• ই-পেপার

একই ধান বিভিন্ন কম্পানির মোড়কে প্যাকেটজাত করতেন ব্যবসায়ী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাভার্ড ভ্যানচাপায় প্রকৌশলীর স্ত্রী নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাভার্ড ভ্যানচাপায় প্রকৌশলীর স্ত্রী নিহত
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী তানজিলা আক্তার নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত তানজিলা আক্তার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের ৪০০ মেগাওয়াট নর্থ ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানজিলা আক্তার স্বামী আমজাদ হোসেন ভূঁইয়ার মোটরসাইকেলযোগে ভৈরবের একটি আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্সের ক্লাস করতে যাচ্ছিলেন। পথে আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ওভারটেক করার সময় পেছন দিকে ধাক্কা দেয়। এতে তানজিলা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীকে পিটিয়ে হত্যা, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীকে পিটিয়ে হত্যা, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইরে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সিজান (২৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. মাহবুবুল আলম। এর আগে রবিবার (৫ জুলাই) রাত ১২টার দিকে নিহতের মা শিল্পী বেগম (৪৪) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন পশ্চিম মাসদাইরের খলিলের মোড় এলাকার আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম মো. কাউছার আহমেদ কাশেমী (৪০), আব্দুল গনি হুজুর (৫০), আজহার রাজমিস্ত্রী (৫৫), সাইদুল (৪২), আলম (৩৪) ও জিলানী ফকির (৫৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে মোবাইল চোর সন্দেহে অনিক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি সিজানের নাম বললে আলমসহ আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের কয়েকজন সদস্য সিজানকে তার বাসার সামনে থেকে খলিলের মোড়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ও অনিককে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। এতে সিজানের ডান পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সিজানকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে নিহতের পরিবার দাবি করেছে, সিজান একসময় অসৎ সঙ্গের কারণে বিপথগামী হলেও পরে তাবলিগ জামাতে অংশ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় সহযোগিতা করছিলেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের সহসভাপতি ও আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম কাউছার আহমেদ কাশেমী বলেন, ‘সিজান ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মোবাইল ছিনতাই ও বিক্রির বিষয়ে ইমন নামে এক ব্যক্তির ভিডিও বক্তব্য রয়েছে। মামলার বিষয়টি জেনেছি। আইনি প্রক্রিয়ায় মামলার মোকাবেলা করব।’

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’

প্রতিপক্ষের আঘাতে মৃত্যুর অভিযোগ

খুলনায় ৫ মাস পর বিএনপি নেতা কচির লাশ উত্তোলন

খুলনা অফিস
খুলনায় ৫ মাস পর বিএনপি নেতা কচির লাশ উত্তোলন
সোমবার দুপুরে নগরীর টুটপাড়া কবরস্থান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচির লাশ উত্তোলন করা হয়।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচির (৬৩) মৃত্যুর প্রায় ৫ মাস পর কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে নগরীর টুটপাড়া কবরস্থান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়।

এ ঘটনায় আদালতে দায়ের করা হত্যার মামলার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে লাশটি তোলা হয়েছে।

চলতি বছরে ১২ ফেব্রুয়ারি খুলনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে কচির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ হারুন মজনু বাদী হয়ে মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে আলিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদারসহ ৩ জনের নামাল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০জনকে আসামী করা হয়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত সংস্থার আবেদনে সোমবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কচির লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার বাদীর মো. ইউসুফ হারুন মজনুর অভিযোগ, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন চলাকালে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের ভেতরে পুকুর পাড়ে আসামিরা ভোটারদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রচ্ছন্ন হুমকি ও বেআইনিভাবে চাপ সৃষ্টি করছিল। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে বিএনপি নেতা কচির বিষয়টির প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে প্রতিপক্ষরা ক্ষুব্ধ হন। এক পর্যায়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও জামায়াত সমর্থক মো. আব্দুর রহিম সরদার কচিকে সজোরে গলা ধরে ধাক্কা দেন। কচির মাথা পাশের গাছে গিয়ে আঘাত লেগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে তিনি মারা যান।

বিএনপির এক নেতা বলেন, আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অবশ্য বিএনপির পক্ষ থেকে হামলায় কচির মৃত্যুর অভিযোগ করা হলেও সেই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি (কচি) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাঁর শরীরে বড় ধরণের দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পায়নি। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা দেখেননি।

নাম প্রকাশ না করে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপি নেতার মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। এ অবস্থায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা জরুরি। তদন্তকে আরো গ্রহণযোগ্য করতে আদালতের অনুমতি নিয়ে লাশ উত্তোলন করে পুন:ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

নাটোরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিষপান

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিষপান
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিষপানের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চরজাজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী রাকিব (১১) উপজেলার চরজাজিরা গ্রামের রফিজের ছেলে।

ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে রাকিব শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই বিষপান করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকরাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরিয়ম সুলতানা বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।