• ই-পেপার

আতশবাজিতে দূষিত ওয়াশিংটনের বাতাস

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে দাবানল, ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে দাবানল, ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে একটি অনিয়ন্ত্রিত দাবানল মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্পেন সীমান্তের কাছাকাছি ছোট শহর ও গ্রামগুলো থেকে প্রায় দশ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবারের (৬ জুলাই) তীব্র বাতাস পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

বিশ্বখ্যাত সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ‘ট্যুর ডি ফ্রান্স’-এর তৃতীয় পর্বের রুটের কাছাকাছি এই দাবানলটি জ্বলছে। ফলে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো যাতে সহজে যাতায়াত করতে পারে, সেজন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ দর্শকদের জন্য এই পর্বের এলাকাটি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করা হয়নি; এটি চালু থাকলেও রেসের পেছনে থাকা দলগুলোর গাড়ির বহর একদম সীমিত বা ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফরাসি পিরেনিজ পর্বতমালার পাদদেশে লাগা এই আগুনে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসক পিয়ের রেগনো দে লা মোথ। মে ও জুন মাসে ফ্রান্সসহ পশ্চিম ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা শুকিয়ে যাওয়ায় এ বছর অঞ্চলটি দাবানলের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগুনের কারণে স্পেনের প্রায় ২২০০ হেক্টর এলাকা ধ্বংস হয়েছে, যার ৯৭ শতাংশই ‘লেস গাভারেস’ নামের একটি সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে অবস্থিত। তবে কাতালান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্পেনের অংশের আগুন বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং এই সপ্তাহের মধ্যেই তা পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

এই আগুন লাগানোর অভিযোগে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ একটি কম্পানির এক কর্মচারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাস্তার পাশে অসাবধানতাবশত ‘অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার’ (লোহা বা পাথর কাটার যন্ত্র) ব্যবহার করার সময় স্ফুলিঙ্গ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

এ ছাড়া, কাতালোনিয়ার দক্ষিণে কাস্তেলোন প্রদেশে আরেকটি ভিন্ন দাবানল ‘সিয়েরা দে এস্পাদান’ জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করায় সেখান থেকেও প্রায় ৫০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যানটি কর্ক ওক বনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল।

কিয়েভে রুশ হামলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০

অনলাইন ডেস্ক
কিয়েভে রুশ হামলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, হামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। সোমবার ভোরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কিয়েভে আঘাত হানে। হামলায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি আবাসিক ভবনের অংশ ধসে পড়ে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন। শহরের ঐতিহাসিক পোদিলস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তকাচেঙ্কোর মতে, শুধু পোদিলস্কি জেলাতেই চারটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো শহরে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। ক্লিচকো আরো জানান, আংশিক ধসে পড়া একটি ভবন থেকে ১৫ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারী ও ছয়জন শিশু রয়েছেন। এদিকে কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমে বুচা জেলায় আরো একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, শহরের পূর্বাঞ্চলীয় দারনিৎসকি জেলায় দুজন নিহত হয়েছেন। সেখানে একটি ২৫ তলা আবাসিক ভবনে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানে। ভবনের ওপরের তলাগুলোতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তিনি আরো জানান, দারনিৎসকির একটি ৩০ তলা ভবনে আগুন লেগেছে।

গত বৃহস্পতিবারও এই এলাকায় রাশিয়ার বড় ধরনের হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেদিন রাশিয়া শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যাতে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটে। রয়টার্সের সাংবাদিকরা কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একই সময়ে রুশ ড্রোন প্রতিহত করতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন এবং আহতদের স্ট্রেচারে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রকাশিত ছবিতে কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবন ও একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। অনেক ভবনের ভেতরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। বায়ুর মান খারাপ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্লগাররা বাসিন্দাদের জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন। অনেক মানুষ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় জড়ো হন।

এদিকে ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সম্ভাব্য রুশ হামলার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছিলেন।
 

ট্রাম্পের চাপে নেতানিয়াহু, দুই মিত্রের দূরত্ব বাড়ছে?

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের চাপে নেতানিয়াহু, দুই মিত্রের দূরত্ব বাড়ছে?
ছবি : রয়টার্স

অনেক ইসরায়েলির কাছে মনে হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারেন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওয়াশিংটনের এই জোট দেশটির সামরিক শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন। দুর্নীতির মামলাগুলোর কারণে তিনি আইনি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। পাশাপাশি এ বছরের শেষ দিকে সম্ভাব্য সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু এখন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ অনুসরণ করছেন।

ইরানের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে লেবাননের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্যদিকে ২০২৩ সাল থেকে লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসা ইসরায়েলের একটি বড় অংশ সেই সংঘাত অব্যাহত রাখার পক্ষে। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে পড়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন।

২০২৫ সালের জুনে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এক বছর পর তেহরানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে সেই দূরত্ব আরো বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনায় তেহরান দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি তুলেছে। এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মাসে ফাঁস হওয়া একটি কথিত ফোনালাপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়, যার সত্যতা হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেনি। ওই কথোপকথনে ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত শেষ করতে আগ্রহী ট্রাম্পকে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই কথিত ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলে উল্লেখ করেন এবং অকৃতজ্ঞতার অভিযোগ তোলেন। তিনি নাকি নেতানিয়াহুকে বলেন, তার হস্তক্ষেপ না থাকলে নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই কারাগারে থাকতেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আরো বলেন, ‘এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এই ঘটনার কারণে সবাই ইসরায়েলকেও ঘৃণা করছে।’

গত সপ্তাহে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘জানেন, আসল কর্তৃত্ব কার হাতে।’ এই মন্তব্যকে দুই নেতার সম্পর্কের টানাপড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে জুন মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, বর্তমানে ট্রাম্পই বিশ্বের একমাত্র শীর্ষ নেতা, যিনি ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান বজায় রেখেছেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তির সমালোচনা করা ইসরায়েলি মন্ত্রীদেরও সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে এবং এর ব্যয় বহন করেছেন মার্কিন করদাতারা।’

‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শিবিরেও বাড়ছে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, শুধু সাধারণ মার্কিন জনগণই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (এমএজিএ) আন্দোলনের একটি অংশের মধ্যেও ইসরায়েলকে নিয়ে সংশয় ও সমালোচনা বাড়ছে। এমএজিএ শিবিরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যেমন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক মার্জোরি টেইলর গ্রিন, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

ডানপন্থী রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম সরব সমালোচক সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক টাকার কার্লসন। তিনি জুনের শেষদিকে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছেন যে ইসরায়েলই তার প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বা ঝুঁকির উৎস হয়ে উঠতে পারে।

নিজের পডকাস্টে টাকার কার্লসন অভিযোগ করেন, ইসরায়েল নানা ধরনের চাপ, প্ররোচনা ও তদবিরের মাধ্যমে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে রাজি করিয়েছিল। তার দাবি, এই হামলাকে ব্যবহার করে পরে প্রতিবেশী দেশ লেবাননের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।

কার্লসনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের পেছনে ইসরায়েলের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আরো গভীর আঞ্চলিক সংকটে জড়িয়ে ফেলতে পারে।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সাধারণ এবং জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যানিয়েল বাইম্যান মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে ইসরায়েল নীতি নিয়ে তার হাতে যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বায়ম্যান বলেন, ‘ট্রাম্পের যথেষ্ট রাজনৈতিক নমনীয়তা রয়েছে। যদিও রিপাবলিকান পার্টির অনেক সদস্য দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলপন্থী, তবুও ট্রাম্পের একটি অত্যন্ত অনুগত সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে এবং তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে দলের অধিকাংশ সদস্যকে নিজের অবস্থানের পক্ষে আনতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে তিনি অনেক ডেমোক্র্যাটেরও সমর্থন পেতে পারেন, কারণ দলটির মধ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে।’

ইসরায়েলের ইতিহাসজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তার গুরুত্ব দেশটির খুব কম মানুষই অস্বীকার করেন। ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইসরায়েল ১০ বছরে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে করা সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা চুক্তিগুলোর একটি।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের প্রধান সমর্থক হিসেবে কাজ করেছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়লেও ওয়াশিংটন বিভিন্ন সময়ে দেশটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘে গাজা ইস্যুতে আনা একাধিক প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক নির্ভরতা নিয়ে বিতর্ক

ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতাকে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন।

জুনের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, তিনি ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিড লিখেছিলেন, ‘আমরা যদি দ্রুত এই সরকারকে পরিবর্তন করতে না পারি, তাহলে ইসরায়েলের বৈদেশিক সম্পর্ক ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও নেতানিয়াহুর পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার কঠোর সমালোচনা করেছেন। আইজেনকটের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর ভুল পদক্ষেপের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোতে উৎসাহিত হয়েছেন। এর ফলে ইসরায়েল তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরো দূরে সরে যাচ্ছে।

ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোদ ফ্লাশেনবার্গের মতে, বিশ্বে ইসরায়েলের অবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্য সব কিছু, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কূটনৈতিক সমর্থনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেশটি ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল।’

মার্কিন লেখক ও সাবেক কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, অতীতেও বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইসরায়েলের মতবিরোধ হয়েছে, তবে খুব কম ক্ষেত্রেই তা এত প্রকাশ্যে এসেছে। তার মতে, ‘বর্তমান প্রশাসনের মতো ভাষায় আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসরায়েল সম্পর্কে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। এ ছাড়া দুই দেশের নেতাদের ব্যক্তিগত আলোচনার তথ্য ফাঁস হয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বকে বিব্রত করার ঘটনাও বিরল।’

মিলার আরো বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কমেছে এবং সেটা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবিরেই। তবে তিনি মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার কথা ভাবছে, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।

মিলারের ভাষায়, ‘ট্রাম্প যদি ইসরায়েলের ওপর বড় ধরনের চাপ প্রয়োগ করেন, তাহলে সেটি এমন কোনো কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্যই হবে, যা তাকে রাজনৈতিকভাবে লাভবান করবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে লেবানন, গাজা বা ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মতো কোনো ইস্যুতেই এমন বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

অনশনের ৯ম দিনে ওয়াংচুকের ‘এখনো বেঁচে আছি’ পোস্ট ঘিরে আলোড়ন

অনলাইন ডেস্ক
অনশনের ৯ম দিনে ওয়াংচুকের ‘এখনো বেঁচে আছি’ পোস্ট ঘিরে আলোড়ন
সংগৃহীত ছবি

দিল্লির জন্তর-মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসা জলবায়ু আন্দোলনকারী ও প্রকৌশলী  সোনম ওয়াংচুকের অনশন আজ সোমবার নবম দিনে পৌঁছেছে। এই অনশন ঘিরে তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তার সমর্থকদের মধ্যে।

এই অনশন কর্মসূচিতে শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘সোনম ওয়াংচুকের অনশনের নবম দিন।’ এর একদিন আগে, অনশনের অষ্টম দিনে, সোনম ওয়াংচুক নিজেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে আপডেট দেন। তিনি এক্সে লেখেন, ‘এখনো বেঁচে আছি।’ তিনি আরো জানান, ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার মানুষ জন্তর-মন্তরে জড়ো হয়েছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতা-কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

ওয়াংচুক তার পোস্টে লেখেন, আন্দোলনের প্রতি অনলাইনে সমালোচনাকারী বা ‘ট্রোল’ বাড়ছে। তার মতে, এই সমালোচনার সংখ্যা বাড়া মানেই আন্দোলনের প্রভাবও বাড়ছে। তিনি লেখেন, যেদিন আর কোনো ট্রোল থাকবে না, সেদিন তিনি হতাশ হবেন, কারণ সেটাই হবে আন্দোলনের প্রভাব কমে যাওয়ার ইঙ্গিত। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক কর্মী এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা এই অনশনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এখনো প্রতিদিনই জন্তর মন্তরে সমর্থন জানাতে মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তবে এই অনশন বা ওয়াংচুকের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এই আন্দোলনের প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআই (এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, সিপিআই (এম) নেতা বৃন্দা কারাত, সিপিআইয়ের ডি রাজা, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সিপিআই নেতা অ্যানি রাজা, স্বচ্ছতা আন্দোলনের অঞ্জলি ভরদ্বাজ, তথ্য অধিকার কর্মী নিখিল দে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও মহুয়া মৈত্র।

উল্লেখ্য যে, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ভারতের বিভিন্ন পরীক্ষায়, বিশেষ করে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটসহ একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। আজ সোমবার আন্দোলনের ১৭তম দিন ছিল। এদিকে দিল্লির জন্তর-মন্তরে একই ইস্যুতে আলাদা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত ছয়জন শিক্ষার্থী।