বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (৬ জুন) থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের সেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে কাহালু উপজেলার দেবখন্দ গ্রামের রুবেল আহমেদের মেয়ে মারজানা খাতুন (১২) কীটনাশক পান করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে বিকেল ৪টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। ওই সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন ডা. আতিক শাহরিয়ার। তখন রোগীর চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে চিকিৎসক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ ওঠে।
ডা. আতিক শাহরিয়ার দাবি করেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর তিনি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করেন এবং স্টমাক ওয়াশের প্রস্তুতির জন্য সহকর্মীদের ডাকেন। তবে সহকর্মীরা আসতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর স্বজনরা তাঁর ওপর চড়াও হন।
অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও চিকিৎসক কার্যকর কোনো চিকিৎসা দেননি। পরে বগুড়ায় পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শনিবার থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল বলেন, চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এস এম নূর-ই-শাদীদ হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বহির্বিভাগের সেবা কবে চালু হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।




