• ই-পেপার

পিত্তথলির পাথর সব সময় নিরীহ নয়, অবহেলা করলে হতে পারে বড় বিপদ

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৪৪ জন

অনলাইন ডেস্ক
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৪৪ জন

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রন্ত হয়ে ৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১ জন রয়েছে।

এই সময়ে ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫ হাজার ৯৮৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ৬ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে দেশে চলতি বছরে ৭২৯ জনের মৃত্যু হলো। গত একদিনে হাম ও উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১১০৭ শিশুর।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাড়ে তিন মাস ধরে দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ৩ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭২৯টি শিশুর প্রাণহানি ঘটল। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ জন। আর বাকি ৬৩৬টি শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।

 মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৭টি শিশু।

ডায়াবেটিস না থাকলেও খাবারের পর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
ডায়াবেটিস না থাকলেও খাবারের পর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ জরুরি
প্রতীকী ছবি

ডায়াবেটিস না থাকলেও খাবারের পর রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ভবিষ্যতে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। খাবারের পর শরীর কীভাবে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার (১ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়। 

পুষ্টিবিদ নমামি আগারওয়ালের মতে, ভাত, রুটি বা পাউরুটির মতো কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়ার পর সেগুলো ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তে মিশে যায়। তখন অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নিঃসরণ করে, যা গ্লুকোজকে শরীরের কোষে পৌঁছে দিয়ে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। তবে খাবারের পর যদি রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায়, তখন সেটিকে পোস্ট-মিল বা পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল ব্লাড সুগার স্পাইক বলা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মোটে, অনেকের খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও খাবারের পর তা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে দুপুরের খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব, দ্রুত ক্লান্তি, কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা লাগা এবং মিষ্টি বা নাশতা খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চলতে থাকলে শরীরে প্রদাহ বাড়তে পারে। এতে ফ্যাটি লিভার, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কাও বাড়তে পারে।

এ ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। খাবারে আগে প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ সবজি খাওয়া, শুধু সাদা ভাত বা পাউরুটির মতো কার্বোহাইড্রেট না খেয়ে তার সঙ্গে ডিম, পনির, ডাল, দই বা সবজি রাখা এবং খাবারের পর ১০–১৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞড়া জানান, প্রতিটি খাবার নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। তবে শরীরের ক্ষুধা, শক্তির মাত্রা ও ক্লান্তির মতো সংকেতগুলো বুঝে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিআরএফ’র গবেষণা

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় দেরি করায় বাড়ছে ব্যয়, জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় দেরি করায় বাড়ছে ব্যয়, জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসা শুরুতে উদ্বেগজনক বিলম্বের চিত্র উঠে এসেছে বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (বিআরএফ) এক গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গেছে, রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর অর্ধেকেরও বেশি রোগীর চিকিৎসা শুরু হতে চার মাসের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করছে, বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় এবং মৃত্যুঝুঁকি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় দেখা যায়, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ৫৬ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকে চূড়ান্ত চিকিৎসা শুরু হতে চার মাসের বেশি সময় লেগেছে।

ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ৩৫৫ জন স্তন ক্যান্সার রোগীর ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিআরএফের বিজ্ঞানী ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন। গবেষণাদলে ছিলেন মোহাম্মদ নাঈম হাসান, সুমাইয়া খান তৃষা এবং ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ড. মো. ওয়াহিদ আখতার।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ রোগী উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তিন মাসের বেশি সময় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করেছেন। অন্যদিকে, ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে হাসপাতাল, রোগ নির্ণয় বা স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসা শুরু বিলম্বিত হয়েছে।

এতে আরো দেখা যায়, চিকিৎসকের কাছে প্রথমবার যাওয়ার সময় ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী ক্যান্সারের দ্বিতীয় ধাপে এবং ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ রোগী তৃতীয় ধাপে ছিলেন। তৃতীয় ধাপের রোগীদের মধ্যেই চিকিৎসা বিলম্বের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হওয়ায় অনেক রোগীর ক্যান্সার এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে, যেখানে চিকিৎসা আরো জটিল, ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

গবেষণায় চিকিৎসা বিলম্বের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও উঠে এসেছে। ৭৯ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, প্রথমে তারা মনে করেছিলেন স্তনের সমস্যাটি এমনিতেই সেরে যাবে। ৭৬ শতাংশ অবহেলার কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করেছেন। ৬৬ শতাংশ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ নারী স্তন পরীক্ষা করাতে বা এ বিষয়ে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেছেন এবং ৩৮ শতাংশ ক্যান্সার ধরা পড়বে কিংবা ক্যান্সারের ওষুধ প্রয়োগের চিকিৎসা নিতে হবে এই আশঙ্কায় চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেছেন।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, শিক্ষা, আয় এবং বসবাসের স্থানের সঙ্গে চিকিৎসা বিলম্বের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নিরক্ষর নারীদের চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি মাধ্যমিক বা তার বেশি শিক্ষিত নারীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। মাসিক পারিবারিক আয় পাঁচ হাজার টাকার কম হলে এ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের নারীদের চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে রংপুরে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ছয় গুণ। এছাড়া যেসব নারী স্বামীর সঙ্গে নিজের শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে সংকোচ বোধ করেন, তাদের চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ার আশঙ্কাও দ্বিগুণের বেশি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় গবেষকরা গ্রামাঞ্চলে স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয় সেবা সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যবিমার মতো আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছেন।

গবেষণার প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দ্রুত রোগ শনাক্ত করা। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত হলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় ও মৃত্যুঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসে।’