• ই-পেপার

নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ভারতীয় ভিসা নিয়ে হাইকমিশনের বিশেষ বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
ভারতীয় ভিসা নিয়ে হাইকমিশনের বিশেষ বার্তা

দীর্ঘ দুই বছর পর গত ২৮ জুন বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট বা পর্যটন ভিসা চালু করেছে ভারত। ভিসা চালুর পর থেকেই দেশের ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভিসা আবেদনকারীদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে এক বার্তায় হাইকমিশন জানায়, বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ভারত ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া বিপুল সাড়ায় তারা উৎসাহিত।

বার্তায় বলা হয়, ভিসা পরিষেবা আরো বিস্তৃত করা এবং আবেদন প্রক্রিয়াকে আরো সাবলীল ও সুবিধাজনক করে তুলতে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় আবেদনকারীদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

এতে আরো বলা হয়, ভারতীয় হাইকমিশন ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করা এবং দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে আরো নিবিড় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে গত ২৫ জুন প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানান, ২৮ জুন থেকে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা সুবিধা আবার চালু করা হবে। 

ওই সময় তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে ভারতের ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি মানবিক দিক বিবেচনায় মেডিক্যাল ভিসা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে চিকিৎসাপ্রত্যাশীরা সহজে সেবা পান।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য শহরের আইভ্যাক কেন্দ্রেও এ সেবা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রায় সব ধরনের নিয়মিত ভিসা ইস্যু স্থগিত করে ভারত। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় দেশজুড়ে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম।

পরে আগস্টের শেষ দিকে সীমিত পরিসরে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া শুরু হলেও পর্যটন ভিসা চালু হয়নি। এ সময় শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় মেডিক্যাল, ব্যবসায়িক, শিক্ষার্থী ও সরকারি কিছু ক্যাটাগরির ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল।

লঘুচাপ রূপ নিতে পারে নিম্নচাপে, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
লঘুচাপ রূপ নিতে পারে নিম্নচাপে, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা
প্রতীকী ছবি।

কয়েকটি অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে তাপমাত্রা থাকবে প্রায় অপরিবর্তিত।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে আজ শুক্রবার সকালের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় বিরাজমান রয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সাগর উত্তাল থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাবে বলা হয়েছে, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

জলাশয় থাকবে উন্মুক্ত, জোরদার হচ্ছে নদী-খাল খনন কর্মসূচি : টুকু

বাসস
জলাশয় থাকবে উন্মুক্ত, জোরদার হচ্ছে নদী-খাল খনন কর্মসূচি : টুকু

হাওরাঞ্চলের মৎস্যজীবীদের জীবিকা নির্বাহের সুবিধার্থে দেশের সব উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে বোরো ফসল রক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদী ও খাল খনন কর্মসূচি আরো জোরদার করা হচ্ছে।

শুক্রবার নেত্রকোনা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। সরকারের মূল নীতি হচ্ছে—জাল যার, জল তার। এই নীতি অনুযায়ী সবার জন্য, বিশেষ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সুবিধার্থে জলাশয় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

ইজারা প্রথার কারণে সৃষ্ট সমস্যার কথা উল্লেখ করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইজারা দেওয়ার ফলে প্রভাবশালীরা যেভাবে হাওর বা জলাশয় দখল করে রাখতো এবং সাধারণ মানুষকে নামতে বাধা দিত, সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। সরকার আইনগতভাবে এই ধরনের সকল বাধা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবীরা নির্বিঘ্নে জলাশয়ে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

হাওরের জলাশয়গুলো ইজারামুক্ত করার প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন তারই যোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান এরই মধ্যেই খাল ও নদী খনন এবং জলাশয়কে কিভাবে ঠিক রাখা যায় এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন এবং উদ্বোধনও করেছেন।  এরইমধ্যে অনেকগুলো খাল ও নদী খনন করেছি আমরা। কাজেই এই নদীর নাব্য যেন না কমে যায় এবং জলাবদ্ধতায় যেন মানুষ দুর্ভোগে না পড়ে, জলাশয়গুলোতে যেন মৎস্য চাষ করতে পারে, সেই ব্যাপারে আমরা এরই মধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছি।

মতবিনিময়ের সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।

এছাড়াও জেলা বিএনপির নেতারা, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সার্কিট হাউজে এই ব্রিফিং শেষে দিনব্যাপী সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী জেলার মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলার ঘাটের পথসভায় অংশগ্রহণ এবং মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে রওনা হন।

দিনব্যাপী এই সফরে তিনি পরবর্তীতে খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের রোয়াইল ও নাওটানা সংযোগস্থলে ফিশারিতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, সদরের বাজোয়াইল কীর্তনখোলা ফিশারি এবং মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর চিরাডুবি হাওরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সফর শেষে আজ রাতেই প্রতিমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

৪ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
৪ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
ফাইল ছবি

উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এফএফডব্লিউসি প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কমেছে। তবে আগামী চার দিনে পানির স্তর বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পঞ্চম দিনে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে।

৪-৭ জুলাই পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 
এতে আরো বলা হয়, আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচেই প্রবাহিত হবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, ‘জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে সব সময়ই বন্যার ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যা দেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ কারণেই চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’