• ই-পেপার

মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ. লীগের বিচার হবে : চিফ প্রসিকিউটর

দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

অনলাইন ডেস্ক
দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা চেয়ে হাইকোর্টে রিট
সংগৃহীত ছবি

বিবাহের দেনমোহর আদায়ে আদালতের পদ্ধতি ও নীতিমালা তৈরি করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটে আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০নং ধারার অধীনে একটি ব্যাপক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও জারি করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রিটে এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

রিটে বিবাহের তারিখের এক বছর পর প্রদত্ত দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের পদ্ধতি, নীতিমালা এবং উপায় নির্ধারণ করা থাকবে, যার উদ্দেশ্য হবে বিবাহে নারীদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষা ও সংরক্ষণ করা এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০নং ধারার অস্পষ্টতা দূর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

হামে মেয়ের মৃত্যু, ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে মেয়ের মৃত্যু, ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

হামে মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ এনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন সিরাজুল ইসলাম। 

রবিবার (৫ জুলাই)  ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার আবেদন করেন তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।’

মামলার আবেদনপত্র সূত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলামের ৯ মাস বয়সী মেয়ে সাউদা নুসকান হামে মারা গেছে। তিনি মামলার আবেদনে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগ এনেছেন।

ড. ইউনূস ছাড়া যাদের আসামি করার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমে, ড. ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গেল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে মুসকান হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তাকে দ্রুত স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয় কিন্তু জ্বর নিরাময় হয় না। তাকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে মুসকানের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতির প্রেক্ষিতে বাবা সিরাজুল তাকে ২২ মার্চ ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তির পর থেকে মুসকানের অবস্থা মারাত্মক অবনতিকালীন সময় সিরাজুলে পরিলক্ষিত হয়, ডাক্তার ও নার্সদের অসহযোগিতা ও অবহেলা। ২৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুসকান।

দেশে শিশুদের যথাযথ টিকার প্রকৃত যোগান সময়মত না থাকা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালিপনা করে বলে সিরাজুল অভিযোগ করেন।

গত ৮ জুন একই অভিযোগ এনে  ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়। এরও আগে গত ৭ মে উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছিলেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে করা ওই মামলার আবেদনও আদালত খারিজ করে দেন।

ছাগলকাণ্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ, আদেশ ২১ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাগলকাণ্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ, আদেশ ২১ জুলাই
মতিউর রহমান

প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীর শুনানি শেষে আদেশের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। দুদকের কোর্ট পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, কারাগার থেকে আসামি মতিউরকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. বোরহান উদ্দিন অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেন। 

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা হয়।

মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক। এতে উল্লেখ করা হয়, মো. মতিউর রহমানের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুস, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয়ে নিজ নামে গোপনসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। 

তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আদাবরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যায় ৫ আসামির স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদাবরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যায় ৫ আসামির স্বীকারোক্তি
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর আদাবরে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাহকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার মামলায় পাঁচ আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দি দেওয়া পাঁচ আসামি হলেন নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া ও শহীদ। একই সঙ্গে মিজান নামের আরেক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

জানা গেছে, আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করেন। মিজান ছাড়া বাকি পাঁচ আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে মিজানকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে পাঁচজনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং সব আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা সিএমএম আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার র‍্যাব ও ডিবি পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। র‍্যাব জামালপুর সদর থানার কাজীর আখ এলাকা থেকে সুমনকে এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে শহীদকে গ্রেপ্তার করে। আর ডিবি পুলিশ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া শুক্রবার সোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবির নামে সন্দেহভাজন আরও দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় নিহত আবুল বাশারের স্ত্রী মোসা. স্মৃতি আক্তার বাদী হয়ে আজ শনিবার আদাবর থানায় একটি মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন রাত দেড়টার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল জয়লাভ করার পর নিরব নামের এক যুবক উচ্চশব্দে বাঁশি বাজাতে থাকেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত হৃদরোগে আক্রান্ত হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বাঁশি বাজাতে নিষেধ করলে নিরব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে উদ্যত হন। স্থানীয় লোকজন তখন বিষয়টি থামিয়ে দেন। পরে হাবিবুর রহমানের ভাগনে সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি মীমাংসার জন্য মোহাম্মদপুর থানাধীন নবোদয় হাউজিংয়ের তার অফিসে আসামিদের ডাকেন।

৩০ জুন দুপুর ১২টার দিকে আসামিরা সাদ্দামের পথরোধ করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সাদ্দাম নিজেকে হাবিবুর রহমানের ভাগনে পরিচয় দিলে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার কপালে আঘাত করেন। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে স্থানীয় হাসান মিয়া লেদু নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজার এলাকার একটি দোকানে সালিসের আয়োজন করেন।

১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে সালিসে আসামিরা উপস্থিত হলেও বিষয়টি নিয়ে তাদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে তারা নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে ওত পেতে থাকেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালিস শেষে আবুল বাশার বাদশা ও সাদ্দাম হোসেন ওই মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় আসামিরা সুইচ গিয়ার ও চাপাতি নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আবুল বাশার বাদশাহর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।