• ই-পেপার

এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

টানা দুই দফায় ভরিতে কত বাড়ল সোনা-রুপার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা দুই দফায় ভরিতে কত বাড়ল সোনা-রুপার দাম
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সোনা ও রুপার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। এ নিয়ে দুই দফায় মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। অন্যদিকে ভরিতে ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ নিয়ে দুই দফায় রুপার দাম বাড়ানো হয়েছে ৪০৮ টাকা।

সবশেষ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে টানা ২য় দফা সোনা-রুপার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
 
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। সোনার অলংকার ও রৌপ্যালংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

এর আগে, সবশেষ গত ২ জুলাই সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৪৩ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪২ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

এদিকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
 
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য রৌপ্যালংকার ও সোনার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

এর আগে সবশেষ গত ২ জুলাই সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯১ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৭ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ২৬ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দাম আরো বাড়ল

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দাম আরো বাড়ল
সংগৃহীত ছবি

টানা চার সপ্তাহ দরপতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নতুন প্রতিবেদনে আশানুরূপ অগ্রগতির দেখা পাওয়া যায়নি। তাই নিকটবর্তী সময়ে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা হ্রাস পেয়েছে। এতে করে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। খবর রয়টার্স

শুক্রবার (৩ জুলাই) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ২১ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ২৩ জুনের পর সর্বোচ্চ। আগামী আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৬ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, ‘গত মাসে মার্কিন কর্মসংস্থানে বড় ধরনের মন্দার কারণেই সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক এই মূল্যবৃদ্ধি আপাতত যৌক্তিক বলেই মনে হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত মাসে মার্কিন অ-কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ৫৭ হাজার। রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশিত ১ লাখ ১০ হাজারের চেয়ে এই সংখ্যা বেশ কম।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ১৯ ডলার, প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৭৮ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুরগির দাম বেড়েছে, সবজি আগের মতোই

অনলাইন ডেস্ক
মুরগির দাম বেড়েছে, সবজি আগের মতোই
সংগৃহীত ছবি

কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারে মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ মাছের দামও বেশি দাম থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। তবে সবজি, ডিম ও গরুর মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। 

​শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজারে দেখা গেছে, সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। এছাড়া ​সোনালি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায়।

বাজারে রুই মাছ আকারভেদে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ২৩০ থেকে ৫০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টাকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ক্রয়ে স্বস্তিতে ক্রেতারা। বর্তমানে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, করলা ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কহি ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা এবং পটল ৪০ টাকায়। এছাড়া আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে।​ মালিবাগ বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. রাসেল বলেন, ‘পাইকারি আড়তগুলোতেই মুরগির দাম বাড়তি। প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে, যার প্রভাব পড়েছে সরবরাহে। আড়তে দাম কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারব।’

​দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে বাজারে মিনিকেট, নাজিরশাইল ও বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। নতুন করে দাম না বাড়লেও সেই বাড়তি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে ​মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়।​ নাজিরশাইল কিনতে হচ্ছে মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি।এছাড়া ​বিআর-২৮ বা মাঝারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায়।

​খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা জানান, মিল পর্যায় থেকে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম কমানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব রয়ে গেছে।

মুরগি ও চালের বাজারে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও স্বস্তি দিচ্ছে সবজির বাজার। বাজারে শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। অধিকাংশ সবজি প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে।

সেগুনবাগিচা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান বলেন, সবজির দামটা এখন কিছুটা নাগালের মধ্যে আছে, এটা ভালো দিক। কিন্তু চালের দাম একবার বাড়লে আর কমে না। আর মুরগির দামও আবার বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়। দিকে, বাজারে তেল চিনি ডালের মতো অন্যান্য মুদিপণ্যের দামে প্রায় আগেই দামই আছে।

ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার

প্রথম বছরেই ২৩৩ কোটি টাকা মুনাফা

অনলাইন ডেস্ক
প্রথম বছরেই ২৩৩ কোটি টাকা মুনাফা

নিরবচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় উৎপাদন শুরুর প্রথম বছরেই ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি। এর মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে কারখানাটি।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে কারখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও প্রায় আট মাস পর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সার উৎপাদন শুরু হয়। মূলত এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যে এই ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

গত ২৯ জুন প্রকাশিত কম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন শুরু না হলেও ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও ঋণের সুদ পরিশোধের কারণে কম্পানির ৩৩৭ দশমিক ৮২ কোটি টাকা লোকসান হয়েছিল।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই কারখানাটি মুনাফা করলেও বাকি চারটি কারখানার সম্মিলিত লোকসান হয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা। মূলত পূর্ণ ক্ষমতায় কারখানা সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চাপে ও পরিমাণে নিরবচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক গ্যাস না পাওয়ায় এই লোকসান হয়েছে।

মুনাফার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সার উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। আর কারখানাটি পূর্ণ সক্ষমতায় সচল থাকায় আমরা প্রথম বছরেই মুনাফা করতে পেরেছি।’

দেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সার কারখানাটি নির্মাণ করে।

১১০ একর জমিতে নির্মিত এই কারখানার দৈনিক সার উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন, যা এটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম সার কারখানায় পরিণত করেছে।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কম্পানিটির মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩২ দশমিক ২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশের বাজারে সার বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা এবং সরকারি ভর্তুকি থেকে আয় হয়েছে ৮৯৯ কোটি টাকা।

কম্পানির মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯০১ কোটি টাকা। ১৭০ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর পরিচালন মুনাফা দাঁড়ায় প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা। 

এ ছাড়া নন-অপারেটিং উৎস থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। মূলত ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট (এফডিআর) এবং অন্যান্য বিনিয়োগের সুদ থেকে এই আয় হয়েছে। অর্থবছরে ব্যাংকগুলোতে কোম্পানির ২৫১ কোটি টাকার এফডিআর ছিল।

তবে ঋণের কিস্তি পরিশোধের পেছনে বড় অঙ্কের খরচ করতে হয়েছে। গত এক বছরে ঋণের সুদ ও আসলের কিস্তি বাবদ কোম্পানি ব্যয় করেছে প্রায় ৪৩৫ কোটি টাকা।

আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, কারখানাটির দীর্ঘমেয়াদি দায় ১২ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ১০ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা এবং সরকারের এডিপি ঋণ ১ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা।

২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি)-এর ঋণের স্থিতি ছিল ৭ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা এবং বহুপাক্ষিক বিনিয়োগ গ্যারান্টি সংস্থা (এমআইজিএ) সমর্থিত টার্ম লোনের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই দুই বিদেশি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে কম্পানিটি।

ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে শহীদুল্লাহ বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও কম্পানি মুনাফা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মুনাফার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কম হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটি প্রায় ৪০ দিন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে আমরা আমাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০ শতাংশ অর্জন করতে পেরেছি। যেহেতু অর্থবছর মাত্র শেষ হয়েছে, তাই আয়-ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাব এখনো সম্পন্ন হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি বিদেশি ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং উৎপাদন শুরুর পর থেকে কম্পানির নিজস্ব আয় থেকেই এই ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘১০ বছর মেয়াদি এই ঋণের এরই মধ্যে ৬টি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। যদি আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পাই এবং নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে পারি, তবে আগামী বছরগুলোতে কম্পানি ভালো অঙ্কের মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হবে।’

চার সার কারখানায় ৪১৪ কোটি টাকা লোকসান
শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিআইসি পাঁচটি ইউরিয়া এবং দুটি নন-ইউরিয়া সার কারখানা পরিচালনা করে। সব মিলিয়ে সংস্থাটির নিজস্ব ১১টি কারখানা রয়েছে এবং যৌথ অংশীদারিত্বে আরো ১০টি কারখানা পরিচালিত হচ্ছে।

পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে অর্থবছরে কেবল ঘোড়াশাল মুনাফা করেছে। বাকি চারটি কারখানা সম্মিলিতভাবে ৪১৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ২১৫ দশমিক ১৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কম্পানি লিমিটেড। শাহজালাল ফার্টিলাইজার কম্পানি লিমিটেডের লোকসান হয়েছে ১৩৪ কোটি টাকা, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের ৩৩ কোটি টাকা এবং যমুনা ফার্টিলাইজার কম্পানি লিমিটেডের ৩০ কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ২৮ হাজার টন ইউরিয়া, ৭২ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) এবং ৪৯ হাজার ৫৩২ টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) উৎপাদিত হয়েছে। দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ১৬ লাখ ৪৪ হাজার টন ইউরিয়া আমদানি করেছে।