• ই-পেপার

আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নুর

অর্থপাচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্থপাচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তবে এ ধরনের অর্থপাচারের বিষয়টি প্রমাণ করা সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি উত্থাপন করেন রুমিন ফারহানা।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এক ঘণ্টা হাত উঁচিয়ে ছিলাম, এরপর কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আমদানি-রপ্তানির আড়ালে প্রতিনিয়ত অর্থ পাচার হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হলো, টাকা পাচারের বিরুদ্ধে বাণিজ্যমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নেবেন?

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অনেক কিছু ঘটে। অর্থপাচারের বিষয়টি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে। এটি শুনতে যত সহজ, প্রমাণ করা তত কঠিন। দেশে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে। নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন কোন পণ্যের মাধ্যমে কত অর্থ পাচার হচ্ছে। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে বর্তমানে যে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, উত্তরণের পর তার বড় অংশ হারাতে হবে।

তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার বাণিজ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। ওই সময়ে রফতানি আয় ছিল ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

তিনি বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই এখনও তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এ নির্ভরতা কমাতে চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিক খাতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, নতুন বাজার অনুসন্ধান, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা এবং রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মোবাইলের স্ক্রিন থেকে শিশুদের মাঠে ফেরাতে সংসদে জোর দাবি

খেলার মাঠ ও পার্ক দখলমুক্ত ও নিরাপদ করার প্রতিশ্রুতি স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
খেলার মাঠ ও পার্ক দখলমুক্ত ও নিরাপদ করার প্রতিশ্রুতি স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

ইট-পাথরের নগরে বন্দি শিশু-কিশোরদের মোবাইলের পর্দা থেকে বের করে আবার খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের খেলার মাঠ ও পার্কগুলো দখলদার এবং মাদকসেবীদের কবল থেকে মুক্ত করে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে আনা জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে নোটিশটি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের পার্ক ও খেলার মাঠ একসময় শিশু-কিশোরদের আনন্দ আর বয়স্কদের অবসরের জায়গা ছিল। কিন্তু এখন অনেক মাঠ ও পার্ক মাদক কারবারি, বখাটে ও অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কোথাও শিশু পার্কের নামে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে, কোথাও হাট-বাজার বসিয়ে মাঠের অস্তিত্ব সংকুচিত করা হয়েছে। ফলে নিরাপদ পরিবেশের অভাবে শিশুরা মাঠ ছেড়ে মোবাইল ফোনের ভার্চুয়াল জগতে আশ্রয় নিচ্ছে।

খেলার মাঠকে নগরের ‘ফুসফুস’ উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ঢাকা সিটির ১২৯টি ওয়ার্ডে মাত্র ২৩৫টি খেলার মাঠ রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারে মাত্র ৪২টি মাঠ। বাকি মাঠগুলোর বড় অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ধূপখোলা মাঠ, শ্যামলী মাঠ এবং মিরপুরের কয়েকটি মাঠে নিয়মিত বাজার বসিয়ে খেলার পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় ১২৬টি মাঠ হারিয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ পরিবেশে গড়ে তুলতে মাঠ ও পার্ক রক্ষায় তিনি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, উত্থাপিত তথ্যের বেশিরভাগই সত্য। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বহু মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখল করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলো উদ্ধার করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে। গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্ককে হকার ও অপরাধীদের দখলমুক্ত করে আধুনিক পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া মতিঝিল পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, রসুলবাগ মাঠ, খিলগাঁও-বাসাবো মাঠ, সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, হাজারীবাগ পার্ক ও আমলীগোলা খেলার মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৮টি মাঠ ও পার্ক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকাতেও নতুন মাঠ ও পার্ক নির্মাণ এবং সংস্কার কার্যক্রম চলছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এখন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে ইন্টার-স্কুল ফুটবল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা দেশব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

পরে একটি সম্পূরক প্রশ্নে নিলুফার চৌধুরী মনি মাঠ ও পার্কে মাদকসেবীদের বিচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানতে চান, শিশু-কিশোরদের মাদকের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যতম বড় সামাজিক ব্যাধি মাদক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগ করে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যুবসমাজ, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে মাঠ ও পার্কগুলো আরও নিরাপদ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংসদে অভিযোগ

বিদেশে ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশে ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার
সংগৃহীত ছবি

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের বড় একটি অংশ যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্যরা নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরু জানিয়েছেন, প্রবাসীদের অভিযোগ ও সেবা নিশ্চিত করতে ১৬১৩৫ নম্বরে টোল-ফ্রি হটলাইন চালু রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এজেন্সির বাইরে সরাসরি কর্মী পাঠানোর জন্য ‘অ্যাডভান্স পুল’ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন লাখের বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। তাদের অনেকেই নিরাপত্তাহীনতা, বেতন বঞ্চনা ও চুক্তি লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। এমনকি প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার হন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নারী কর্মীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার হটলাইন, সেফ হোম, বীমা সুবিধা ও নিয়োগকর্তা যাচাইয়ের মতো সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে কি না, তা জানতে চান ওই সংসদ সদস্য।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ১৬১৩৫ নম্বরে একটি টোল-ফ্রি হটলাইন পরিচালিত হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকেও প্রবাসীরা যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যার কথা সেখানে জানাতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও নিয়মিত সহায়তা দিয়ে থাকে।’

তিনি বলেন, অতীতে অনেক দেশের সঙ্গে শ্রমবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) না থাকলেও এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে হয়রানির ঘটনায় প্রতিকার দাবি করা সহজ হয়েছে।

সেফ হোম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি সেফ হোম রয়েছে। এ ছাড়া ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরো কয়েকটি দেশে পর্যায়ক্রমে সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা নারী কর্মীর সংখ্যাও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, এখন আমরা নারী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক। কর্মপরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের পাঠানো হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা একটি অ্যাডভান্স পুল গঠনের কথা ভাবছি। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়োগকর্তারা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরাসরি কর্মী নিতে পারবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমবে এবং মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তদারকি বাড়বে।’

এদিকে সম্পূরক প্রশ্নে বিরোধী দলের আরেক সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা এই মানুষগুলো বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, অনেক শ্রমিক সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরছেন। প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার দূতাবাসভিত্তিক সেবা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে আইনি সহায়তা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। সোমবার (৮ জুন) সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং একটি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

আরো পড়ুন
আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নূর

আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নূর

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে। এ নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে একই ধরনের নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে।

তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনার আলোকে এসব খাতের আংশিক রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক রপ্তানি বৃদ্ধি ও পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে জাপানের ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেলের আদলে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় দেশের ৬৪ জেলার জন্য ইতোমধ্যে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরো পড়ুন
পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশে সঞ্চালন ব্যবস্থা ‘স্মার্ট’ করার নির্দেশ জ্বালানি মন্ত্রীর

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশে সঞ্চালনব্যবস্থা ‘স্মার্ট’ করার নির্দেশ জ্বালানিমন্ত্রীর

 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানিকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি সদস্য দেশসমূহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ অন্যান্য সম্ভাব্য বাজারের সঙ্গে ইপিএ, সিইপিএ ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, টেকসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রচলিত বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাইরে নতুন বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিআইএসভুক্ত দেশ এবং বিভিন্ন আফ্রিকান দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও সিআইএসভুক্ত দেশগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও সিআইএস অঞ্চলে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিআইপি মর্যাদা ও এক্সপোর্ট ট্রফি প্রদানের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানিকারকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তার জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ‘৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট ঋণ তহবিল’ গঠন করেছে, যেখানে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করা হয়েছে এবং বাণিজ্য উইংগুলো রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাংলাদেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে।

পণ্যের বৈচিত্র্য, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’কে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা রপ্তানি পণ্য ঘোষণা করেছে।

তিনি আরো জানান, পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করেছে, যা রপ্তানি উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে ইপিবি ৪৬টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে তাদের ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পার্শ্ব-আয়োজন হিসেবে ৮টি সেমিনারের আয়োজন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে (গ্লোবাল ভ্যালু চেইন) অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং রপ্তানিনির্ভর বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এফটিএ, ইপিএ ও সিইপিএভিত্তিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

এলডিসি উত্তরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম মেনে নগদ সহায়তার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত বিকল্প প্রণোদনা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি আরো গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এলডিসি-উত্তর সময়ে বাংলাদেশ নির্বিঘ্ন ও টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া জিসিসি, মার্কোসুরভুক্ত দেশ, রাশিয়া, পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। ভিয়েতনাম, হংকং, তুরস্ক ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও যথাসময়ে সরকারি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।