• ই-পেপার

তারেক রহমানের চকরিয়া সফর ঘিরে বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি

  • জনসভায় ৩ লাখ মানুষের সমাগমের আশা

নোয়াখালীতে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ, আহত ৬

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ, আহত ৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল।

কর্মসূচি শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে বসে থাকতে দেখতে পান। এসময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

এদিকে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ তিনজন আহত হন। পরবর্তীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল জানান, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতা-কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি। হামলায় আমাদের তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে পল্লী চিকিৎসক আটক

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে পল্লী চিকিৎসক আটক
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আত্তাব হোসেন (৬০) নামে এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে আটক করে। অভিযুক্ত আত্তাব হোসেন উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

স্থানীয়রা বলছেন, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী তার দাদির জন্য ওষুধ আনতে চিকিৎসক আত্তাবের দোকানে যায়। এসময় কেউ না থাকার সুযোগে চিকিৎসক মেয়েটি ঘরের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করে। 

এ ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটকে রাখে। এসময় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। একই সঙ্গে ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর ভিকটিম ও তার পরিবার বলছে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। মেয়েটি বাড়ি ফেরার পর তার আচরণ দেখে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

দোহারে প্রতিবন্ধী তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
দোহারে প্রতিবন্ধী তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

ঢাকার দোহার উপজেলায় ময়না আক্তার (১৯) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চরকুশাই চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ময়না আক্তার ওই এলাকার শেখ হাসেমের মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল।

ময়নাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ময়নার ছোট ভাই, যিনি নিজেও বাকপ্রতিবন্ধী, ঘরের ভেতরে তাকে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাটি জানতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে ময়নাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ভাই আল আমীন বলেন, ‘আমার বোনের বিয়ে হয়েছে মাত্র তিন মাস আগে। সন্ধ্যার দিকে আমার ছোট ভাই ঘরের ভেতরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে। পরে আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

খবর পেয়ে দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দোহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ প্রসাদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফেনীতে পৃথক স্থান থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে পৃথক স্থান থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ জুন) পৌরসভার দক্ষিণ করিমপুর এবং মাতুভূঞা ইউনিয়ন এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত ওই দুই যুবক হলেন ইমরান আহমেদ রিফাত (৩০) ও হেদায়েত উল ইসলাম ওরফে ইকবাল (২৭)। রিফাত ওই এলাকার ইউনুস ডাক্তার বাড়ির আতিক উল্যাহর ছেলে। ইকবাল দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে।

পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে দাগনভূঞা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ করিমপুর এলাকার নিজ বসতঘর থেকে ইমরান আহমেদ রিফাত নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত তিন দিন ধরে রিফাত নিখোঁজ ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ দরজা খুলে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

রিফাতের বড় ভাই ইফতেখারুল আলম রিয়াদ বলেন, তিন দিন ধরে আমার ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার তার শয়নকক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, শয়নকক্ষের বিছানায় তারে জড়ানো অবস্থায় রিফাতের মরদেহ পাওয়া গেছে। তার পুরো শরীর পুড়ে কালো হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি একা ওই ঘরে বসবাস করতেন। তার পরিবারের লোকজন বেড়াতে গিয়েছিল। তারা বাড়িতে এসে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

এর আগে, এদিন ভোরে বাড়ির সামনের সড়ক থেকে ইকবালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে স্থানীয়রা বাড়ির সামনের সড়কে মোটরসাইকেলসহ ইকবালকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, ইকবাল একটি বাঁশে আর্জেন্টিনার পতাকা বেঁধে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাঁশের চাপে তার ঘাড়ের একপাশ ভেঙে গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। দুই ঘটনায়ই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসব বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি।