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোদ ফ্লাশেনবার্গের মতে, বিশ্বে ইসরায়েলের অবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্য সব কিছু, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কূটনৈতিক সমর্থনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেশটি ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল।’

মার্কিন লেখক ও সাবেক কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, অতীতেও বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইসরায়েলের মতবিরোধ হয়েছে, তবে খুব কম ক্ষেত্রেই তা এত প্রকাশ্যে এসেছে। তার মতে, ‘বর্তমান প্রশাসনের মতো ভাষায় আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসরায়েল সম্পর্কে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। এ ছাড়া দুই দেশের নেতাদের ব্যক্তিগত আলোচনার তথ্য ফাঁস হয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বকে বিব্রত করার ঘটনাও বিরল।’

মিলার আরো বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কমেছে এবং সেটা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবিরেই। তবে তিনি মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার কথা ভাবছে, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।

মিলারের ভাষায়, ‘ট্রাম্প যদি ইসরায়েলের ওপর বড় ধরনের চাপ প্রয়োগ করেন, তাহলে সেটি এমন কোনো কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্যই হবে, যা তাকে রাজনৈতিকভাবে লাভবান করবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে লেবানন, গাজা বা ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মতো কোনো ইস্যুতেই এমন বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

আতশবাজিতে দূষিত ওয়াশিংটনের বাতাস

অনলাইন ডেস্ক
আতশবাজিতে দূষিত ওয়াশিংটনের বাতাস
ছবি: রয়টার্স

নজিরবিহীন আতশবাজিতে দূষিত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বাতাস। চার জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছরপূর্তি উদযাপনে আয়োজন ছিল ব্যাপক। এরমধ্যে আতশবাজি ছাড়িয়ে গেছে আগের সব রেকর্ড। রেকর্ডভাঙ্গা আতশবাজি অল্প সময়ের জন্য ওয়াশিংটন ডিসিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরে পরিণত করেছিল।

ফলে কর্তৃপক্ষকে শহরে `কোড রেড এলার্ট’ জারি করতে হয়েছিল এবং নাগরিকদের প্রকাশ্যে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে এলেও সবাইকে এন৯৫ মাস্ক পরার পরামর্শ দেয়া হয়। সতর্কতায় বলা হয়, এই বাতাস বয়স্ক, শিশু অসুস্থ মানুষদের জন্য ক্ষতিকর, এমনকি সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে পারেন। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, আতশবাজি প্রদর্শনীর কারণে ডিসিতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। উৎসব চলাকালে শত শত মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে হয়েছে।

   
গ্লোবাল এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম-এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল আতশবাজি প্রদর্শনীর পর স্থানীয় সময় রবিবার সকালে ওয়াশিংটন ডি‌সি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে পৌঁছায়। তীব্র গরম ও বাতাস না থাকায় আতশবাজির ক্ষতিকারক পিএম ২.৫ কণা এবং ধোঁয়া মাটির কাছাকাছি আটকে থাকে, যা বাতাসকে দ্রুত দূষিত করে দেয়। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। ঝড়-বৃষ্টি এবং বাতাস বাড়ার কারণে ধোঁয়া দ্রুত কেটে যায় এবং রবিবার বিকেলের মধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসি বৈশ্বিক দূষণের তালিকায় ২৬তম স্থানে নেমে আসে। বিশেষজ্ঞরা ওয়াশিংটনের দূষিত বাতাসকে ‘ধূমপান করতে করতে ম্যারাথন দৌড়ানোর’ সাথে তুলনা করেছেন।  

আমেরিকার ২৫০ পূর্তি উদযাপনে শনিবার মধ্যরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পর শুরু হয় আতশবাজির মহাযজ্ঞ।  ন্যাশনাল মল,  পটোম্যাক নদী, পটোম্যাক পার্কসহ অন্তত ১০টি স্থান থেকে ৪০ মিনিট ধরে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ আতশবাজির শেল ফোটানো হয়। আতশবাজির আলো, শব্দ আর ধো&য়ায় বদলে যায় অভিজাত ওয়াশিংটন ডিসির চেনা পরিবেশ। আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ধারাবাহিক ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্বে থাকা ট্রাম্প-সমর্থিত অলাভজনক সংস্থা `ফ্রিডম ২৫০' এই আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। বলা হচ্ছে, এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আতশবাজি প্রদর্শনী। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৬ সালের নববর্ষের কাউন্টডাউন উদযাপনে ফিলিপাইনে ফোটানো ৮ লাখ ১০ হাজার ৯০৪টি আতশবাজির। 

আতশবাজির আয়োজনে মুগ্ধ ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘এই প্রদর্শনীটি ছিল আমার দেখা সবচেয়ে চমৎকার আতশবাজি প্রদর্শনী এবং আমি পুরোটাই দেখেছি। চমৎকার কাজের জন্য অভিনন্দন।’
 

মার্কিন দ্বীপপুঞ্জে আছড়ে পড়ল সুপার টাইফুন ‘বাভি’, গুয়াম ঘাঁটিতে সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন দ্বীপপুঞ্জে আছড়ে পড়ল সুপার টাইফুন ‘বাভি’, গুয়াম ঘাঁটিতে সতর্কতা
সংগৃহীত ছবি

প্রশান্ত মহাসাগরীয় মার্কিন দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের শক্তিসম্পন্ন এই প্রলয়ঙ্কারী ঝড়টি সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ‘রোটা’ দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে শুরু করে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়টির কেন্দ্রস্থলে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ মাইলেরও বেশি, যা এই অঞ্চলে গত এপ্রিলের পর দ্বিতীয় কোনো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত।

প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘গুয়াম’ থেকে মাত্র ৫০ মাইল উত্তরে ঝড়টি অবস্থান করায় সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী। টাইফুন ‘বাভি’র প্রভাবে গুয়াম ও এর আশপাশের দ্বীপাঞ্চলে ধ্বংসাত্মক বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেড় লাখের বেশি জনসংখ্যার এই দ্বীপে অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি ও নৌঘাঁটিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বি-১, বি-২ ও বি-৫২ বোমারু বিমান এবং পাঁচটি পরমাণুচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন মোতায়েন রয়েছে।

সোমবার ভোরে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঘাঁটিতে নিয়োজিত ৭০০০-এরও বেশি সক্রিয় সেনা সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষায় সর্বোচ্চ স্তরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুনের প্রভাবে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগ অতিক্রম করার পরেও মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে, যা বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা ডেকে আনতে পারে। এ ছাড়া সাগরে ওঠা বিশাল ঢেউ ও প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো তীব্র বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

রোটা দ্বীপের উত্তরের দুই দ্বীপ সাইপান ও টিনিয়ানের বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলটি এখনো গত এপ্রিল মাসে আঘাত হানা ক্যাটাগরি-৪ ঝড় ‘সুপার টাইফুন সিনলাকু’র ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সিনলাকুর ধীরগতির কারণে সে সময় ২০ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত ও ব্যাপক বন্যা হয়েছিল, যার ফলে সাইপানের কিছু অংশ এখনো বিদ্যুৎহীন। সেই ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে বাভির প্রভাবে সেখানে ঘণ্টায় ৭৪ মাইল বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ টিনিয়ান দ্বীপটির ওপর দিয়েও এই ঝড়ের প্রভাব যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ওপর পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকারী মার্কিন বি-২৯ বোমারু বিমানগুলো এই দ্বীপ থেকেই ওড়া শুরু করেছিল। বর্তমানে গুয়ামের বিকল্প বিমানঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন প্রশাসন এই দ্বীপটির সংস্কার কাজ চালাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন, সুপার টাইফুন বাভি সোমবার বিকেল নাগাদ মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ এলাকা ছেড়ে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৩ মাইল বেগে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে।