• ই-পেপার

কমলগঞ্জে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ

ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা : মূল হোতাসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা : মূল হোতাসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন হত্যা মামলার মূল হোতাসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. জাকির হোসেন (৪৭), মো. ওমর ফারুক (২২) ও মো. সোহেল (৫১)। তাদেরকে মাসদাইর ও বন্দর থানার সেলসারদী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় নিহতের নগদ ৮৬ হাজার টাকা, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাংকের চেক বই, ভিসা কার্ড, টিফিন ক্যারিয়ার এবং মরদেহ বহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত মিশুক জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই সকাল ৮টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর বাজার এলাকার ‘সুমাইয়া টেলিকম’-এর বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন (৬১) বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে একই দিন ফতুল্লা মডেল থানায় একটি জিডি করে।

পরদিন ২ জুলাই সকালের দিকে ফতুল্লার জামতলা এলাকায় সড়কের পাশে তোষকে মোড়ানো অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মোতালেব হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।

সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের মাথায় আঘাত, গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের আলামত পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মীম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ আরো জানায়, মোতালেব হোসেনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাকে কৌশলে একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ তোষকে পেঁচিয়ে মিশুকে করে জামতলা এলাকায় ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী কালের কণ্ঠকে জানান, মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুই আসামি ওমর ফারুক ও সোহেলকে আদালতের আদেশে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এনজিওর টাকা আত্মসাৎ : পুলিশের জালে দাগনভূঞার ম্যানেজার

ফেনী প্রতিনিধি
এনজিওর টাকা আত্মসাৎ : পুলিশের জালে দাগনভূঞার ম্যানেজার

ফেনীর দাগনভূঞায় ‘আম্বালা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ২১ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত ওই এনজিওর ম্যানেজার মো. এফতাদুল ইসলামকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে আত্মসাৎ করা টাকার মধ্যে ১৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

টাকা আত্মসাতের পর পলাতক ছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে ঢাকার সাভার এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এনজিওর বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে ছিলেন এফতাদুল ইসলাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাগনভূঞা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কমল মালাকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল ঢাকার সাভারে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ১৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান জানান, এনজিওর টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা টাকাসহ আজ শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সন্দ্বীপ

কুকুরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা, যুবকের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
কুকুরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা, যুবকের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কুকুরকে পানিতে চুবিয়ে মারার অপরাধে আব্দুল হান্নান (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ করবে না মর্মে তার কাছ থেকে একটি লিখিত মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল হান্নান উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের হাজীর হাট এলাকার বাসিন্দা।

​স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় হাজীর হাট এলাকায় নিজের বাড়িতে কুকুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে আব্দুল হান্নান নামের ওই ব্যক্তি একটি কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে বাড়ির পাশের একটি ডোবার পানিতে চুবিয়ে কুকুরটির মৃত্যু পর্যন্ত ডুবিয়ে রাখে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সর্বত্র তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

​ভিডিওটি নজরে আসার পর থেকেই সন্দ্বীপের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা শুরু করে। গতকাল থেকে বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্ত আব্দুল হান্নানকে আটক করা হয়।

পরে আটক ব্যক্তিকে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বন্যপ্রাণী ও পশু নির্যাতন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন।

রাজবাড়ীতে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীর পাংশায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. ইকবাল হোসেন (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেন পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নাছনা মুরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ৩১ বছর বয়সী এক নারী বৃহস্পতিবার পাংশা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর প্রতি অশালীন আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করে আসছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে তিনি ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রসদৃশ একটি বস্তু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। লজ্জা ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় ভুক্তভোগী তখন বিষয়টি কাউকে জানাননি।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগী বাড়িতে অবস্থানকালে অভিযুক্ত আবারও তার ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর তিন বছর বয়সী ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করা হয়।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শাহারিয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে নাছনা মুরাদপুর এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেন। শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।