প্রায় ১৬ কোটি টাকা প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ফাস্ট গ্রুপের সিইও আব্দুল্লাহ আল রাফের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তবে তার দুই বোনসহ ৩ জনের জামিন বহাল রেখেছেন আদালত। বুধবার (১ জুলাই ) বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মামুনুর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় রাফেকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় ছবি তুলতে গেলে বিডিনিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক মামুন খানকে হেনস্তা করেন তার আইনজীবী। মোবাইলও কেড়ে নিতে চান।
রাফে ফাস্ট টেপস অ্যান্ড কেমিক্যাল লিমিটেড ও ফাস্ট কর্পোরেশন (প্রা.) লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হাফিজ আহমেদের ছেলে। তিনি এবং তার স্ত্রী সাইফুন নাহার মাহেনুও এ মামলার আসামি। তারা দুজন পলাতক রয়েছেন। ১৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৭ টাকা প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত বছরের ২ মে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করে প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার মনিরুল ইসলাম।
মামলায় হাফিজ আহমেদ, স্ত্রী সাইফুন নাহার মাহেনু, ছেলে আব্দুল্লাহ আল রাফে, মেয়ে ফাবিহা জাহিন রাইদা ও সাইমা সাদিয়া এবং নাসির আহমেদ জারজিসকে আসামি করা হয়।
আজ বুধবার মামলার দিন ধার্য ছিল। চার আসামি রাফে, রাইদা, সাদিয়া ও জারজিস জামিন স্থায়ী চেয়ে আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট রিয়াসাত আযমী। তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী মামুনুর রশীদ আসামিদের জামিন বাতিলের প্রার্থন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত রাফের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে অপর ৩ আসামির জামিন বহাল রাখেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, হাফিজ আহমেদ ও সাইফুন নাহারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান দুটি ধারাবাহিক মন্দা, আর্থিক সংকট ও ব্যাংক ঋণের কারণে দেউলিয়া হওয়ার প্রাক্কালে তারা মনিরুল ইসলামের কাছে ব্যবসায়িক ও আর্থিক সহায়তা চান। মনিরুল ইসলাম ৮ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬৭ টাকা বিনিয়োগ করেন। ফাস্ট টেপস অ্যান্ড কেমিক্যাল লিমিটেড থেকে ২০ শতাংশ ও ফাস্ট কর্পোরেশন থেকে ৬০ শতাংশ শেয়ারের প্রতিশ্রুতি দেয় আসামিরা। কিন্তু তারা কোনো মুনাফা না দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করেন মনিরুল।
এ ছাড়া তারা ৫৪ শতাংশ জমি বিক্রির কথা বলে বায়না চুক্তি মতে ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করে আসামিরা। তবে তারা জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন। ব্যবসায় ৮ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬৭ টাকা বিনিয়োগ এবং ইনভেস্ট প্রফিট বাবদ আসামিদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৭ কোটি এক লাখ ৭২ হাজার ৬৩৫ টাকাসহ মোট ১৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৭ টাকা প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
বাদীর অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ দুপুরের দিকে তিনি আসামিদের মতিঝিলের বাসায় গিয়ে পাওনা টাকা ফেরত চান। তাদের অজ্ঞাত পরিচয় লোকজন পাওনা টাকা ফেরত দিবে না মর্মে জানিয়ে দেয়। গত বছরের ২৭ এপ্রিল আসামিদের প্রতিষ্ঠানে টাকা ফেরত চান মনিরুল ইসলাম। তবে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় তারা টাকা ফেরত দিবে না। এদিকে মামলাটি তদন্ত করে গেল ৩১ মে ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম।





