• ই-পেপার

বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য ‘ফ্রি শাটল বাস’ চালু করল বেবিচক

পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় ৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় ৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় কমিয়ে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দেশের প্রধান প্রধান উৎপাদন এলাকায় আরো ৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ (এয়ার ফ্লো) মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে আধুনিক সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা সম্প্রসারণে নতুন একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। এদিন সংসদে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় রোধ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে একাধিক বাস্তবমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারির ভিত্তিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ শীর্ষক চলমান প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরসহ পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে ৯০০টি মডেল সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি সংরক্ষণ ঘরের ধারণক্ষমতা ১০ থেকে ১২ টন। এসব সংরক্ষণাগার কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ও রসুন দীর্ঘ সময় সংরক্ষণে সহায়তা করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং বাজারসংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পেঁয়াজ ও রসুনের পচনশীলতা কমানো সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ১৯ হাজার কৃষকের মধ্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ‘বায়ুপ্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ শীর্ষক নতুন একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফরিদপুরসহ দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় মোট ৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ মেশিন স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং কৃষকরা মৌসুম শেষে ন্যায্যমূল্যে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।

পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সম্প্রসারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের পরিবেশ ও বনায়ন আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশে বৃক্ষরোপণকে সর্বপ্রথম একটি রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন এবং ১৯৭৯ সালে প্রথম জাতীয় বন নীতি প্রণয়ন করেন। পরবর্তীতে, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালে জাতীয় বৃক্ষমেলার ঐতিহাসিক পথচলা শুরু করেন এবং অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক বনায়নের এক অনন্য দিগন্তের উন্মোচন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রযুক্তি ও প্রকৃতির মেলবন্ধনে টেকসই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষমেলায় ১২০টি স্টল থাকবে।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। বনায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নতুন ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ তৈরির পাশাপাশি ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন পরিবেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ১ হাজার ৫২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, গত চার মাসে ৫৮১ একরের বেশি জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব বিষয়ক নির্দেশিকা-২০২৬’ এবং সীসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইউনিসেফের সহায়তায় একটি জাতীয় কৌশলপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিববৃন্দ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষকসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব
সংগৃহীত ছবি

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা থেকে দেশের অর্থনীতিকে বের করে আনতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জরুরি নীতি-সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)।

সংগঠনটির মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দ্রুত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি গ্রহণের বিকল্প নেই।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সমপ্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা সুরক্ষার বিষয়। টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে আরো ত্বরান্বিত করতে হবে।’

সংলাপে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ এবং টেকসই জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে ৭ দফা নীতি-প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৈষম্যমূলক এসআরও বাতিল, ২৫ হাজার কোটি টাকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি তহবিল গঠন, গৃহস্থালি ও কৃষি-সৌরবিদ্যুতে প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অব্যবহৃত জমিতে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন, ‘সবুজ জেলা’ কর্মসূচি চালু, বছরে ১০ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন ইউটিলিটি-স্কেল সৌর প্রকল্পে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা।

সংলাপে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির স্থাপিত সক্ষমতা মাত্র ১ হাজার ৬৭৯ মেগাওয়াট। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনের সরকারি লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু বড় বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ পরিবার, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সৌর সরঞ্জামের ওপর কর-ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে এনবিআরের জারি করা একটি এসআরওর মাধ্যমে সেই সুবিধা কেবল দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি (পিপিএ) থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ফলে গৃহস্থালি ছাদ সৌরবিদ্যুৎ, সৌরসেচ, সৌরভিত্তিক পানি সরবরাহ এবং কৃষিভিত্তিক সৌর উদ্যোগগুলো কার্যত কর-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই বৈষম্যমূলক এসআরও বাতিল করে সবার জন্য সমান কর-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়নের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে বিডব্লিউজিইডি বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ২৫ হাজার কোটি টাকার (প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেয়। এ তহবিল থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পূর্বতহবিল (প্রি-ফাইন্যান্সিং) দেওয়া হবে এবং তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ বিতরণ করবে।

বিডব্লিউজিইডির সদস্যসচিব হাসান মেহেদী বলেন, প্রতি ১ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমাতে পারে। তাই ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত গৃহস্থালি ও কৃষি-সৌরবিদ্যুতে প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি সরকারের জন্য ব্যয় নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের কার্যকর বিনিয়োগ।

নারী, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ প্রণোদনারও প্রস্তাব দেন তিনি।

কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরে একগুচ্ছ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষিযন্ত্রের সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষিসেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়ার তথ্য, বাজারদর, কৃষি পরামর্শ, ই-এক্সটেনশন সেবা এবং কৃষিসেবার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি এবং সরকারি সেবা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রম সংকট মোকাবেলা এবং কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

সংসদ নেতা জানান, কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন, জিপিএস, স্যাটেলাইট তথ্য ও বিগ ডাটাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা আরো কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক হবে।

তিনি আরো বলেন, তথ্যনির্ভর প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার চালুর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুষম, নিরাপদ ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে পুনর্বিন্যাস ও বিকশিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের কোন এলাকায় কোন সময়ে কোন ফসল ভালো হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কৃষিকে জলবায়ু-স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে দেশের কৃষি আরো উৎপাদনশীল, লাভজনক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে পরিণত হবে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।