এক যুগ আগে শেরপুরে নালিতাবাড়িতে এক আদিবাসী শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৭ বছর আগে কান্তি মারাককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির গঠন করে দেওয়া বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এই রায় দেন। এ মামলার ডেথ রেফারেন্স অর্থাৎ দণ্ডিত কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে অনুমোদনের আবেদন মঞ্জুর এবং একই সঙ্গে তার জেল আপিল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেওয়া হয়। আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ বিকালে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। সে সময় আসামি কান্তি মারাক কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় তীব্র ব্যথায় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আসামি কান্তি মারাক শিশুটির নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাড়ির পাশের জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পরদিন নালিতাবাড়ি থানায় মামলা করেন। ওই দিনই পুলিশ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় বোনের বাড়ি থেকে কান্তি মারাককে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই বছর ৪ মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন শেরপুরের আদালত। ১১ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। অভিযোগের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আসামি কান্তি মারাক। বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল মামলায় রায় দেন শেরপুরের নারী শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে কান্তি মারাককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে, সে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এজন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে বিচারিক আদালতের রায়ের পর পূর্ণাঙ্গ রায়সহ মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠাতে হয়; যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। বিচারিক আদালতের রায়ের পর পরই এ মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। দণ্ডিত কান্তি মারাক জেল আপিল করেন। এরপর সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলাটি বিচারের অপেক্ষায় ছিল।
গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে একটি ভবনের ফ্ল্যাটে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা নিষ্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে গত ১০ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আজ এই বেঞ্চ কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন।





