ফেনীর পরশুরামে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে মুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ যুবক মো. সাকিবের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের একদিন পর রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার মধ্যম শ্রী চন্দ্রপুর গ্রাম সংলগ্ন মুহুরী নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার অলিপুর গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করছে।
পারিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অলকা জঙ্গলঘোনা গ্রামে নানি বেগম নেছার বাড়িতে বেড়াতে আসেন সাকিব। তিনি কিছুটা মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং সাঁতার জানতেন না। শনিবার দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা মায়া আক্তারসহ দুই নারীর সঙ্গে বাড়ির পাশে মুহুরী নদীতে গোসল করতে নামেন তিনি। নদীতে নেমে ডুব দেওয়ার পর তিনি আর ওঠেননি। তার ডুবে যাওয়ার বিষয়টি দেখে সঙ্গে থাকা নারীরা আতঙ্কিত হয়ে গ্রামবাসীকে জানান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন পরশুরাম মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরশুরাম ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক উদ্ধারকাজ শুরু করে। তবে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল না থাকায় প্রাথমিক তল্লাশিতে তার সন্ধান মেলেনি।
পরে চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। শনিবার সন্ধ্যার পর চট্টগ্রামের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ৮টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালালেও সাকিবের কোনো খোঁজ পায়নি। রাতে উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে নদীর ভাটির দিকে ফুলগাজী উপজেলার মধ্যম শ্রী চন্দ্রপুর এলাকায় একটি মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে ফুলগাজী ও পরশুরাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সাকিবের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
ফেনীর ফুলগাজী থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’





