• ই-পেপার

কু‌ড়িগ্রা‌মে বন্যায় ফসলের ক্ষতির শঙ্কা, যা বল‌ছে কৃ‌ষি বিভাগ

ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ৪ বছর পর তিসার উপবৃত্তির টাকা ফেরত দিলেন প্রধান শিক্ষক

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ৪ বছর পর তিসার উপবৃত্তির টাকা ফেরত দিলেন প্রধান শিক্ষক
প্রতীকী ছবি

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু তিসা মনির উপবৃত্তির টাকা গত প্রায় চার বছর ধরে নিয়মিত যাচ্ছিল পাশের বাড়ির খায়রুন্নাহার নামে এক নারীর মোবাইলে। এ নিয়ে তিসার বাবা প্রধান শিক্ষকের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পায়নি। এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে তিন বছরের টাকা আদায় করে শিশু তিসা মনির বাবার হাতে তুলে দেন। 

বুধবার (১ জুলাই) এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের ১২৫ নং পূর্ব জাহাঙ্গীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।

জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তিসা মনির উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিজের পছন্দের একজনের নম্বরে স্থানান্তর করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মো. উজ্জ্বল মিয়া দীর্ঘদিন মেয়ের উপবৃত্তির টাকা না পেয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করেন। সেখানে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীর নিবন্ধিত নম্বরের পরিবর্তে অন্য একটি মোবাইল নম্বর (০১৭২৪-২১০৭৫৮) ব্যবহার করে বিগত ৪ বছর ধরে উপবৃত্তির টাকা তুলে নিচ্ছিলেন। টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শিক্ষার্থীর বাবা গত ২৬ জুন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত তদন্তে নামেন এবং উক্ত বিদ্যালয়ে সশরীরে পরিদর্শনে যান। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মুখে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন তার অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিগত তিন বছরের বকেয়া বাবদ মোট ৫ হাজার ৪০০ টাকা ফেরত দেন। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন প্রধান শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থায়ী বিভাগীয় ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয়ে যান। পরে তদন্তের এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি ভুল হয়েছে বলে মীমাংসা করার অনুরোধ করেন।

মোমবাতির আলোয় গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করল ছাত্রদল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
মোমবাতির আলোয় গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করল ছাত্রদল
ছবি: কালের কণ্ঠ

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে বুধবার (১ জুলাই) রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে একাত্ম প্রকাশ করে এনসিপি ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী, এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ আজিজি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন হৃদয় প্রমুখ।

মির্জাপুরে আওয়ামী লীগ নেতা লাল মিয়া গ্রেপ্তার

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মির্জাপুরে আওয়ামী লীগ নেতা লাল মিয়া গ্রেপ্তার
লাল মিয়া

​টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা লাল মিয়াকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাঁশতৈল বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তার লাল মিয়া বাঁশতৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক।

​পুলিশ সূত্র জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশের ছররা গুলিতে গোড়াই ইউনিয়নের লালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা হিমেলের দুই চোখ অন্ধ হয়। এ ঘটনার পর হিমেলের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে মামলা করেন।

​মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১০০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে পুলিশ বুধবার রাতে লাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

সুমন হত্যার প্রতিবাদে ভাঙ্গায় ফের সড়ক অবরোধ, দাফন সম্পন্ন

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সুমন হত্যার প্রতিবাদে ভাঙ্গায় ফের সড়ক অবরোধ, দাফন সম্পন্ন
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভাঙ্গায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সুমন শেখের জানাজা ভাঙ্গা ঈদগাঁ মসজিদে বুধবার (১ জুলাই) বাদ এশা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ভাঙ্গা ঈদগাঁ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। অপরদিকে সুমন হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বুধবার রাতেও এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা হাসপাতালের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে তারা বিক্ষোভে অংশ নেয়। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। এসময় আধা ঘণ্টার মতো মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। রাত সোয়া ৮টার দিকে তারা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকাবাসী সুমন হত্যার বিচার দাবিতে ভাঙ্গা থানার সামনে বিক্ষোভ করে। এসময় ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল ভিডিও কলে বিক্ষোভকারীদের ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিলে তারা থানার সামনে থেকে সরে যান।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভাঙ্গায় দুই শতাধিক পুলিশসহ এপিবিএন সদস্য নিয়োজিত ছিল। সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা সুমন হত্যার বিচারের দাবিতে  ভাঙ্গা থানার সামনে অবস্থান নিলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল ভিডিও কলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির আশ্বাস দেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনগণ থানার সামনে থেকে সরে যান। পরে শান্তিপূর্ণভাবে নিহত সুমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা পৌরসভার কুমার নদের দুই প্রান্তের দুটি মহল্লা কাপুড়িয়া সদরদী ও পূর্ব হাসামদিয়া জনগণের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুমন শেখ নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গায় কয়েক দফা সড়ক অবরোধ হয়।