• ই-পেপার

বিশ্বকাপে আবারও ৭-১’র গল্প লিখল জার্মানি

‘সেভেন আপের’ রাতে ব্রাজিলের রেকর্ড কেড়ে নিল জার্মানি

ক্রীড়া ডেস্ক
‘সেভেন আপের’ রাতে ব্রাজিলের রেকর্ড কেড়ে নিল জার্মানি
জার্মানির গোল উদযাপন করছেন হাভার্টজ-সানেরা। ছবি : রয়টার্স

নিজেদের দিনে জার্মানি কতটা ভয়ংকর হতে পারে তার প্রমাণ আরেকবার দিল তারা। তাদের আগুনে পুড়ে আজ রাতে হিউস্টনে ছারখার হলো কুরাসাও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরেছে তারা।

আয়তনের হিসেবে বিশ্বকাপের ক্ষুদ্রতম দেশকে ‘সেভেন আপ’ খাইয়ে ব্রাজিলকে দুঃস্মৃতি মনে করিয়ে দিলো জার্মানি। ১৭১ বর্গমাইলের কুরাসাওকে যত গোলে হারিয়েছে ঠিক তত গোল ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে দিয়েছিল ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ঘরের মাঠ বেলো হরিজেন্তে ৭-১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল।

সেই দুঃস্মৃতি মনে করানোর রাতে ব্রাজিলের একটা রেকর্ডও আজ নিজেদের করে নিয়েছে জার্মানি। এতদিন ২৩৮ গোল নিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করা দল ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেলেসাওদের রেকর্ডটা এখন জার্মানির। কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল দেওয়ায় এখন জার্মানির বিশ্বকাপ গোল ২৩৯টি। 

গোলের পার্থক্য ১ হওয়ায়, ইঁদুর-বিড়াল লড়াইটা তাই ব্রাজিল-জার্মানির মধ্যে চলতে থাকবে। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত যারা লড়াইয়ে টিকে থাকবে তারাই সুযোগ পাবে প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ফেলতে। তবে তাদের বাইরে আর কোনো দল দুই শর ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। ১৫২ গোলে তিনে আছে আর্জেন্টিনা।

ইউসেবিও-ফিগো পারেননি, রোনালদো পারবেন কি?

ক্রীড়া ডেস্ক
ইউসেবিও-ফিগো পারেননি, রোনালদো পারবেন কি?
সতীর্থর সঙ্গে হাসিমুখে অনুশীলনে রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

কিংবদন্তি ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হলে নিশ্চিতভাবেই পতুর্গালের বেশ কজন থাকবেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইউসেবিও, লুইস ফিগো ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু বিশ্বকাপজয়ীদের তালিকা করলে থাকবেন না কেউই। বিশ্বকাপে ২০১৬ সালের ইউরো জয়ীদের সর্বোচ্চ সাফল্য তৃতীয় স্থান। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সেই দলে ছিলেন ইউসেবিও। ২০০৬ সালে ফিগো-রোনালদো জুটিতে শেষ চারে জায়গা পেয়েছিল পর্তুগাল। দুই পূর্বসূরি পারেননি নিজ দেশকে এবার কি শিরোপা এনে দিতে পারবেন ‘সিআর সেভেন’। লিওনেল মেসি-গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে অংশ নিবেন তিনি। বয়স ৪১ হওয়ায় অমরত্ব লাভের এটাই শেষ সুযোগও তার। সেই লক্ষ্য পূরণে এবার পাশে পাচ্ছেন নিজেদের ইতিহাসের সোনালি প্রজন্মকে।

কোচ: রবার্তো মার্তিনেজ
অধিনায়ক: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
ফিফা র‌্যাংকিং: ৫
বিশ্বকাপ ইতিহাস-
সেরা সাফল্য: তৃতীয় স্থান (১৯৬৬)
সর্বশেষ: ২০২২ (কোয়ার্টার ফাইনাল)
প্রথম: ১৯৬৬
অংশগ্রহণ: ৯ বার

‘কে’ গ্রুপের সূচি
১৭ জুন: পর্তুগাল বনাম ডিআর কঙ্গো হিউস্টোন রাত ১১ টা
২৩ জুন: পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান হিউস্টোন রাত ১১ টা
২৮ জুন: পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়া মায়ামি ভোর ৫টা ৩০ মিনিট

পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক- দিয়োগো কস্তা, হোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্দো ভেলহো

ডিফেন্ডার- তোমাস আরাউহো, জোয়াও কানসেলো, দিয়োগো দালোত, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, নুনো মেন্ডেস, মাথিউস নুনেস, নেলসন সেমেদো, রেনাতো ভেইগা

মিডফিল্ডার- সামুয়েল কস্তা, ব্রুনো ফার্নান্দেস, জোয়াও নেভেস, রুবেন নেভেস, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনিয়া

ফরোয়ার্ড- ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, জোয়াও ফেলিক্স, গনসালো গেদেস, রাফায়েল লিয়াও, পেদ্রো নেতো, গনসালো রামোস, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও

পাকিস্তানের বিপক্ষে একপেশে জয় ভারতের

ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তানের বিপক্ষে একপেশে জয় ভারতের
উইকেট নেওয়ার পর সতীর্থ মান্ধানার সঙ্গে দিপ্তীর (ডানে) উদযাপন। ছবি : ক্রিকইনফো

টসের সময় এবং ম্যাচ শেষে দুই দলের হাত মেলানোই ক্রীড়াঙ্গনে অলিখিত এক নিয়ম। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে উল্টোটা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ক্ষেত্রে এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে হাত না মেলানোই। ছেলের পর এবার মেয়েদের বেলাতেও তাই দেখা গেল।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে একবারের জন্যও হাত মেলায়নি ভারত-পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটারই। সেই বির্তক কিছুটা উত্তাপ ছড়ালেও মাঠের লড়াই পারেনি। উল্টো একপেশে ম্যাচ জিতেছে ভারত। তাতে ৬৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছেন স্মৃতি মান্ধানা-হরমনপ্রীত কৌররা।

বার্মিংহামে ১৭১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল পাকিস্তান। ‍উদ্বোধনী জুটিতে ৩৮ রান যোগ করেছিলেন দুই ওপেনার। তবে ব্যক্তিগত ১২ রানে ওপেনার গুল ফিরোজা আউট হতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। তাতে ১০৬ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন আরেক ওপেনার মুনিবা আলী। 

পাকিস্তানকে বলা যায় একাই ধসিয়ে দিয়েছেন দিপ্তী শর্মা। ১০ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পথে রেকর্ডও গড়েছেন ভারতীয় অফস্পিনার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন সর্বোচ্চ ১৬৬ উইকেট তার। আগের রেকর্ডটি ছিল থাইল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার থিপাচা পুত্থাওংয়ের, ১৬৫ উইকেট।

সঙ্গে ব্যাট হাতে ১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন দিপ্তী। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরে ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও জুটেছে তার কপালে। তবে ভারতের বড় সংগ্রহে অবদান রেখেছেন ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। ওপেনিংয়ে নেমে ৬৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি ব্যাটার। ১৫৪.৫৪ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২ ছক্কা ও ৯ চারে। বিপরীতে দুটি ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন হরমনপ্রীত (৩৬) ও রিচা ঘোষ (৩৪)। পাকিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সাদিয়া ইকবাল ও ফাতিমা সানা।

নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের বাসে আগুন

অনলাইন ডেস্ক
নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের বাসে আগুন
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ) ফাইনালে জয় পেয়েছে ‘নিউইয়র্ক নিকস’। পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এ জয় পায় দলটি। এই ঐতিহাসিক জয় উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটানের মিডটাউনে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্থানীয় সময় গত শনিবার রাতে দলটির হাজারো উন্মত্ত ভক্ত রাস্তায় নেমে উল্লাস শুরু করলে এক পর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। এসময় টাইমস স্কয়ারে এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বিশ্বকাপের দর্শক নামিয়ে দিয়ে ফেরা একটি বাসে।

১৯৭৩ সালের পর নিউইয়র্ক নিকস এমন অভাবনীয় পারফরম্যান্স ও ফাইনাল জয় উদ্‌যাপনে পানশালা ও খোলা মাঠ থেকে হাজারো সমর্থক স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। অনেককে আতশবাজি ও স্মোক বা ধোঁয়ার গ্রেনেড ফোটাতে দেখা যায়।

বাস্কেটবলপ্রেমীদের এই উন্মত্ত উল্লাসের মধ্যে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ শেষে দর্শকদের নামিয়ে দিয়ে ফেরা ১৫টি শাটল বাসের একটি বহর আটকা পড়ে। শত শত তরুণ বাসের ওপর উঠে পড়েন। কেউ কেউ চালকের আসনে গিয়ে বসেন।

একপর্যায়ে নিউইয়র্ক সিটি সরকারের ভাড়া করা হলুদ রঙের স্কুলবাসগুলোর একটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সের এক সাংবাদিক বাসটি দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখেন। এভাবে আরো তিনটি বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাসের ওপর উঠে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকদের পতাকা ওড়াতে দেখা গেছে। ব্রাজিলের ম্যাচ দেখতে আসা মরক্কো বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ইউসেফ সাব্বর (৪৯) বলেন, তাঁরা তাঁদের আনন্দ প্রকাশ করছেন। কিছুটা সহিংসভাবে হলেও পৃথিবীর সবখানে দল জিতলে এমনটা ঘটে।

নিউইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রাত ২টার দিকে টাইমস স্কয়ারে উল্লাসের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ে গুলি লাগে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে দেখা গেলেও তাঁর আঘাতের কারণ জানা যায়নি।

পানশালা থেকে খেলা দেখে বের হওয়া রিয়েল এস্টেট এজেন্ট পঞ্চাশোর্ধ্ব ক্যারল মারিনো বলেন, মনে হচ্ছে একসঙ্গে ২০টি থার্টি ফার্স্ট নাইট উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ ও ঘোড়সওয়ার পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধৈর্য ধরার পর পুলিশের সদস্যরা লাঠি উঁচিয়ে সমর্থকদের ধাওয়া দিয়ে রাস্তা ফাঁকা করেন। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশের রাস্তাগুলো কর্ডন বা ঘিরে ফেলা হয়।

পুরো জীবন নিকসের সমর্থক হিসেবে পার করে দেওয়া নিউইয়র্কের দম্পতি ডিন ও ক্রিস্টিনা স্মিরোস বলেন, আমাদের জন্মের পর এই প্রথম দল এভাবে জিতল, আমরা ভীষণ খুশি।

এর আগে ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালে ফাইনালে উঠলেও যথাক্রমে হিউস্টন রকেটস ও সান আন্তোনিও স্পার্সের কাছে হেরেছিল নিউইয়র্ক নিকস।