• ই-পেপার

নরসিংদীতে ভারি বর্ষণে মাটির ঘরের দেয়ালধসে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের তালা

৫ দিনের ছুটি নিয়ে অফিস ছাড়লেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
৫ দিনের ছুটি নিয়ে অফিস ছাড়লেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরিশালের নবনিযুক্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছেন শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব-এর নেতারা। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। 

এর আগে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে প্রায় দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ করতে দেখা যায় চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একাংশকে। তবে তার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন বরিশাল বিএনপির একটি পক্ষ। তারা আন্দোলনকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। তবে এতে কোনো কাজ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চাপের মুখে পরিচালক ৫ দিনের ছুটি নিয়ে অফিস ত্যাগ করতে বাধ্য হন। 

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মনিরুজ্জামান জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ছিলেন। তাই তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিসেবে গত ৫ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আদেশে নিয়োগ পান সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তিনি ওই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পূর্বে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে টানা চার বছর সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এবং পরবর্তীতে দেড় বছরেরও বেশি সময় উপপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। 

নবনিযুক্ত পরিচালকের অনুসারী শেবাচিম-এর-৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফাহিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, শেবাচিম-এর উপপরিচালক থাকার সময় নবনিযুক্ত পরিচালক মনিরুজ্জামান তাদের অনেক হেল্প করেছেন। আওয়ামী লীগের চাপে তিনি কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন। এখন তাকে দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করা সমীচীন নয়। 

তবে শেবাচিম-এর-৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ নোমান কালের কণ্ঠকে বলেন, মনিরুজ্জামান শাহীন স্বৈরাচারের দোসর। জুলাই আন্দোলনের সময় আমাদের চিকিৎসাসেবা পেতেও বাধা দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া জুলাইয়ের বিরুদ্ধে শান্তি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তাই তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব-এর শেবাচিম শাখা সভাপতি সম্পাদক ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সময় তার বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড রয়েছে। তাকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দায়িত্বে দেওয়ায় চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখ থেকে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছি। তিনি পাঁচ দিনের ছুটি নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। 

নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। পরবর্তীতে চাকরিতে যোগদান করে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব-এর সঙ্গে আছি। জুলাই আন্দোলনের সময় আমি শিক্ষার্থীদের বেশ সহায়তা করেছি। কিন্তু এখন নব্য কিছু বিএনপি আমার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ৫ দিনের ছুটি নিয়ে অফিস ত্যাগ করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মৌলভীবাজারে সংরক্ষিত বনভূমি থেকে ৩.২৯ হেক্টরের অবৈধ পান বাগান উচ্ছেদ

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে সংরক্ষিত বনভূমি থেকে ৩.২৯ হেক্টরের অবৈধ পান বাগান উচ্ছেদ
ছবি: কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের কুরমা বন বিটের কুরমা খাসিয়া পুঞ্জি সংলগ্ন ছোট পিকল এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা প্রায় ৩.২৯ হেক্টরের অবৈধ পান বাগান উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ।

সোমবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত দিনব্যাপী অভিযানে প্রায় এক হাজার পানগাছের চারা উপড়ে ফেলা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া। এ সময় কুরমা বিট কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বনরক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।

বন বিভাগ জানায়, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে পান, লেবু, সুপারিসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের চাষের কারণে প্রাকৃতিক বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে। এতে বনভূমির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ কারণে বন সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে সরকার অবৈধ দখল ও চাষাবাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বনভূমির ওই অংশ দখল করে বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর বন আইনের আওতায় অভিযান চালিয়ে জমিটি দখলমুক্ত করা হয়।

রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া বলেন, ‘সংরক্ষিত বনভূমি দখল ও অবৈধ পান চাষের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন আইনে একটি পিওআর  মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংরক্ষিত বনভূমিতে কোনো ধরনের অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ বা কৃষিকাজ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বনভূমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আরো কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

বন বিভাগ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনভূমি দখল প্রতিরোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বনভূমি দখল ও অবৈধ চাষাবাদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ডুবে শিশুর মৃত্যু

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ডুবে শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের রাউজানে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ডুবে আড়াই বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর সোয়া ২টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ডাবুয়া এলাকার আবু তালুকদার বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

মৃত শিশুর নাম মো. মোস্তাকিম। সে ওই এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ পারভেজ হোসেনের ছেলে। 

প্রতিবেশী মো. রহিম ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে একটি খাল রয়েছে। খালের পাশে শিশুটি খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে গিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মিনহাজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে মোস্তাকিম নামের এক শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখি সে মারা গেছে। 

১০ আগস্ট থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চলবে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন

অনলাইন ডেস্ক
১০ আগস্ট থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চলবে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে আগামী ১০ আগস্ট থেকে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন এই ট্রেন চালুর ফলে গোপালগঞ্জসহ ওই রুটের বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের যাতায়াত আরো সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম), রাজশাহীর কার্যালয় থেকে (৭ জুলাই) জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রেলওয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট ১৩৬ নম্বর ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে নতুন এই কমিউটার ট্রেন। ট্রেনটি ঢাকা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ পৌঁছাবে। ফিরতি ১৩৫ নম্বর ট্রেন গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।

ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী ট্রেনটি কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, শিকারপুর, ভাঙ্গা জংশন ও নগরকান্দা স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। অন্যদিকে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি মহেশপুর, কাশিয়ানী জংশনসহ নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে থামবে।

রেলওয়ের তথ্যমতে, ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেনটির মোট চলাচলের দূরত্ব ১৮৮ কিলোমিটার। ট্রেনটি প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। জয়দেবপুর কমিউটারের আট কোচবিশিষ্ট রেক দিয়ে ট্রেনটি পরিচালিত হবে এবং রেকের বেইজ, ওয়াটারিং ও ক্লিনিংয়ের কাজ ঢাকায় সম্পন্ন করা হবে।