মেগাপ্রকল্প বানিয়ে মানুষকে চমকে দিয়ে উন্নয়নের ফানুস তৈরি করে মেগালুটের ব্যাপারে এই সরকারের কোনো আগ্রহ নেই। ফ্যাসিস্ট আমলে গৃহীত যেসব মেগাপ্রকল্প এখন বন্ধ করে দিলে বড় ধরনের অপচয় ও সমস্যা হতে পারে, সেগুলো রেশনালাইজড করতে বাছাই করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘সরকার মেগাপ্রকল্পের ব্যাপারে রক্ষণশীল। মেগাপ্রকল্পের চাইতে মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক ও প্রয়োজনীয় প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার হতাশাজনক। এই অবস্থা উত্তরণে সরকার সচেষ্ট।’
আরো পড়ুন
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, নিন্দা দেশটির
শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) বাজেটের সুফল পেতে অর্থের জোগান ও বাস্তবায়ন দক্ষতা নিয়ে এক ছায়া সংসদে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘করের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে খুদে দোকানিরা যাতে ন্যূনতম কর দিতে পারে সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতেই কর আদায় করা সরকারের উদ্দেশ্য। সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতির অভিঘাত থেকে রক্ষার জন্য ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। করের পরিধি বাড়াতে গিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের ভুলনীতি, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি ভেঙে পড়েছিল। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। সে সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সুশাসনের অভাবে বাজেটের প্রত্যাশিত সুফল জনগণ পায়নি। বাজেটের সুফল পেতে অর্থের জোগান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর বাস্তবায়ন দক্ষতাও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী সরকারের আমলে বাজেটের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পই ছিল অতিমূল্যায়িত। মেগাপ্রকল্পের আড়ালে মেগাচুরি হয়েছে। এমনকি ছোট ছোট প্রকল্পগুলোতেও চুরি মেগাপ্রকল্পের চুরিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক বিবেচনায় দুর্নীতির লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল।’
আরো পড়ুন
স্বাধীন ফরেন পলিসিতে হস্তক্ষেপ কখনো মেনে নেব না : বিরোধীদলীয় নেতা
তিনি বলেন, ‘সরকার বলছে তারল্যসংকট মোকাবেলায় টাকা ছাপানোর প্রয়োজন হবে না। অথচ আমরা দেখছি টাকা ছাপিয়ে ইসলামী ব্যাংককে ৯ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ভবিষ্যতে যদি আরো টাকা ছাপিয়ে তারল্য সংকট মোকাবেলা করা হয় তাহলে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়বে। বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে হলে সরকারকে শিল্প-কলকারখানায় গ্যাস—বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের নীতি সহায়তার মাধ্যমে গ্যাস—বিদ্যুৎসহ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান মুখ থুবড়ে পড়বে। আওয়ামী সরকারের আমলে গ্যাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোক্তারা দেশি—বিদেশি অর্থায়নে কারখানা স্থাপন করলেও এখনো পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ পায়নি। ৫৫০টির মতো ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্প-কারখানা গ্যাসপ্রাপ্তির সব প্রক্রিয়া শেষ করার পরেও গ্যাস পাচ্ছে না। এতে ২৩ হাজার কোটি টাকার অলস বিনিয়োগ পড়ে আছে। অথচ মাস ঘুরলেই সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে।’
কিরণ বলেন, ‘এবারের বাজেটে চাল, ডাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্য তেল, চিনি, লবণের মতো ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎস কর কমিয়ে জনগণকে স্বস্তি প্রদানের চেষ্টা করা হলেও, অন্যদিকে মুদি দোকান, কনফেকশনারীসহ তৃণমূল পর্যায়ের ১৬টি ব্যাবসায়িক খাতে ভ্যাট আরোপসহ জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি আবার জনগণকে অস্বস্তিতে ফেলবে। ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর কর আরোপের বোঝা ভোক্তাদের ওপরই পড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে।’
“জাতীয় বাজেটের সুফল পেতে অর্থের জোগান অপেক্ষা বাস্তবায়ন দক্ষতা বেশি জরুরি” শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন—অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, ইআরএফের প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, কালের কণ্ঠের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক।
মোহাম্মদ ফারুক আহাম্মদ (ফারুক মেহেদী) ও চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি রিজভী নেওয়াজ। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।