• ই-পেপার

২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সঙ্গে খেলতে চান রোনালদোর ছেলে

আমরা এমনিতেও জিততাম না— হালান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
আমরা এমনিতেও জিততাম না— হালান্ড

বিশ্বকাপে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে নরওয়ের বড় ব্যবধানে হেরেছে। হারের পর উঠে আসে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কথা। এতে ব্যাপক সমালোচনার বিদ্ধ হন কোচ স্টালে সোলবাকেন। কোচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেছেন আর্লিং হালান্ড। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এতে ম্যাচের ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসত না। 

ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও এই নীতি নকআউট পর্বের জন্য নরওয়েকে আরো শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে বলে জানান হালান্ড। বোস্টনের স্টেডিয়ামে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীরা হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের মতো তারকাদের খেলতে না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন । গ্যালারি থেকে ‘উই ওয়ান্ট হালান্ড’ স্লোগান দিতে থাকেন ফুটবলপ্রেমীরা।

ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, ‌‘ফ্রান্সের শক্তির কাছে এমনিতেও হেরে যেতেন। ম্যাচের আগেই বলেছিলাম যে এই ম্যাচের ফলাফল নিয়ে চিন্তিত নই আমরা। ফ্রান্স স্পষ্টভাবেই সেরা দল এবং তাদের প্রতিটি পজিশনে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে।'

নরওয়ে কোচ সোলবাকেন এই স্কোয়াড রোটেশনকে অত্যন্ত সহজ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের তীব্র লড়াইয়ের পর দলের মূল খেলোয়াড়রা ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। 

নকআউট পর্বের জন্য খেলোয়াড়দের চাঙ্গা রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য ছিল বলে যোগ করেন কোচ। গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে রাউন্ড থার্টি টুতে নরওয়ের প্রতিপক্ষ আফ্রিকান পরাশক্তি আইভরি কোস্ট। 

‘এই আজেন্টিনা দলকে হারানো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘এই আজেন্টিনা দলকে হারানো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন’

বিশ্বকাপের শেষ গ্রুপ ম্যাচে জর্দানের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। রবিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ডালাসে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ডালাসে পৌঁছে গেছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকার লিওনেল মেসির ভূয়সী প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ তারকা নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।

ম্যাচের আগে সংবাদে সম্মেলনে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো বলেন, মেসি বর্তমানে কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও আরো দুর্দান্ত খেলছেন। 

তিনি বলেন, ‘বর্তমান আর্জেন্টিনা দল প্রতিযোগিতাপূর্ণ ফুটবল খেলছে। যেখানে কোনো খেলোয়াড়ই গা ভাসিয়ে দেওয়ার সুযোগ পান না। এই অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই সবাইকে সেরাটা দিতে বাধ্য করে’।

তাগলিয়াফিকো বলেন, ‘দলে আসা প্রতিটি খেলোয়াড়ই সতীর্থদের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে চান। একই মানসিকতার ১৫-২০ জন খেলোয়াড় যখন একসঙ্গে হন, তখন প্রতিপক্ষের জন্য তাদের হারানো কঠিন হয়ে পড়ে বলে যোগ করেন এই ডিফেন্ডার।’

মেসিকে দলের প্রধান পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, দলের সবাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের অধিনায়ককে সমর্থন দিয়ে যাবেন যাতে কাতার বিশ্বকাপের মতো আবারও স্মরণীয় কিছু করা যায়।

জাতীয় দলের জার্সিতে ম্যাচের সংখ্যা গণনা করার চেয়ে প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রমকে তিনি এগিয়ে রাখেন। অতীত দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকালে অত্যন্ত গর্ব অনুভব করেন এই রাইটব্যাক।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে খেলাকে অত্যন্ত বিশেষ অনুভূতি বলে বর্ণনা করেছেন। টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতা একটি 'স্বপ্ন' হলেও তারা বর্তমান সময়ে প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চান বলে যোগ করেন তিনি।

ফ্রান্সকে কেন কালো বাহুবন্ধনি পরে খেলতে দিল না ফিফা

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সকে কেন কালো বাহুবন্ধনি পরে খেলতে দিল না ফিফা
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করছেন ফ্রান্সের ফুটবলাররা। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ চলাকালীন দুঃসংবাদ শোনেন দিদিয়ের দেশম। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন তার মা। মায়ের শেষকৃত্যে থাকতে তাই প্যারিসে ফিরে গেছেন তিনি। গতকাল নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের ডাগআউটে তাই সহকারি কোচ গাই স্টিফেনকে দেখা গেছে। 

গুরু ডাগআউটে না থাকলেও ঠিকই জ্বলে উঠেছে ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে প্রতিপক্ষ নরওয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। তবে জয় পাওয়ার আগে এই ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরতে চেয়েছিল ফ্রান্স।

দেশমের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। তার জন্য ফিফার কাছে অনুমতিও চেয়েছিল এফএফএফ। তবে অনুমতি দেয়নি ফিফা। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, ‘দেশমের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো আর্মব্যান্ড পরার অনুমতি চেয়েছিল ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন। ফিফা সে অনুমতি দেয়নি।’ অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, দেশমের মা যেহেতু বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি নন, তাই দেওয়া হয়নি।

 

বিকল্প হিসেবে এক মিনিট নীরবতা পালন করার কথা ছিল। তবে সেটাও পরে হয়নি। অবশ্য ম্যাচ শুরুর আগে ১ মিনিটের যে নীরবতা পালন করা হয় তা ছিল ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। 

ফিফা অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ফ্রান্সের অনেক ভক্ত-সমর্থক। সামাজিক মাধ্যমে একজন লিখেছেন, ‘শ্রদ্ধা কখনোই বিতর্কিত হওয়া উচিত নয়। সহানুভূতি এবং ফুটবল একসাথে চলতেই পারে।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘একজন কোচের মায়ের মৃত্যুর পর শোক জানাতে কালো আর্মব্যান্ড পরা ফিফা আটকে দিয়েছে, যা ফিফার মানদণ্ডের চরম সংকীর্ণতা।’

ফিফার ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে একজন লিখেছেন, ‘ফিফার কেন সব সময় এমন দুমুখো নীতি থাকে? তাদের কি মানবিকতাবোধ বলতে কিছু নেই?’

আয়োজকরা আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়—ইরানের অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
আয়োজকরা আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়—ইরানের অধিনায়ক
মিসরের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও না পাওয়ার হতাশা ফুটে উঠেছে ইরানের অধিনায়ক তারেমির চোখেমুখে। ছবি : রয়টার্স

শুধু মাঠের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই নয়, বাইরেও লড়তে হচ্ছে ইরানকে। কাগজে-কলমে সবার জন্য নিয়ম একই থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে আলাদা। বিশ্বকাপের শুরু থেকে তাই হয়ে আসছে।

অন্যরা নিজেদের ম্যাচের ভেন্যুর কাছাকাছি ক্যাম্প করার সুযোগ পেলেও ইরানকে ম্যাচ খেলতে হয় অন্য দেশ থেকে এসে। ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা শেষ হতেই তাদের ফিরতে হয় মেক্সিকোয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে দলের অনেকে আবার পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও। সবকিছু মিলে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। 

মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে তাই ক্ষোভই ঝারলেন ইরানের অধিনায়ক মেহদী তারেমি। তার মতে, ইরানের সঙ্গে ফিফা অন্যায় করছে। টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বাদ পড়া যেন দেখতে চায় আয়োজকরা।

ইরারের ভোগান্তি নিয়ে তারেমি বলেছেন, ‘জঘন্য একটা বিশ্বকাপ। সব সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল  ফিফার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর আমাদের ড্রেসিং রুমে এসে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, সব সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু ফিফা কিছুই করেনি। অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ এখানে নেই। কারণ, তারা ভিসা পাননি।’

ইরানের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে জানিয়েছে তারেমি বলেছেন, ‘এটি অন্যায়। আমাদের মতে, এটি চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? ঠিক আছে, তাদের জন্য ভালো। তারা যদি টুর্নামেন্ট থেকে আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়, তাহলে ঠিক আছে। আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি। লজিস্টিক সমর্থন দেওয়ার মতো এখানে কেউ নেই। আমরা এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।’

ইরান বিশ্বকাপে থাকুক এমনটা চায় কিনা জানতে চাওয়া হলে তারেমি বলেন, ‘এখানে আমাদের সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। মানুষ কি চায়, জানি না। তবে আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে মনে হয় হ্যাঁ, তারা এরকমই চাচ্ছে। তা না হলে ৯০ মিনিট খেলার পর আবার তিহুয়ানায়ায় আমাদের ফিরে যেতে হবে কেন?’

সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করা ইরান এখন নকআউটে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরাদের তালিকায় ৬ নম্বরে আছে। শেষ ৩২ এ সুযোগ পাবে কিনা তা আজই জানা যাবে। কেননা তাদের নকআউট ভাগ্য নির্ভর করছে অন্য ম্যাচগুলোর ওপরে। অবশ্য আজ মিসরের বিপক্ষে জিতলেই সরাসরি সুযোগ পেত ইরান। শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানও করেছিল তারা। কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় তাদের গোলটি।