বিজিবি সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশ ইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিজিবি সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশ ইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ খরচ বেড়ে যাওয়া এবং খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে সীমিত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বেড়েছে, যখন আয় বৃদ্ধির গতি মূল্যস্ফীতির তুলনায় অনেক কম।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে। এক মাস আগে এপ্রিলে এই হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ০.৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৯৪ শতাংশ। এরপর এটিই সর্বোচ্চ হার। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে অবস্থান করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, গত এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রভাবই এখন বাজারে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। গত ১৯ এপ্রিল সরকার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে। এরপর ৩১ মে আরো এক দফা দাম বাড়ানো হয়। যদিও দ্বিতীয় দফা বৃদ্ধির প্রভাব মে মাসের মূল্যস্ফীতির হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। কৃষিপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণনে ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, শাক-সবজিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে পোশাক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সেবার ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। এরই প্রতিফলন দেখা গেছে মে মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্যে।
বিবিএসের হিসাবে মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯.০৬ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৮.৩৯ শতাংশ। এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ০.৬৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৯.৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৭১ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে জাতীয় গড় মজুরি হার হয়েছে ৮.২১ শতাংশ। এর মানে হলো, যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কম বেড়েছে। ফলে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হয় কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হয়।
মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরো কঠিন করে তুলেছে। মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং সংসারের খরচ সামাল দিতে অনেক পরিবারকে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিজেলের দাম বাড়ার পর ট্রাক ও পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব পাইকারি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পড়েছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সবজির দাম ৫০ থেকে ১৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ডিম, ভোজ্যতেল ও চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম তিন মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে গত সপ্তাহে বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। ফলে জুন মাসে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখনো মে মাসের মূল্যস্ফীতির হিসাবে প্রতিফলিত হয়নি।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছেন। ফলে সীমিত ও প্রান্তিক আয়ের মানুষের জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের ওপর যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকেই বহন করতে হয়। অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাব আগামী মাসগুলোতেও বাজারে পড়তে পারে। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বাড়বে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ আরো তীব্র হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডি লেককে কোনোভাবেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ধানমণ্ডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নাগরিক সেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত গণশুনানি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর আওতাধীন বিষয়াবলি নিয়ে ধানমণ্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
গণশুনানিতে অঞ্চল-১-এর অন্তর্ভুক্ত ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও শাহবাগসহ সংলগ্ন এলাকার নাগরিক, সুধীসমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। ওই সময় নাগরিকরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিয়ে তাঁদের মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে সরকার জনগণের অংশীদারভিত্তিক জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ডিএসসিসির এই গণশুনানি। নগর ব্যবস্থাপনায় সরকার, সিটি করপোরেশন এবং জনগণ, সবারই নিজ নিজ দায়িত্ব রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও নিয়ম মেনে চলতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
ধানমণ্ডি লেকের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, লেকটিকে আরো নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এখানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না।
হকার ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, নির্ধারিত স্থানে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার বিষয়ে তাঁদের সচেতন করা হবে, যেন সিটি করপোরেশন সহজে তা অপসারণ করতে পারে। তিনি আরো জানান, নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা শহরের রিকশাচালক ও হকারদের নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যথাযথ নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে এসে তাৎক্ষণিকভাবে হকারি বা রিকশা চালানোর সুযোগ পাবে না।

জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে বিরোধী দল বলিষ্ঠ ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
গতকাল রবিবার সকালে বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ বিরোধী দলের অন্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আজ (রবিবার) থেকে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে বিরোধী দল বলিষ্ঠ ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।’
বৈঠকে বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অবস্থান, অগ্রাধিকার ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হয়। সংসদে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের প্রতিফলন ঘটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিরোধী দলের নেতারা বলেন, জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়া হবে।