• ই-পেপার

কালকিনিতে অসহায় বিধবার পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ, দিল এক মাসের খাদ্য সহায়তা

বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগে গোবিন্দগঞ্জে বৃক্ষরোপণ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগে গোবিন্দগঞ্জে বৃক্ষরোপণ
ছবি: কালের কণ্ঠ

সবুজ ও সুন্দর আগামী গড়ার লক্ষ্যে বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগে সারা দেশে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন স্থানে  নানা প্রজাতির ১০০টি গাছের চারা রোপণ এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে আরও ১০০টি চারা বিতরণ করা হয়।

বিতরণকৃত চারার মধ্যে ছিল বনজ, ফলদ, ঔষধি ও ফুলের গাছ। ফলদ চারার মধ্যে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, লেবু ও পেয়ারা; ফুলের গাছের মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, বকুল ও কদম; আর ঔষধি চারার মধ্যে নিম, হরিতকী ও অর্জুন উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি  ছিলেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের মাননীয়  সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশীদ ইরাম খান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহম্মেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল কবির মনু, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর লেলিন, গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার ভট্টাচার্য, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাজেদুল রহমান সাজু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ময়েন উদ্দিন লিপন, সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ার হোসেন গোলাপ এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. মনির হোসেন সরকার।

বসুন্ধরা শুভসংঘ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্য হুমায়ুন আহমেদ বিপ্লব, আতিক হাসান জীবন, আজমাইন মাহাতাব মিলন, ফেরদৌসী আক্তার সাথী, রিমি আক্তার, জেরিন আক্তার ও হোসাইন আহমেদ বিলাসসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। বিগত দিনগুলোতে আমরা দেখেছি যে, বিপুল সংখ্যক গাছ নিধন বা উজাড় করা হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে আমাদের জলবায়ু আজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করতে এবং ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে, আমরা বনায়নের মাধ্যমে একে সম্পূর্ণ অর্গানিক বা প্রাকৃতিকভাবে পুনরুদ্ধার  করার চেষ্টা করছি।

বিশেষ অতিথি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহম্মেদ বলেন, শুভসংঘের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সারা বিশ্বে দৃশ্যমান। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে আরও বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং লাগানো গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে। সমাজ ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি।

ফুলবাড়ীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

আনোয়ার সাদাত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
ফুলবাড়ীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

‘আজকের প্রবীণরাই আমাদের সমাজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তাদের অবহেলা নয়, প্রয়োজন সম্মান, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা’—এই বার্তা নিয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

আজ সোমবার (১৫) জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস। বয়স্ক মানুষের প্রতি অন্যায়, নির্যাতন, অবহেলা ও বৈষম্য রোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ দিবসকে সামনে রেখে ফুলবাড়ী উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘ সমাজের প্রবীণ শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে ফুলবাড়ী উপজেলার ১নং এলুয়াড়ি ইউনিয়নের জলপাইতলী বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ফুলবাড়ী বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি সোহেল রানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন–উত্তর শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক শ্রী ভোলানাথ রায়।

তিনি বলেন, একজন মানুষ তার কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় সমাজ ও পরিবারের জন্য কাজ করেন। অবসরের পর যেন সেই মানুষটিকে পরিবারের বা সমাজের বোঝা মনে করা না হয়। প্রবীণদের জন্য রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, প্রবীণরা আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মকে পথ দেখায়। তাই প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও মানবিক আচরণ করা সবার দায়িত্ব।

বসুন্ধরা শুভসংঘের ফুলবাড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি সোহেল রানা বলেন, আমাদের প্রবীণদেরকে সযত্নে রাখা উচিত, ছোট বেলায় মা যেমন তার শিশুকে আগলে রাখে, ঠিক তেমনভাবে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ফুলবাড়ী প্রতিনিধি আনোয়ার সাদাত বলেন, প্রবীণ জনগোষ্ঠী নানা ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবন কাটান। শারীরিক দুর্বলতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, স্বাস্থ্য সমস্যা এবং মানসিক একাকীত্ব তাদের জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অনেক প্রবীণ নিয়মিত চিকিৎসা ও যত্নের অভাবে সমস্যায় পড়েন। পাশাপাশি আধুনিক সমাজে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও সামাজিক সুরক্ষার অভাব তাদের জীবনকে আরো কঠিন করে তুলছে।

‘আমরা সবাই একদিন প্রবীণ হবো। তাই আজকের প্রবীণদের সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তাদের প্রতি পরিবারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন’—বলেন তিনি।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণদের নির্যাতন শুধু শারীরিক নয়; অবহেলা, অসম্মান, কথা না শোনা, প্রয়োজনের সময় পাশে না থাকাও এক ধরনের নির্যাতন। তাই পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রবীণদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন–শিক্ষক আল-আমীন, আনোয়ার ও তরিকুল। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন–বসুন্ধরা শুভসংঘের সহ-সভাপতি মেহেদুল হক, প্রচার সম্পাদক হাসানুর রহমান, সদস্য জিসান, সোহাগ, মোস্তাকিম, জীবনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

সভা শেষে উপস্থিত প্রবীণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শুভসংঘের সদস্যরা। তারা প্রবীণদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

স্থানীয়রা জানান, এমন উদ্যোগ প্রবীণদের প্রতি সমাজের দায়িত্ববোধ বাড়াবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মণিরামপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সভা

মনিরামপুর, যশোর
মণিরামপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সভা
সংগৃহীত ছবি

‘শুভ কাজে, সবার পাশে’ স্লোগান সামনে রেখে যশোরের মণিরামপুরে শিশু-কিশোরদের নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার  (১৪ জুন) পৌর শহরের সংশপ্তক শিল্পী সংগঠন কার্যালয় চত্বরে মণিরামপুর উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমানের  সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশের সঞ্চালনায় কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সৌমেন সরকার, সংগীত শিক্ষক সঞ্জয় মল্লিক, সংগীতশিল্পী বাপন হালদার, বিকাশ চৌধুরী, নূপুর মল্লিক, রাখী দেবনাথ,  দৈনিক কালের কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি  অধ্যাপক বাবুল আকতার উপস্থিত। 

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা  শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখার  সহসভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান, মো. হাদিউজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক প্রবীর সরকারসহ  অন্য সদস্যরা। 

আলোচনাসভার প্রধান আলোচক কেশবপুর  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সৌমেন সরকার বলেন, শিশু-কিশোরদের  স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, ফাস্ট ফুড পরিহার, হাত ধোঁয়ার সঠিক নিয়ম, ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ থেকে বাঁচতে করণীয় এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে, বর্তমানে হাম, মৌসুমি রোগ ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন।


​বসুন্ধরা-শুভসংঘ মনিরামপুর উপজেলা শাখার  উপদেষ্টা ও  দৈনিক কালের কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি  অধ্যাপক বাবুল আকতার বলেন, ‘সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এবং শিক্ষামূলক ও জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করে একটি সুস্থ জাতি গঠনে বসুন্ধরা-শুভসংঘ সব সময় পাশে থাকবে।’


সংশপ্তক শিল্পী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সংগীত শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মল্লিক বলেন,  ‘বসুন্ধরা-শুভসংঘের এই জনহিতকর উদ্যোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। তিনি বলেন, এই স্বাস্থ্য  সচেতনতাসভা শিশু-কিশোরদের   দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

বসুন্ধরা শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমান  বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আয়োজন। বসুন্ধরা শুভসংঘ বিশ্বাস করে, সচেতনতাই সুস্থ সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ। আজকের এই আলোচনাসভা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও পরামর্শ নিজেদের জীবনে কাজে লাগিয়ে তোমরা সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে—এই প্রত্যাশা করি।’

আলোচনা শেষে শিশু-কিশোররা  স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং সুস্থ জীবনযাপনের অঙ্গিকার করে

কাপাসিয়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগারে ইসলামী বই-কোরআন শরিফ উপহার

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
কাপাসিয়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগারে ইসলামী বই-কোরআন শরিফ উপহার
ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চরখিরাটী গ্রামে অবস্থিত বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগারে ইসলামী বই ও কোরআন শরিফ উপহার দেওয়া হয়েছে। 

শুক্রবার (১২ জুন) পাঠাগার পরিদর্শনে গিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান ও বসুন্ধরা শুভসংঘ মনোহরদী উপজেলা শাখার সভাপতি ডা. সাইদুর রহমান এ উপহার তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ মনোহরদী উপজেলা শাখার উপদেষ্টা চিকিৎসক ডা. এমদাদুল হক সোহেল ও হামেদ মিয়া।

পাঠাগার পরিদর্শন শেষে অতিথিরা বলেন, একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে বইয়ের বিকল্প নেই। বই মানুষের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন পাঠাগারের বিস্তার ঘটলে নতুন প্রজন্ম আরো সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা এবং আলোকিত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চরখিরাটী গ্রামে গড়ে উঠেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগার। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চার আগ্রহ বাড়াতে প্রতিষ্ঠিত এই পাঠাগারটি এখন স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঠাগারে দেখা যায় বইপ্রেমী মানুষের ভিড়। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অবসর সময়ে ছুটে আসছেন এখানে। কেউ পড়ছেন গল্প-উপন্যাস, কেউ ইতিহাস ও জ্ঞানমূলক বই, আবার কেউ ধর্মীয় ও মূল্যবোধসম্পন্ন গ্রন্থ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আগে অবসর সময় অনেকেই আড্ডা দিয়ে কাটাতেন। এখন সেই সময়ের একটি বড় অংশ বই পড়ার পেছনে ব্যয় করছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাগারটি নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা জানান, চরখিরাটীর মতো গ্রামে এমন একটি পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, এটি মানুষের মিলনস্থল ও নতুন চিন্তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে পাঠাগারটি আরো বড় পরিসরে মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।