রঙ নয় রং
‘রং’ সঠিক, ‘রঙ’ বর্জনীয়। তবে অনুস্বারযুক্ত শব্দের সঙ্গে ‘কার-’ চিহ্ন যুক্ত হলে তা ‘ঙ’ হয়ে যায়। যেমন : ‘রং’-এর সঙ্গে ‘কার-’ চিহ্ন যুক্ত হওয়ার ফলে ‘রঙের’ ও ‘রঙিন’ বানানে ‘ঙ’ হয়েছে। একইভাবে ‘ব্যাং’ হবে। আবার ‘কার-’ চিহ্ন যুক্তের ফলে ‘ব্যাঙের’ ও ‘ব্যাঙাচি’ শুদ্ধ।
অধীনস্থ নয় অধীন
‘অধীন’ একটি বিশেষণ পদ। শব্দটির অর্থ আয়ত্ত, বশীভূত, অন্তর্গত, অন্তর্ভুক্ত, অনুগত, অধস্তন, বাধ্য, আশ্রিত ইত্যাদি। এর সঙ্গে ‘স্থ’ যোগ করে পুনরায় একই অর্থের বিশেষণে
রূপান্তর করা বাহুল্য।
‘অধীন’ ও ‘অধীনে’ কিছুটা ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
এটি মন্ত্রণালয়ের ‘অধীন’ একটি দপ্তর।
সালাম সাহেব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘অধীনে’ চাকরি করেন।
রুগ্ন নয় রুগ্ণ
ণত্ববিধান অনুযায়ী, র-এর পর স্বরধ্বনি ও ক-বর্গীয় বর্ণ থাকলে তারপর ‘ণ’ হয়।
‘রুগ্ণ’-কে ভাঙলে দাঁড়ায় : র + উ + গ্ + ণ।
দেখা যাচ্ছে, র-এর পর স্বরধ্বনি (উ) ও ক-বর্গীয় বর্ণ (গ) এসেছে বিধায় এখানে ‘ন’ না হয়ে ‘ণ’ হবে। অতএব ‘রুগ্ন’ নয়, লিখতে হবে ‘রুগ্ণ’।
জাহান্নাম নয় জাহান্নম
‘জাহান্নাম’ বেশ প্রচলিত হলেও এটি বর্জিত। প্রমিত বানান হলো ‘জাহান্নম’। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (মুদ্রণ: এপ্রিল ২০১৮)-এ ‘জাহান্নাম’ শব্দের উল্লেখ নেই, আছে ‘জাহান্নম’।
বাক্যে পদের অপপ্রয়োগ
বিশেষণের দ্বিত্বজনিত ভুল
বিশেষণ শব্দের সঙ্গে পুনরায় বিভ্রান্তিবশত বিশেষণবাচক উপসর্গ বা প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে কিছু কিছু ভুল শব্দ গঠিত হয়। এ ধরনের অশুদ্ধ শব্দের উদাহরণ—
আবশ্যক (‘আবশ্যকীয়’ নয়)
উৎকর্ষ (‘উৎকর্ষতা’ নয়)
সখ্য (‘সখ্যতা’ নয়)
ব্যাকুল (‘ব্যাকুলিত’ নয়)
নিঃশেষ (‘নিঃশেষিত’ নয়)
বাচ্যজনিত ভুল
কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও ‘করা’ ক্রিয়ারূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও ‘হওয়া’ ক্রিয়ারূপ হয়। যেমন—
কর্তৃবাচ্য : [সে] আমাকে অপমান করেছে।
কর্মবাচ্য : [তার দ্বারা] আমি অপমানিত হয়েছি।
এদিক থেকে ‘আমি অপমান হয়েছি’ বাক্যে ‘অপমান’ শব্দের প্রয়োগ ভুল। শুদ্ধ প্রয়োগ হবে ‘অপমানিত’।
উদাহরণ
অপপ্রয়োগ : তোমার কথায় সন্তোষ হলাম।
শুদ্ধ বাক্য : তোমার কথায় সন্তুষ্ট হলাম।
অপপ্রয়োগ : এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য : এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।