• ই-পেপার

খেলাপি ঋণের ১ লাখ কোটি টাকার সুদ মওকুফের সুযোগ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ

খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসায় জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিএসের মাসিক মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।

জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) মে মাসের ১৪৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে জুনে ১৪৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বার্ষিক মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে।

মাসওয়ারি হিসাবে জুনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও তা এখনো সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা এক বছর আগে একই মাসে ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গ্রামের তুলনায় শহরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম ছিল। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।

গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে।

তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। জুনে গ্রামীণ এলাকায় এ হার ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

এদিকে সর্বশেষ মজুরি হার সূচকেও (ওয়েজ রেট ইনডেক্স) মজুরি বৃদ্ধির গতি সামান্য কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জুনে জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মজুরি হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে এটি আগের বছরের জুন মাসের সমান রয়েছে।

দেশের ৬৪ জেলার তথ্যের ভিত্তিতে এ সূচক প্রস্তুত করা হয়েছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে, কৃষি খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।

শিল্প খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার মে মাসের ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে জুনে ৮ দশমিক ১১ শতাংশে নেমে এলেও, ২০২৫ সালের জুনের ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশের তুলনায় বেশি রয়েছে।

সেবা খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি প্রধান খাতেই মাসওয়ারি মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য কমলেও সামগ্রিকভাবে মজুরি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে, ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি আরও কমে এসেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এতে সামগ্রিক মূল্যচাপ ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
 

জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের সুদহার নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের সুদহার নির্ধারণ

জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোর সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত পূর্বের সুদহারই বহাল থাকবে।

সোমবার (৬ জুলাই) এসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে তা দেশের সব তফসিলি (বাণিজ্যিক) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদে যে সুদের হার ও শর্ত কার্যকর ছিল, আগামী জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়েও একই হার ও একই শর্ত বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এর আগে গত ২ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রজ্ঞাপনের আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার ফলে নতুন বিনিয়োগকারী এবং যেসব গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, তারা আগের মতোই বিদ্যমান হার অনুযায়ী মুনাফা পাবেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান শর্তাবলিতেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

কর্মসংস্থান রক্ষায় বড় শিল্পগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
কর্মসংস্থান রক্ষায় বড় শিল্পগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের বৃহৎ শিল্প ও ব্যাবসায়িক গ্রুপগুলোর উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

জটিলতা সমাধানে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অনেক সময় বড় প্রতিষ্ঠান এমন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সেটা সরাসরি সলভ (সমাধান) করা যায় না। কিন্তু আমরা কিছু জটিলতা সমাধান করে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগোষ্ঠীগুলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়লেও তাদের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় এবং বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাতের বড় অঙ্কের ঋণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম জড়িত। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক সংকটে পড়লে সেটির প্রভাব যাতে পুরো অর্থনীতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ খাদ্যপণ্য, সিমেন্ট, টিস্যু, স্টিল, এলপিজিসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। এ ছাড়া তেল, আটা, ময়দা, সুজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করে আসছে সিটি গ্রুপসহ কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী। দেশের অর্থনীতি সচল, কর্মসংস্থান তৈরি এবং বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখছে শিল্পগোষ্ঠীগুলো।

তবে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশের বড় এসব শিল্পগোষ্ঠী। প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের চাপে পড়েছে সিটি গ্রুপ। এরপর আলোচনায় আসে ব্যাংকঋণ, ঋণ পুনর্গঠন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তা। আর্থিক সংকটে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে সংকট থেকে বের করে আনতে ব্যাংকগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে।

এসব সহায়তার ক্ষেত্রে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়, ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুবিধা এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান মুখপাত্র।

এসব উদ্যোগ কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয় বলেও জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। এই সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা করা এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই উদ্দেশ্য।

জুলাইয়ের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫৭ কোটি ডলার

অনলাইন ডেস্ক
জুলাইয়ের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫৭ কোটি ডলার

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ৫ দিনে প্রবাসীরা দেশে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই হিসেবে দেশে প্রতিদিন গড়ে এসেছে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ৫ দিনে দেশে এসেছে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই হিসেবে বছর ব্যবধানে বেড়েছে রেমিট্যান্সপ্রবাহ।

এর আগে গত জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এর আগে গত মে মাসে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। যার পরিমাণ ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়। গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ বা ৩৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাস আয়ের রেকর্ড।