• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, কবে খুলছে হরমুজ প্রণালি?

কেন ঐতিহ্যবাহী রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানাল স্লোভাকিয়া

অনলাইন ডেস্ক
কেন ঐতিহ্যবাহী রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানাল স্লোভাকিয়া
ছবি : এক্স থেকে নেওয়া।

ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্লোভাকিয়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে তিনি ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনাও উপভোগ করেন। মোদি এসব রীতির সংস্কৃতি ও ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং একে অনন্য ঐতিহ্য হিসেবে প্রশংসা করেন। তবে পুরো অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি।

WDFW

প্রাচীন ঐতিহ্য

কালের কণ্ঠ জেনেছে, স্লাভিক সংস্কৃতিতে অতিথিকে রুটি ও লবণ দেওয়া একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সম্মানিত অতিথি এবং নবদম্পতিকে স্বাগত জানাতে এই খাবার পরিবেশন করা হয়। 

এই রীতি আতিথেয়তা, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। পাশাপাশি এটি আয়োজক ও অতিথির মধ্যে বিশ্বাস ও ভালো সম্পর্কের বন্ধন বোঝায়।

এই রীতিতে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় আয়োজকের পক্ষ থেকে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা তরুণীরা একটি বড় গোল রুটি পরিবেশন করেন। রুটিটি রাখা থাকে ‘রুশনিক’ নামে ঐতিহ্যবাহী সূচিকর্মের নকশা করা একটি কাপড়ের ওপর। মূলত সুতি বা লিনেনের কাপড়ের ওপর এই নকশা করা হয়।

রুটির পাশে ছোট একটি পাত্রে লবণ রাখা হয়। আবার কখনো রুটির ওপরেই লবণের ছোট বাটিটি বসানো থাকে। অতিথি রুটি থেকে একটি টুকরো ছিঁড়ে তাতে লবণ লাগিয়ে খান। এটি আয়োজকের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক।

বিয়ের পরও নবদম্পতিকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বর-কনে রুটি ছিঁড়ে লবণ দিয়ে একে অপরকে খাওয়ান। এটি তাদের ভালোবাসা ও নতুন সম্পর্কের প্রতীক। আবার নতুন বাড়িতে ওঠার সময় বা কোনো বিশেষ সম্মানিত অতিথিকে স্বাগত জানাতেও রুটি ও লবণ নিয়ে যাওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে।

রুটির ও লবণের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

স্লাভিক ভাষায় ‘খ্লেবোসোলস্তভো’ (রুটি-লবণ) শব্দটি আজও ব্যবহৃত হয়। এটি অতিথিদের প্রতি আন্তরিক আতিথেয়তা, উদারতা ও সৌহার্দ্য প্রকাশ করতে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় শব্দ এটি। 

স্লাভিক সংস্কৃতিতে রুটিকে পবিত্র খাবার ও জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রুটি পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি এবং কখনো খাবারের অভাব না হওয়ার শুভকামনার প্রতীক।

অন্যদিকে, অতীতে লবণ ছিল খুবই মূল্যবান ও দামি একটি পণ্য। তাই লবণ বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা এবং সম্পর্কের স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, লবণ অশুভ শক্তি, কুদৃষ্টি ও অকল্যাণ দূরে রাখতেও সাহায্য করে।

এদিকে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর এক্সে এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘ব্রাতিস্লাভায় আমাকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে। এটি স্লোভাকিয়ার সংস্কৃতি এবং তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের সুন্দর পরিচয়।’

 

এক্সে দেওয়া আরেকটি পোস্টে মোদি স্লোভাকিয়ার মিয়াভা অঞ্চলের লোকনৃত্য দল ‘কোপানিচিয়ারিক’-এর পরিবেশনার কিছু অংশ শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের লোকজ ঐতিহ্য একটি দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।’

 

তিনি আরো বলেন, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়া সফরে এসে সেখানকার ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ। তার মতে, এ ধরনের আন্তরিকতা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করে এবং ভারত-স্লোভাকিয়া বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার সন্ধ্যায় তিন দিনের সফরে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছান। রবার্ট ফিকোর আমন্ত্রণে তিনি এই সফর করছেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার। ১৯৯৩ সালে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর থেকে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর।

সফরকালে মোদি প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অটোমোবাইল শিল্প, রেলওয়ে উন্নয়নসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পাবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর ভারত ও স্লোভাকিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে এবং সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নেবে।

হরমুজে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা চেয়ে শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন মোদি

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা চেয়ে শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার অবসান ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ঘোষিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বিশেষ বার্তা দেন। ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এক্স-এর পোস্টে মোদি লেখেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে রাজি হয়েছে ইরান ও আমেরিকা। আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এই যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে, মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ভারত আশা করে, এই চুক্তি শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনবে। সমুদ্রপথে চলাচল এবং বাণিজ্যের স্বাধীনতা আসবে। আশা করি যাবতীয় সমস্যা মেটানো হবে আগামী দিনে।’

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের জেরে অন্যান্য দেশের মতো নানাভাবে বিপাকে পড়েছে ভারত। হরমুজে ভারতমুখী জাহাজ চলাচলে সাময়িক অনুমতি মিললেও দেশটিতে দেখা দিয়েছিল জ্বালানি সংকট। সেকারণেই নির্বাচনের পর দফায় দফায় বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের দাম।

সম্প্রতি ভারতীয় নাবিকদের জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এই হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ফলে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতও যথেষ্ট ভুগেছে।

মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে ১,৭০০ বছর পুরোনো সুপারনোভা বিস্ফোরণের সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক
মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে ১,৭০০ বছর পুরোনো সুপারনোভা বিস্ফোরণের সন্ধান
সংগৃহীত ছবি

একটি সম্ভাব্য সুপারনোভা বিস্ফোরণের অবশিষ্টাংশ খুঁজে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল- জানিয়েছে নাসা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই বিস্ফোরণ অন্তত ১৭০০ বছর আগে ঘটেছিল। অবশিষ্টাংশটি আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি এলাকায় রয়েছে।

এই আবিষ্কার সম্প্রতি নিয়ে 'দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল'-এ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি করা হয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার পরিচালিত 'চন্দ্র এক্স-রে অবজার্ভেটরি' এবং 'ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি'-এর 'এক্সএমএম' অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণ করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বে এমন অনেক ভারী মৌল তৈরি হয়, যা গ্রহ গঠন এবং জীবনের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। বিস্ফোরণের পর এসব মৌল মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির উপাদান হিসেবে কাজ করে।

গবেষণায় পাওয়া সম্ভাব্য সুপারনোভা অবশিষ্টাংশটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি মিল্কিওয়ের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের কাছে থাকা একটি উজ্জ্বল বেতার তরঙ্গ উৎস 'স্যাজিটেরিয়াস সি'-এর ভেতরে পাওয়া গেছে। এলাকাটি একটি বিশাল ও তরুণ নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা আয়নিত গ্যাসের বুদবুদের মধ্যে অবস্থিত। তথ্য বিশ্লেষণের সময় গবেষকেরা দ্রুত সম্প্রসারণশীল একটি গ্যাসের মেঘ দেখতে পান। দূরবীক্ষণ যন্ত্রের ছবিতে এই মেঘকে লাল রঙে দেখানো হয়েছে। এর কেন্দ্রে একটি উজ্জ্বল এক্স-রে বিকিরণের অংশও দেখা যায়, যা ছবিতে নীল রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই এক্স-রে বিকিরণই একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের ফল। সাধারণত কোনো বিশাল নক্ষত্র জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস হলে সুপারনোভা সৃষ্টি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই অবশিষ্টাংশের উপাদানগুলো ঘণ্টায় প্রায় ২০ লাখ মাইল বেগে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

এছাড়া মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের কাছে অতীতে একটি বড় নক্ষত্র বিস্ফোরণের আরো কিছু প্রমাণও পাওয়া গেছে। নাসার সাবেক 'সোফিয়া' অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা 'স্যাজিটেরিয়াস সি' অঞ্চলের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা গ্যাসের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন। যদিও এই পর্যবেক্ষণ প্রকল্প এখন আর চালু নেই। গবেষকদের ধারণা সঠিক প্রমাণিত হলে এটি হবে মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর 'স্যাজিটেরিয়াস এ'-এর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করা সুপারনোভা অবশিষ্টাংশগুলোর একটি। এই অঞ্চলটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিশাল আকারের নক্ষত্র রয়েছে, শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র রয়েছে এবং ঘন গ্যাসের মেঘ ছায়াপথের কেন্দ্রকে ঘিরে ঘুরছে। 

গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা বিকল্প ব্যাখ্যাও পরীক্ষা করেন। কারণ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রীয় অঞ্চল নতুন নক্ষত্র তৈরির জন্য পরিচিত। তাই সেখানে থাকা বড় ও উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলোর কারণেও এক্স-রে বিকিরণ তৈরি হতে পারে। কিন্তু বিশ্লেষণে দেখা যায়, শনাক্ত হওয়া এক্স-রে বিকিরণের তীব্রতা সাধারণ নক্ষত্রগুচ্ছের বিকিরণের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। ফলে গবেষকেরা এই সম্ভাবনাকে নাকচ করেন এবং সুপারনোভা ব্যাখ্যাকেই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। বিজ্ঞানীরা জানান, মহাবিশ্বের অধিকাংশ নক্ষত্র হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। নক্ষত্রের ভেতরে চলা পারমাণবিক সংযোজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অক্সিজেন, সিলিকন ও লোহার মতো ভারী মৌল তৈরি হয়। যখন কোনো বিশাল নক্ষত্র সুপারনোভা বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়, তখন এসব মৌল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেগুলো নতুন নক্ষত্র ও পাথুরে গ্রহ গঠনের উপাদানে পরিণত হয়।

গবেষকদের মতে, এই সুপারনোভার অবশিষ্টাংশ মহাজাগতিক সময়ের হিসাবে তুলনামূলকভাবে নতুন। তবে এক্স-রে তথ্যের মধ্যে ভারী মৌলগুলোর স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সম্ভবত সেগুলো ইতোমধ্যে আশপাশের গ্যাসের সঙ্গে মিশে গেছে।


 

আইভিএফ জটিলতায় যমজ সন্তানের পরিচয় ঘিরে চাঞ্চল্য দিল্লিতে

আইভিএফ জটিলতায় যমজ সন্তানের পরিচয় ঘিরে চাঞ্চল্য দিল্লিতে

অনলাইন ডেস্ক
আইভিএফ জটিলতায় যমজ সন্তানের পরিচয় ঘিরে চাঞ্চল্য দিল্লিতে
সংগৃহীত ছবি

ভারতের দিল্লিতে আইভিএফ চিকিৎসা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। রাহুল রাঠোর (৪১) ও তার স্ত্রী মীনু (৩৯) বহুদিন ধরে আরেকটি সন্তান নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। তাদের আগে থেকেই দুই কন্যাসন্তান ছিল। বয়স বাড়ার কারণে ২০২৪ সালের শেষ দিকে তারা ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মীনু যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পর থেকেই দম্পতির মনে সন্দেহ তৈরি হয়। তাদের দাবি, শিশু দুটির চেহারায় বাবা-মায়ের কারও সঙ্গে কোনো মিল নেই। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় চমকপ্রদ তথ্য আসে। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, যমজ দুই শিশুই জৈবিকভাবে রাহুল বা মীনুর কারোই সন্তান নয়। এমনকি শিশু দুটির মধ্যেও কোনো জৈবিক সম্পর্ক নেই বলে উল্লেখ করা হয় রিপোর্টে।

ভুক্তভোগী দম্পতি অভিযোগ করেন, দিল্লির গ্রেটার কৈলাশ এলাকার এসসিআই আইভিএফ ক্লিনিকে ভ্রূণ অদলবদল হয়েছে বা গুরুতর কোনো অনিয়ম ঘটেছে। তবে হাসপাতাল এই অভিযোগ অস্বীকার করে। হাসপাতালের দাবি, দম্পতির নিজস্ব জিনগত উপাদান চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত ছিল না। তাই তাদের সম্মতিতেই অজ্ঞাতনামা দাতার ভ্রূণ ব্যবহার করা হয়। তবে এই দাবি মানতে নারাজ রাহুল-মীনু। মীনু বলেন, যে সম্মতিপত্র দেখানো হচ্ছে, সেই সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। রাহুল বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে তিনি সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। সম্মতিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়ার কথা। কিন্তু সেই কাগজে নোটারিও করা হয়নি। 

দম্পতির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ একজন আইভিএফ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সেখান থেকেই তারা দিল্লির গ্রেটার কৈলাশ এলাকার এসসিআই আইভিএফ হাসপাতালের কাছে যান। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। তিন মাস পর, ওই বছরেরই ১৪ মে চিকিৎসক দল তাদের সুখবর দেয়। পাঁচটি সুস্থ ভ্রূণ সফলভাবে তৈরি হয়েছে। সেদিনই সেই পাঁচটির মধ্যে তিনটি ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দ্বারকার একটি হাসপাতালে মীনু যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সন্তানের জন্মের পর থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়। 

রাহুল পরে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে চান, কিন্তু ক্লিনিক প্রথমে আপত্তি জানায়। পরে ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি তারা দুটি ভিন্ন ডিএনএ পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানে নমুনা পাঠান।। জানুয়ারি মাসের ১০ ও ১৪ তারিখ পরীক্ষার ফল আসে। রিপোর্টে বলা হয়, শিশু দুটির জৈবিক বাবা-মা রাহুল ও মীনু কেউ নন।

১৭ জানুয়ারি দম্পতি পুলিশের কাছে যান। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় মার্চ মাসে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন। ২৩ মার্চ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবাংশী জানমেজা বিষয়টিকে গুরুতর বলে মন্তব্য করে ক্লিনিকের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেন। আদেশে বিচারক বলেন, নথিপত্রের সব তথ্য ও পরিস্থিতি একত্রে বিবেচনা করলে গুরুতর ও ভয়াবহ শাস্তিযোগ্য অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এর মধ্যে শুধু জালিয়াতি বা আইভিএফের নিয়ম ভঙ্গই নয়, শিশু পাচার ও অপহরণের ষড়যন্ত্রের বিষয়ও থাকতে পারে। অভিযোগকারীদের আসল সন্তানদের অপহরণ বা পাচার করার মত সম্ভবনাও এই পর্যায়ে নাকচ করা যাচ্ছে না। তাই বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
   
৩০ মার্চ আদালত আবারও পুলিশকে দ্রুত এফআইআর করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেয় এবং সব নথি সংরক্ষণের আদেশ দেয়। এরপর হাসপাতাল রিভিউ পিটিশন দাখিল করলেও তা পরে খারিজ হয়ে যায়। ৫ জুন আদালত জানায়, হাসপাতালের নথিতে অনিয়মের ইঙ্গিত রয়েছে। তাই পুরো বিষয়টি পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। বিচারক আরও বলেন, এই ধরনের জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাসপাতালের কাছেই থাকে। তাই তাদের নথি যাচাই ছাড়া সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়।

দম্পতির অভিযোগ, তারা সত্য জানার জন্য বারবার চেষ্টা করলেও কোনো সঠিক উত্তর পাচ্ছেন না। রাহুল বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তিনি কাজেও যেতে পারিনি। তারা শুধু জানতে চান আসলে কী হয়েছে। মীনু বলেন, শিশু দুটির বয়স এখন পাঁচ মাস। তাদের কাছে সব নথি আছে, তবুও কেউ তাদের কথা শুনছে না। তারা অভিযোগ করেন, পুরো আইভিএফ খাতে লাভকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, রোগীর অনুভূতিকে নয়।

সব বিতর্কের মধ্যেও রাহুল ও মীনু শিশু দুটিকে নিজেদের কাছেই রেখেছেন। তারা শিশু দুটির নাম দিয়েছেন চিকু ও স্ট্রবেরি। রাহুল বলেন, শিশু দুটি তার কাছে তারই মেয়ে। সত্য যাই হোক, তিনি তাদের বড় করবেন।
 
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ সব নথি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করছে।