• ই-পেপার

১০০ দিনের অপরাধের চিত্র সংসদে তুলে ধরলেন রুমিন ফারহানা

আইজিপির সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আইজিপির সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ স্টেফান লিলারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ।

পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ স্টেফান লিলারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। সোমবার (৮ জুন) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ এ সাক্ষাতে ইউএনডিপির বিদায়ি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ স্টেফান লিলার আইজিপিকে অভিনন্দন জানান। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার, কমিউনিটি পুলিশিং, মানবাধিকার এবং পুলিশের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।

এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির বিদায়ি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির আগ্রহকে স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশ এবং ইউএনডিপির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সাক্ষাৎকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

বাসস
প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উপলক্ষে সোমবার (৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিবসটি প্রতি বছর আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের পণ্য ও সেবার নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং আস্থার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম (আইএএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (আইএলএসি) প্রতি বছর ৯ জুন বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস হিসেবে পালন করে।’

আরো পড়ুন
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা : মাহদী আমিন

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা : মাহদী আমিন

 

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবন, আস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উদযাপনের উদ্যোগ সময়োপযোগী।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমানে ভোক্তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু পণ্যের গুণগত মানই নয়, বরং উৎপাদনের নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নেন। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাক্রেডিটেশন একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে পণ্য ও সেবার গুণগত মান যাচাই করে। এটি শুধু একটি সনদ বা স্বীকৃতি নয়, দেশের শিল্প খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এর মাধ্যমে বিএবি বাংলাদেশের পণ্য ও সেবাকে বিশ্ববাজারে আরো গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। এ পর্যন্ত বিএবি দেশে ১৬৮টি সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করেছে। বর্তমানে পাঁচটি ক্ষেত্রভিত্তিক স্কিমের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস দেশের মান অবকাঠামোকে আরো শক্তিশালী করবে এবং উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরো ত্বরান্বিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা : মাহদী আমিন

বাসস
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ‘দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।’ একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও উদ্যোক্তা দক্ষতা বিকাশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সনদনির্ভর না হয়ে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।’

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা, মননশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটবে।’

তিনি বলেন, “আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার ফল বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, প্রযুক্তি ও কর্মদক্ষতায়ও সমানভাবে এগিয়ে যাক। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন পাঠ্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন বিষয়। এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক আচরণ ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা গড়ে তোলা হবে।”

মাহদী আমিন বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রীড়া বিষয়টি নতুন সাবজেক্ট হিসেবে চালু করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়টিও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি বিষয় থাকবে, যেখানে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা এবং একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিষয়গুলো শেখানো হবে।”

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদ্যমান শিক্ষা-কাঠামোর মধ্যেই একটি বিস্তৃত অধ্যায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হবে।’

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা একদিনে কিংবা এক বছরে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব জায়গায় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন, আমরা তা বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে করব। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ থাকবে।’

নতুন কারিকুলাম প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন বই প্রণয়ন ও ছাপানোর জন্য সরকারের হাতে মাত্র তিন থেকে চার মাস সময় ছিল। ফলে সব পরিবর্তন একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আগামী বছর আরও বিস্তৃত হবে।

তনি আরও বলেন, “আমরা বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করছি। তিন-চার মাসে শতভাগ পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে আগামী বছর আরও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে এবং ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের প্রায় ১৪ লাখ ট্যাব প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

মাহদী আমিন দেশের শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এ বছর ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। বালক ও বালিকা মিলিয়ে এই অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি বড় অর্জন।

তিনি বলেন, “ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে চাই। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিযোগিতা চলছে। আগামী ২০ জুন জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”


শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা বিকাশে ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ নামে একটি জাতীয় কর্মসূচি চালুর কথাও জানান তিনি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় ও জাতীয় সমস্যার সমাধানে উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী ভালো উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আসবে, তাদের জন্য সিড ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা চাই তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠুক এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।”

কারিগরি শিক্ষার প্রসার নিয়ে তিনি বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্কিলস কম্পিটিশন, ক্যারিয়ার ফেয়ার এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তার ভাষায়, “আমরা চাই কারিগরি শিক্ষা একটি সম্মানজনক শিক্ষাধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই যেন শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।”

এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা হবে।

সরকারি দলের ঠিকাদাররা কাজ পাচ্ছেন না, সংসদে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি দলের ঠিকাদাররা কাজ পাচ্ছেন না, সংসদে উদ্বেগ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়নকাজে বহিরাগত ঠিকাদারদের আধিপত্য এবং কাজ বারবার হাতবদলের কারণে গ্রামীণ অবকাঠামোর মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্যরা স্থানীয় ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিদ্যমান ক্রয়বিধি (পিপিআর) পর্যালোচনা করে স্থানীয় যোগ্য ঠিকাদারদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি উত্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘এলজিইডির মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হচ্ছে। এসব ঠিকাদার নিয়মিত কাজ তদারকি করেন না এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কেও পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না।’

সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কাজগুলো একাধিকবার হাতবদল হওয়া। মূল ঠিকাদার কাজ নিয়ে পরে স্থানীয় পর্যায়ে অন্যদের কাছে ছেড়ে দেন। এতে মাঝপথে বিপুল অর্থ চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত কম বাজেটে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করা হয়। ফলে কাজের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় পেশাদার ঠিকাদারদের সুযোগ দেওয়া হলে তারা এলাকার প্রয়োজন সম্পর্কে বেশি অবগত থাকেন এবং জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহির কারণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন।’

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এলজিইডির কাজ সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুসারে সম্পন্ন করা হয়। পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমিত দরপত্রের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার ঠিকাদাররাই অংশ নিতে পারেন। তবে উন্মুক্ত দরপত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের যেকোনো প্রান্তের ঠিকাদার অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’

পরে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন ই-জিপি ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, অতীতে প্রভাবশালী কিছু ঠিকাদার কাগজে-কলমে শক্তিশালী প্রোফাইল দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাজ পাচ্ছেন। কিন্তু তারা নিজেরা কাজ না করে পর্দার আড়ালে থেকে একাধিক ধাপে কাজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। দাম কমতে কমতে শেষ পর্যায়ে যে ঠিকাদার কাজ করেন, তিনি বাধ্য হয়ে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করেন। এর ফলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের এই বাস্তব সমস্যার বিষয়ে সরকার পুরোপুরি অবগত। কাজের হাতবদল এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, যোগ্য স্থানীয় ঠিকাদাররা যাতে ন্যায্যভাবে কাজ পান এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর গুণগত মান নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যে বিদ্যমান পিপিআর পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’