চাকরির প্রস্তাবের আড়ালে সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক সদস্য এবং সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে চীনা গুপ্তচররা। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘ফাইভ আইজ’ গোয়েন্দা জোটের সদস্য দেশগুলো।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই , যুক্তরাজ্যের এমআই৫ , কানাডার সিএসআইএস , অস্ট্রেলিয়ার এএসআইও এবং নিউজিল্যান্ডের এনজেড এসআইএস যৌথভাবে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করে। এ প্রতবেদনে জানানো হয়, চীনা সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছেন।
গুপ্তচররা নিজেদের মানবসম্পদ (এইচআর) কর্মকর্তা বা নিয়োগদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে লিংকডইন, ইনডিড ও আপওয়ার্ক এর মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে চাকরির বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। এসব বিজ্ঞাপন দেখতে সাধারণ চাকরির সুযোগের মতো হলেও এর মূল উদ্দেশ্য গোপন তথ্য সংগ্রহ করা।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এসব ভুয়া নিয়োগদাতারা সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারী ব্যক্তি, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং সামরিক সদস্যদের বেশি টার্গেট করছেন। তবে শুধু তারাই নন, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা ফ্রিল্যান্স লেখকরাও তাদের নজরদারির তালিকায় রয়েছেন।
প্রতারণার অংশ হিসেবে প্রথমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে অনলাইনে সাক্ষাৎকারের সময় তাদের সরকারি সংযোগ, সামরিক কার্যক্রম বা সংবেদনশীল তথ্য সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পরীক্ষামূলক কাজ হিসেবে চীন-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রতিবেদন লিখতেও বলা হয়।
এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে আরো সংবেদনশীল ও অপ্রকাশিত তথ্য চাওয়া শুরু হয়। বিষয়টি গোপন রাখতে যোগাযোগ এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপে স্থানান্তর করা হয়। বিনিময়ে কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থ পাঠানো হয় পেপ্যাল , ওয়াইজ , জেল কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে ফৌজদারি মামলা, চাকরি হারানো এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল হওয়ার মতো গুরুতর পরিণতি হতে পারে। এমনকি সাধারণ বা অশ্রেণিবদ্ধ তথ্যও অন্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
ফাইভ আইজ জোটের মতে, চাকরির প্রলোভনে গোপন তথ্য সংগ্রহের এই কৌশল বর্তমানে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। তাই অপরিচিত নিয়োগদাতা ও সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।




