• ই-পেপার

পার্কভিউ হসপিটাল ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের চুক্তি স্বাক্ষর

ইউআরএপি ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং ২০২৫-২০২৬

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

বিশ্বের অন্যতম গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন সংস্থা ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং বাই একাডেমিক পারফরম্যান্স (ইউআরএপি) প্রকাশিত ইউআরএপি ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং ২০২৫-২০২৬-এ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) বাংলাদেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

একই সঙ্গে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চতুর্থ এবং বিশ্বব্যাপী ১,৪৬১তম স্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এই অর্জন গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষে ডিআইইউর ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

এ বছরের ইউআরএপি ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিংয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থান অর্জন করেছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। গবেষণার গুণগত মান, প্রকাশনার সংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে ইউআরএপি ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং।

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং বাই একাডেমিক পারফরম্যান্স (ইউআরএপি) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা সক্ষমতা ও একাডেমিক মান মূল্যায়নে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বিবেচনা করে। এগুলো হলো-

  • নাম্বার অব আর্টিকেলস
  • সাইটেশন ইমপ্যাক্ট 
  • টোটাল সায়েন্টিফিক ডকুমেন্টস 
  • আর্টিকেল ইমপ্যাক্ট টোটাল 
  • সাইটেশন ইমপ্যাক্ট টোটাল 
  • ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন 

এসব সূচকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার পরিমাণ ও মান, বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় অবদান মূল্যায়ন করা হয়।

এই অর্জন গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, উচ্চমানের গবেষণা প্রকাশনা বৃদ্ধি এবং একাডেমিক উন্নতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিআইইউর অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই গৌরবজনক অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি অংশীদার এবং সকল স্টেকহোল্ডারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, গবেষণায় অবদান এবং একাডেমিক উৎকর্ষের প্রতি অঙ্গীকারই ডিআইইউর এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।

ফাংশনাল ফুড কী? কেন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা

ফাংশনাল ফুড কী? কেন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা

পৃথিবীর সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয়গুলোর একটি হলো — প্রকৃতি কখনো মানুষের কাছ থেকে তার প্রয়োজনীয় খাদ্য লুকিয়ে রাখেনি। ঋতু বদলেছে, মাঠে নতুন ফসল উঠেছে, গাছে ফল ধরেছে, মাটির বুক ভরে উঠেছে নানা রঙের শাকসবজিতে। মানুষের খাদ্যতালিকাও একসময় সেই ছন্দ মেনেই গড়ে উঠেছিল। প্রতিটি মৌসুম যেন নিজের হাতে নিয়ে আসত শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির এক একটি নতুন অধ্যায়।

জীবন যত আধুনিক হয়েছে, সেই ছন্দে পরিবর্তন এসেছে। শহর বড় হয়েছে, সময় ছোট হয়েছে। প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য বেড়েছে, খাবার সংরক্ষণের প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে, বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নতুন খাদ্যপণ্য এসেছে। তবু একটি প্রশ্ন আজও থেকে গেছে—আমাদের প্রতিদিনের খাবার কি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে?

অর্গানিক নিউট্রিশনের এই ধারণা ধীরে ধীরে খাদ্যশিল্পেও নতুন ভাবনার জন্ম দিচ্ছে। আগে যেখানে একটি পণ্যের প্রধান পরিচয় ছিল তার স্বাদ, এখন সেখানে পুষ্টিগুণ, উপাদানের উৎস, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ভোক্তার এই পরিবর্তিত প্রত্যাশাই নতুন প্রজন্মের খাদ্য উদ্ভাবনের পথ তৈরি করছে। বাংলাদেশের পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি-সচেতনতাকে কেন্দ্র করে অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেড এগিয়ে চলেছে একটি ভিন্ন ভাবনা নিয়ে। তাদের উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে এমন খাদ্যপণ্য, যা প্রতিদিনের পরিচিত খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায় এবং প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক পুষ্টির সুযোগ তৈরি করে। এই ভাবনা থেকেই কারকুমার যাত্রা—পরিবারের শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিচাহিদাকে বিবেচনায় রেখে গড়ে ওঠা একটি ফাংশনাল নিউট্রিশন ব্র্যান্ড।

পরিবারের সব সদস্যের পুষ্টিচাহিদা এক নয়। বয়স, জীবনযাপন, দৈনন্দিন কাজের ধরন ও শারীরিক প্রয়োজনের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসও বদলায়। এই বাস্তবতা থেকে কারকুমা জয়েন্ট গার্ডকে উপস্থাপন করা হয়েছে জয়েন্টের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক একটি ফাংশনাল নিউট্রিশন পণ্য হিসেবে। অর্গানিক নিউট্রিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারকুমা জয়েন্ট গার্ড ইউএস এফডিএ নিবন্ধিত উৎপাদন সুবিধাসম্পন্ন কারখানায় তৈরি এবং পণ্যটির ক্ষেত্রে ইউএসডিএ অর্গানিক, জিএমপি, আইএসও ২২০০০ ও বিএসটিআই হালাল-সংক্রান্ত স্বীকৃতি রয়েছে।

অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেডের এই পণ্যগুলোর ভূমিকা এক নয়, ব্যবহারও এক নয়। কারকুমা টারমারিক ইমিউনিটি বুস্টার হলুদের উপাদানকে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে যুক্ত করার সুযোগ দেয়। কারকুমা বিটরুট পাউডার বিটরুটের প্রাকৃতিক উপাদানকে সহজ ব্যবহারযোগ্য রূপে নিয়ে আসে। কারকুমা অর্গানিক হানি ও অ্যাপল সাইডার ভিনেগার পরিচিত খাবার ও পানীয়ের অভ্যাসে প্রাকৃতিক উপাদান যুক্ত করে। কারকুমা ভেজ স্প্রেড শিশুদের নাশতায় সবজি ও ফলের উপাদান যুক্ত করার একটি ভিন্নধর্মী ভাবনা সামনে আনে। কারকুমা জয়েন্ট গার্ড নির্দিষ্ট জীবনধারা ও বয়সভিত্তিক পুষ্টিচাহিদাকে বিবেচনায় রাখে।

কারকুমাকে দেখা যেতে পারে প্রতিদিনের খাবারকে একটু নতুনভাবে ভাবার একটি প্রয়াস হিসেবে। পরিচিত স্বাদ ও সহজ ব্যবহারের ভেতর দিয়ে ফল, সবজি, হলুদ, মধু কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানকে পরিবারের খাদ্যতালিকায় যুক্ত করার চেষ্টা রয়েছে এর পণ্যগুলোতে। অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেডের এই উদ্যোগের মূল কথা হলো—পুষ্টি যেন দূরের কোনো ধারণা হয়ে না থাকে; সকালের নাশতা, শিশুর টিফিন, দিনের পানীয় ও ঘরের খাবার—সবখানেই যেন তার একটি স্বাভাবিক উপস্থিতি তৈরি হয়।

সুস্থ জীবন কোনো একটি পণ্য দিয়ে গড়ে ওঠে না। ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, আমিষ জাতীয় খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস—সব মিলিয়েই তৈরি হয় সুস্থতার ভিত্তি। সেই ভিত্তিকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই কারকুমা কাজ করছে পরিচিত স্বাদের সঙ্গে প্রাকৃতিক উপাদান ও ফাংশনাল নিউট্রিশনের সমন্বয় ঘটিয়ে। 

প্রতিদিনের খাবারই একদিন ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যগাথা লিখে দেয়। সেই গল্পে প্রকৃতির পুষ্টির জন্য জায়গা থাকুক—কারকুমার মতো সচেতন উদ্যোগের মাধ্যমে, প্রতিটি পরিবারের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে।

পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর উদ্যোগে ‘ক্যাশলেস ধানমণ্ডি’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান

পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর উদ্যোগে ‘ক্যাশলেস ধানমণ্ডি’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান

‘লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’—স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণ এবং ‘এক দেশ এক QR লেনদেন Bangla QR’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পূবালী ব্যাংক পিএলসি. ধানমণ্ডি শাখার উদ্যোগে “ক্যাশলেস ধানমণ্ডি” শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা, নিরাপত্তা ও ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এবং পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল হালিম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থা পনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ আলী। এ সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহনেওয়াজ খান, মহাব্যবস্থাপক ও ঢাকা উত্তর অঞ্চলের অঞ্চল প্রধান এ.কে.এম আব্দুর রকীব, উপ-মহাব্যবস্থাপক ও অলটারনেটিভ ডেলিভারি চ্যানেল ডিভিশন প্রধান মো. রবিউল আলমসহ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী এবং গ্রাহক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, Bangla QR ব্যবহারের মাধ্যমে একই QR কোডে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস থেকে সহজ, নিরাপদ ও দ্রুত ডিজিটাল লেনদেন করা সম্ভব। নগদের ব্যবহার কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস ধানমন্ডি’ উদ্যোগ প্রশংসনীয় এবং এ ধরনের উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করবে।

আলোচনা শেষে উপস্থিত অতিথিরা ক্যাশলেস লেনদেন বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন এবং Bangla QR ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

গ্লোবাল ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর সেরা পাঁচে কানাডিয়ান-বাংলাদেশি শেফ মাদিহা তুরশীন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
গ্লোবাল ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর সেরা পাঁচে কানাডিয়ান-বাংলাদেশি শেফ মাদিহা তুরশীন
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’ প্রতিযোগিতার সেরা পাঁচ প্রতিযোগীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন কানাডিয়ান-বাংলাদেশি সমসাময়িক রন্ধনশিল্পী শেফ মাদিহা তুরশীন। প্রকৃতি, টেকসই উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যনির্ভর আধুনিক রন্ধনশৈলীর জন্য তিনি এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বিশ্বখ্যাত জেমস বিয়ার্ড ফাউন্ডেশন -এর সমর্থনে এবং খ্যাতিমান মার্কিন শেফ ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব কার্লা হল -এর উপস্থাপনায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিভাবান রন্ধনশিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন। টপ-৫-এ শেফ মাদিহা তুরশিনের স্থান করে নেওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর ব্যতিক্রমধর্মী কুলিনারি দর্শনের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ। 

শেফ মাদিহা তুরশীনের রন্ধনশৈলীর বিশেষত্ব হলো প্রকৃতি, শিল্প ও সংস্কৃতিকে একসঙ্গে ধারণ করা। তিনি প্রতিটি খাবারের পরিবেশনাকে একটি জীবন্ত শিল্পকর্মে রূপ দেন। খাদ্যোপযোগী ফুল, বুনো ভেষজ এবং মৌসুমি উদ্ভিদ উপাদানকে তিনি শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়, বরং স্বাদ, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন। তাঁর প্রতিটি পরিবেশনা পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে সমানভাবে স্পর্শ করার লক্ষ্যেই তৈরি হয়। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত লে কর্দঁ ব্লু (Le Cordon Bleu)-এর গ্রঁ ডিপ্লোমা (Grand Diplôme) প্রোগ্রাম থেকে উচ্চতর রন্ধনশিল্পে প্রশিক্ষণ নেওয়া শেফ মাদিহা ধ্রুপদি ফরাসি কুলিনারি কৌশলের সঙ্গে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্যঐতিহ্যের এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন। বাংলাদেশ, কানাডা ও থাইল্যান্ডে বসবাসের অভিজ্ঞতা তাঁর রন্ধনচিন্তাকে দিয়েছে বৈশ্বিক মাত্রা। তাঁর কাজ মূলত ‘ডায়াসপোরা কুইজিন’-কে কেন্দ্র করে, যেখানে অভিবাসন, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাবার নতুন রূপ পেলেও তার শেকড় অটুট থাকে।

টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতিও রয়েছে তার গভীর অঙ্গীকার। একজন প্রকৃতিপ্রেমী ফরেজার হিসেবে তিনি নিয়মিতভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে খাদ্যোপযোগী ফুল, মৌসুমি ভেষজ ও বুনো উদ্ভিদ সংগ্রহ করে সেগুলো তাঁর রান্নায় ব্যবহার করেন। কানাডার টরন্টোতে এল্ডারফ্লাওয়ার সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মৌসুমি ভোজ্য উদ্ভিদের ব্যবহার তাঁর রন্ধনশৈলীকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচিতি। তাঁর বিশ্বাস, প্রকৃতি কেবল খাদ্য উপাদানের উৎস নয়, বরং সৃজনশীল রন্ধনশিল্পের অন্যতম অংশীদার। নিজের কুলিনারি প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়াম মোমেন্টস’-এর মাধ্যমে শেফ মাদিহা মানুষকে খাদ্যের মাধ্যমে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে কাজ করছেন। তাঁর প্রতিটি সৃজনশীল পরিবেশনায় ঋতুভিত্তিক উপাদান, জীববৈচিত্র্য, শিল্প এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির সমন্বয় ঘটে, যা আধুনিক গ্যাস্ট্রোনমিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আগামী ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রতিযোগিতার জনভোট চলবে। বাংলাদেশ, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকেরা ভোট দিয়ে শেফ মাদিহা তুরশীনকে ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর গ্রুপ ফাইনালে পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারবেন। প্রতিটি ভোট তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্যঐতিহ্য, প্রকৃতিনির্ভর সমসাময়িক রন্ধনশিল্প এবং টেকসই কুলিনারি দর্শনকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।