• ই-পেপার

নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের বাসে আগুন

‘সেভেন আপের’ রাতে ব্রাজিলের রেকর্ড কেড়ে নিল জার্মানি

ক্রীড়া ডেস্ক
‘সেভেন আপের’ রাতে ব্রাজিলের রেকর্ড কেড়ে নিল জার্মানি
জার্মানির গোল উদযাপন করছেন হাভার্টজ-সানেরা। ছবি : রয়টার্স

নিজেদের দিনে জার্মানি কতটা ভয়ংকর হতে পারে তার প্রমাণ আরেকবার দিল তারা। তাদের আগুনে পুড়ে আজ রাতে হিউস্টনে ছারখার হলো কুরাসাও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরেছে তারা।

আয়তনের হিসেবে বিশ্বকাপের ক্ষুদ্রতম দেশকে ‘সেভেন আপ’ খাইয়ে ব্রাজিলকে দুঃস্মৃতি মনে করিয়ে দিলো জার্মানি। ১৭১ বর্গমাইলের কুরাসাওকে যত গোলে হারিয়েছে ঠিক তত গোল ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে দিয়েছিল ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ঘরের মাঠ বেলো হরিজেন্তে ৭-১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল।

সেই দুঃস্মৃতি মনে করানোর রাতে ব্রাজিলের একটা রেকর্ডও আজ নিজেদের করে নিয়েছে জার্মানি। এতদিন ২৩৮ গোল নিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করা দল ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেলেসাওদের রেকর্ডটা এখন জার্মানির। কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল দেওয়ায় এখন জার্মানির বিশ্বকাপ গোল ২৩৯টি। 

গোলের পার্থক্য ১ হওয়ায়, ইঁদুর-বিড়াল লড়াইটা তাই ব্রাজিল-জার্মানির মধ্যে চলতে থাকবে। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত যারা লড়াইয়ে টিকে থাকবে তারাই সুযোগ পাবে প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ফেলতে। তবে তাদের বাইরে আর কোনো দল দুই শর ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। ১৫২ গোলে তিনে আছে আর্জেন্টিনা।

ইউসেবিও-ফিগো পারেননি, রোনালদো পারবেন কি?

ক্রীড়া ডেস্ক
ইউসেবিও-ফিগো পারেননি, রোনালদো পারবেন কি?
সতীর্থর সঙ্গে হাসিমুখে অনুশীলনে রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

কিংবদন্তি ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হলে নিশ্চিতভাবেই পতুর্গালের বেশ কজন থাকবেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইউসেবিও, লুইস ফিগো ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু বিশ্বকাপজয়ীদের তালিকা করলে থাকবেন না কেউই। বিশ্বকাপে ২০১৬ সালের ইউরো জয়ীদের সর্বোচ্চ সাফল্য তৃতীয় স্থান। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সেই দলে ছিলেন ইউসেবিও। ২০০৬ সালে ফিগো-রোনালদো জুটিতে শেষ চারে জায়গা পেয়েছিল পর্তুগাল। দুই পূর্বসূরি পারেননি নিজ দেশকে এবার কি শিরোপা এনে দিতে পারবেন ‘সিআর সেভেন’। লিওনেল মেসি-গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে অংশ নিবেন তিনি। বয়স ৪১ হওয়ায় অমরত্ব লাভের এটাই শেষ সুযোগও তার। সেই লক্ষ্য পূরণে এবার পাশে পাচ্ছেন নিজেদের ইতিহাসের সোনালি প্রজন্মকে।

কোচ: রবার্তো মার্তিনেজ
অধিনায়ক: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
ফিফা র‌্যাংকিং: ৫
বিশ্বকাপ ইতিহাস-
সেরা সাফল্য: তৃতীয় স্থান (১৯৬৬)
সর্বশেষ: ২০২২ (কোয়ার্টার ফাইনাল)
প্রথম: ১৯৬৬
অংশগ্রহণ: ৯ বার

‘কে’ গ্রুপের সূচি
১৭ জুন: পর্তুগাল বনাম ডিআর কঙ্গো হিউস্টোন রাত ১১ টা
২৩ জুন: পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান হিউস্টোন রাত ১১ টা
২৮ জুন: পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়া মায়ামি ভোর ৫টা ৩০ মিনিট

পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক- দিয়োগো কস্তা, হোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্দো ভেলহো

ডিফেন্ডার- তোমাস আরাউহো, জোয়াও কানসেলো, দিয়োগো দালোত, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, নুনো মেন্ডেস, মাথিউস নুনেস, নেলসন সেমেদো, রেনাতো ভেইগা

মিডফিল্ডার- সামুয়েল কস্তা, ব্রুনো ফার্নান্দেস, জোয়াও নেভেস, রুবেন নেভেস, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনিয়া

ফরোয়ার্ড- ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, জোয়াও ফেলিক্স, গনসালো গেদেস, রাফায়েল লিয়াও, পেদ্রো নেতো, গনসালো রামোস, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও

পাকিস্তানের বিপক্ষে একপেশে জয় ভারতের

ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তানের বিপক্ষে একপেশে জয় ভারতের
উইকেট নেওয়ার পর সতীর্থ মান্ধানার সঙ্গে দিপ্তীর (ডানে) উদযাপন। ছবি : ক্রিকইনফো

টসের সময় এবং ম্যাচ শেষে দুই দলের হাত মেলানোই ক্রীড়াঙ্গনে অলিখিত এক নিয়ম। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে উল্টোটা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ক্ষেত্রে এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে হাত না মেলানোই। ছেলের পর এবার মেয়েদের বেলাতেও তাই দেখা গেল।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে একবারের জন্যও হাত মেলায়নি ভারত-পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটারই। সেই বির্তক কিছুটা উত্তাপ ছড়ালেও মাঠের লড়াই পারেনি। উল্টো একপেশে ম্যাচ জিতেছে ভারত। তাতে ৬৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছেন স্মৃতি মান্ধানা-হরমনপ্রীত কৌররা।

বার্মিংহামে ১৭১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল পাকিস্তান। ‍উদ্বোধনী জুটিতে ৩৮ রান যোগ করেছিলেন দুই ওপেনার। তবে ব্যক্তিগত ১২ রানে ওপেনার গুল ফিরোজা আউট হতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। তাতে ১০৬ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন আরেক ওপেনার মুনিবা আলী। 

পাকিস্তানকে বলা যায় একাই ধসিয়ে দিয়েছেন দিপ্তী শর্মা। ১০ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পথে রেকর্ডও গড়েছেন ভারতীয় অফস্পিনার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন সর্বোচ্চ ১৬৬ উইকেট তার। আগের রেকর্ডটি ছিল থাইল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার থিপাচা পুত্থাওংয়ের, ১৬৫ উইকেট।

সঙ্গে ব্যাট হাতে ১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন দিপ্তী। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরে ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও জুটেছে তার কপালে। তবে ভারতের বড় সংগ্রহে অবদান রেখেছেন ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। ওপেনিংয়ে নেমে ৬৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি ব্যাটার। ১৫৪.৫৪ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২ ছক্কা ও ৯ চারে। বিপরীতে দুটি ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন হরমনপ্রীত (৩৬) ও রিচা ঘোষ (৩৪)। পাকিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সাদিয়া ইকবাল ও ফাতিমা সানা।

বিশ্বকাপে আবারও ৭-১’র গল্প লিখল জার্মানি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে আবারও ৭-১’র গল্প লিখল জার্মানি
ছবি : রয়টার্স

সব হিসেব যেন কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিল জার্মানি। সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছিল ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই হতাশা ভুলতে এবার বিশ্বকাপ অভিযানে নেমেই কুরাসাওকে নিয়ে ছেলেখেলা খেলল তারা।

তাতে হিউস্টনে ফিরে এলো বেলো হরিজেন্তের স্মৃতি। ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে তাদের ঘরের মাঠে ৭-১ গোলে হারিয়েছিল সেবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার বিশ্বকাপে শুরুতেই সমান ব্যবধানে জিতল জার্মানি। বিশাল ব্যবধানে জিতলেও বিশ্বকাপে জার্মানির বড় জয় ৮-০ ব্যবধানের। সেই জয় ২০০২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে পেয়েছিল তারা।

অভিষেক বিশ্বকাপে তাই ‘জার্মান পাঠ’ পেল কুরাসাও। নিজেদের ইতিহাসে বিশ্ব মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই ৭-১ ব্যবধানের বড় পরাজয় দেখল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্র দেশটি। দেড় লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দেশটির বিপক্ষে যেন ব্রাজিল ম্যাচের হাইলাইটস দেখাল জার্মানি।

রেফারির কিক অফের বাঁশি শেষ হতেই কুরাসাওয়ের ডি বক্সে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালায় জার্মানি। তার ফলও পায় হাতেনাতে। ম্যাচের ৬ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার এনমেচা। তাতে অবশ্য ভড়কে যায় না কুরাসাও। তার প্রমাণ ২১ মিনিটের সমতায় ফেরা। সমতায় ফেরানো গোলটি করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান লিভানো কোমেনেনসিয়া। কুরাসাওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় এখন তিনি। যে রেকর্ড ভাঙতে পারবে না দলটির আর কেউই।

সমতায় ফিরে যেন ভুলই করে কুরাসাও। বিরতিতে যাওয়ার আগে যে তাদের জালে ২ গোল দিয়ে দেয় জার্মানি। ৩৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকো শ্লটারবেক। আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হাভার্টজ। পেনাল্টিটি আদায় করে নিয়েছিলেন প্রথম গোলের নায়ক ফেলিক্স এনমেচো। বিরতিতে যাওয়ার আগে তাকে নিজেদের ডি বক্সে ফাউল করেন কুরাসাওয়ের এক ডিফেন্ডার।

কুরাসাওয়ের জালে শেষ পেরেকটাও মারেন হাভার্টজ। তাতে বিশ্বকাপে আবারও জার্মানির ৭-১’র গল্প ফিরে আসে। তার আগে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই গোলের খাতায় নাম লেখান জামাল মুসিয়ালা। ৪৭ মিনিটে এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। অন্যদিকে ১০ মিনিটের ব্যবধানে বাকি দুই গোল করেন নাথানিয়েল ব্রাউন ও ডেনিজ উনদাভ। লেফটব্যাক ব্রাউনের ৬৮ মিনিটের বিপরীতে ৭৮ মিনিটে দলের সপ্তম গোল করেন উনদাভ।