চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং শিল্পে ভাঙার জন্য আমদানি করা প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের ‘মেমেই’ নামের একটি স্ক্র্যাপ (পুরনো) জাহাজ ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জাহাজটি বাংলাদেশ জলসীমা ছেড়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, গত ২২ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছে। এর ছয় দিন পর ২৮ মে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। ফলে জাহাজটি বর্তমানে আনোয়ারা উপকূল সংলগ্ন চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করলেও সেটিকে আমদানিকারকের শিপইয়ার্ডে ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের এসএন করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান স্ক্র্যাপ হিসেবে ব্যবহারের জন্য জাহাজটি কিনে এনেছিল। মেমেই নামের জাহাজটি স্থানীয় শিপিং এজেন্সি সোলার শিপিং লাইনসের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এভার শাইনিং লিমিটেডের মালিকানাধীন এই জাহাজটির ক্রয়মূল্য ছিল ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ কোটি টাকার সমান। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ পতাকাবাহী জাহাজটি মূলত সমুদ্রপথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। এর ধারণক্ষমতা ৪৪ হাজার ৮০০ টন।
মার্কিন প্রশাসনের নির্বাহী আদেশের আওতায় একই কম্পানির ‘ফ্লোরা’ নামের আরো একটি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা জারির পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো মেমেই জাহাজটিকে শিপইয়ার্ডে ভেড়ানোর ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
এসএন করপোরেশনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন ম্যানেজার) ওমর ফারুক বলেন, আন্তর্জাতিক ও আইনি জটিলতার কারণে জাহাজটিকে বর্তমানে সৈকতে ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই সেটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সোলার শিপিং লাইনসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এটি সম্পন্ন করতে আরো প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আমরা নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নিয়ে এসেছিলাম। পরে ওই কম্পানিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে। এতে বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বড় আর্থিক ক্ষতি না হলেও ভবিষ্যতে জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে আরো সতর্ক থাকতে হবে।’




