• ই-পেপার

নাজাফ-কারবালায় খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, মাশহাদে দাফন কাল

পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ পাইলট প্রকল্প চালু

অনলাইন ডেস্ক
পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ পাইলট প্রকল্প চালু
সংগৃহীত ছবি

পর্যটকদের ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে একটি নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ পাইলট প্রকল্প চালু করেছে সৌদি আরব। এর মাধ্যমে পর্যটকেরা একটি সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে পর্যটন ভিসা পেয়ে যাবেন, যার মধ্যে বিমান টিকিট, আবাসন এবং অন্যান্য ভ্রমণ সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। খবর গালফ নিউজ

সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নির্বাচিত কয়েকটি দেশের পর্যটন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই উদ্যোগটি চালু করা হচ্ছে। এই নতুন প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা একটিমাত্র সমন্বিত প্যাকেজের মাধ্যমে পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এই প্যাকেজের মধ্যে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেল বা আবাসন সুবিধা এবং ইলেকট্রনিক ভিসা আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। দর্শনার্থীরা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড এবং আকর্ষণীয় স্থান পরিদর্শনের মতো বিষয়গুলোও যুক্ত করতে পারবেন।

এই সেবা চালুর ফলে আলাদাভাবে বিমান টিকিট, হোটেল এবং ভিসা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা ও ঝামেলা অনেকটাই কমে আসবে। শুধুমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ২৪/৭ গ্রাহক সেবা প্রদানে সক্ষম অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টরাই এই সেবা দিতে পারবে।

এই প্যাকেজ ভিসা সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে পর্যটন খাতকে আরও প্রসারিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার একটি অংশ। পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বীমা কর্তৃপক্ষের যৌথ সহযোগিতায় এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।

সৌদি পর্যটন মন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব বলেন, এই উদ্যোগটি দর্শনার্থীদের জন্য আরো মসৃণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার নতুন পদক্ষেপ। তার মতে, ‘প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা পরবর্তী ধাপে পা রাখছি। আমাদের ভ্রমণ ও পর্যটন অংশীদারদের ক্ষমতায়ন করছি, দর্শনার্থীদের জন্য যাত্রা সহজ করছি এবং সৌদি আরবকে উপভোগ করার একটি স্মার্ট ও আরো নির্বিঘ্ন উপায় তৈরি করছি।’

এবার ইরানে চতুর্মুখী হামলার হুমকি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
এবার ইরানে চতুর্মুখী হামলার হুমকি ট্রাম্পের
রয়টার্স ছবি

প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তুরস্কের রাজধানী আংকারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানায় আলজাজিরা।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আবার অবরোধ আরোপ করতে পারি। সেটি শুধু ইরানের ক্ষেত্রেই হবে। অন্য সবাই স্বাভাবিকভাবে যা চাইবে, তা করতে পারবে।’

এদিকে সুযোগ পেলে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে দিতে পারে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো মিত্ররা মাইনসুইপার জাহাজ পাঠাবে।’

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার ‘অত্যন্ত বড় প্রভাব’ পড়েছে। তার ভাষ্য, হামলায় ইরান যে রাডার ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ করছিল, তা ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রয়োজন হলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতেও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।’

পাশাপাশি প্রয়োজনে দেশটির লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্রগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইরানের খারগ দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্র চাইলে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে ইরানের কিছুই করার থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ৮০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

সড়কে কোবরার ‘ধ্যান’, ৩০ মিনিট যানজট

অনলাইন ডেস্ক
সড়কে কোবরার ‘ধ্যান’, ৩০ মিনিট যানজট
সংগৃহীত ছবি

হঠাৎ প্রাকৃতিক আবাসস্থল থেকে অত্যন্ত বিষধর একটি কোবরা সাপের দেখা মিলল জনবসতিপূর্ণ একটি রাস্তায়। দীর্ঘ সময় মাঝ রাস্তায় ফণা তুলে বসে ‘ধ্যানে’ থাকায় থমকে গেছে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল। এ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে কোবরাটিকে উদ্ধার করে সরিয়ে নেয় পুলিশ। এসব কাণ্ডে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের বেঙ্গালুরুর প্যালেস রোডে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অনেকে এটিকে ‘ভিআইপি কোবরা’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ফণা তুলে থাকা কোবরাটিকে দেখে চালক ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে থাকে এবং অনেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সেখানে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বেঙ্গালুরুর ট্রাফিকের নতুন ভিআইপি ছিল একটি কোবরা।’

আরেকজন রসিকতা করে মন্তব্য করেন, ‘মনে হচ্ছে সাপটি রাস্তার মাঝখানেই ৩০ মিনিটের ধ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাও আবার ফণা তুলে।’

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে কোবরাটিকে উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এরপরই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এতে কোনো মানুষ বা সাপের ক্ষতি হয়নি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় প্রাকৃতিক আবাসস্থল থেকে সাপ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় চলে আসার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। এই ঘটনাও নগরায়ণ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংস্পর্শের আরেকটি উদাহরণ।

চলতি পথে হানিমুন!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
চলতি পথে হানিমুন!
সংগৃহীত ছবি

হানিমুন নিয়ে অনেকের অনেক রকম পরিকল্পনা থাকে। বিয়ের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ও একান্তে সময় কাটাতে নবদম্পতি তাদের পছন্দের কোনো জায়গায় বেড়াতে যান। অনেক হোটেলে হানিমুন স্যুইট থাকে। তবে ভারতের মহারাষ্ট্রের জালনা এলাকার এক দম্পতির ভাবনা ছিল ভিন্ন। তারা চেন্নাইগামী একটি ট্রেনের প্রথম শ্রেণির এসি কেবিনকেই বদলে নিয়েছিলেন হানিমুন স্যুইট। 

মহারাষ্ট্রের সাজসজ্জা প্রতিষ্ঠান ‘রাহাত রুম ডেকোরেশন’ নবদম্পতির হয়ে আগে থেকে বুক করা ট্রেনটির একটি কামরাকে হানিমুন স্যুইটে বদলে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পোস্ট এক ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল। অনেকেই অভিনব এই দুর্দান্ত এবং রোমান্টিক ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটিকে বিশেষ কোনো উপলক্ষ উদযাপনের একটি স্মরণীয় উপায় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে অনেকেই আবার এ ক্ষেত্রে রেলওয়ের নিয়ম মানা হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন।

ভিডিওটি শুরু হয় একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের দৃশ্য দিয়ে, যা পরে কোচের করিডর বা ভেতরের যাতায়াতের পথ দিয়ে ভেতরের দিকে এগিয়ে যায়। ক্যামেরা যখন একটি নির্দিষ্ট কূপের কাছে পৌঁছায়, তখন সেটির প্রবেশপথটি গোলাপি রঙের পুঁতির পর্দা দিয়ে আলাদাভাবে নজর কাড়ে, যা হার্ট বা হৃদয় আকৃতির কাট-আউট দিয়ে সাজানো ছিল। ভেতরে কামরাটিকে একটি সাধারণ ট্রেনের কামরার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা দেখাচ্ছিল। লাল এবং সাদা রঙের বেলুন ছাদটিকে ঢেকে রেখেছিল, আর মেঝেজুড়ে ছড়ানো ছিল গোলাপের পাপড়ি। তাজা ফুলের তোড়া এবং গোলাপ, গাঁদা ও রজনীগন্ধা দিয়ে তৈরি মালা দেয়াল ও জানালাগুলোকে সুশোভিত করে তুলেছিল। দেয়ালে লেখা ছিল ‘আই লাভ ইউ’।

ভাইরাল ভিডিওতে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যাত্রীদের এভাবে বিস্তারিতভাবে রেলের কোচ সাজানোর অনুমতি আছে কি না। বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং বেলুন, কাগজ ও ফুলের মতো সাজসজ্জার সামগ্রী আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না বা রেলের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী রসিকতা করে এই কোচটির নাম দিয়েছেন ‘সুহাগরাত এক্সপ্রেস’ বা ‘হানিমন অন হুইলস’। চলন্ত ট্রেনে এই ধরনের ব্যবস্থার ব্যবহারিকতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিম এবং কৌতুকের বন্যা বয়ে গেছে।

তবে রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কামরাটি সাজানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি। তাদের মতে, যেহেতু যাত্রী ফার্স্ট এসি কেবিনের দুটি বার্থই বুক করেছিলেন, তাই কামরাটি কার্যকরভাবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই সংরক্ষিত ছিল। কর্মকর্তারা আরও যোগ করেছেন যে, এই সাজসজ্জার ফলে রেলের সম্পত্তির কোনো ক্ষতি হয়নি বা ট্রেন পরিচালনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি এবং এই ধরনের ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। 

‘রাহাত রুম ডেকোরেশন’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবিনটি জালনার একটি দম্পতির জন্য বুক করা হয়েছিল। তারা জানান, দম্পতি যখন গাড়ি করে ঔরঙ্গাবাদ থেকে জালনা রেলওয়ে স্টেশনে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের টিম আগেভাগেই ট্রেনের কামরাটি সাজিয়ে রেখেছিল।

নিরাপত্তার স্বার্থে নবদম্পতির পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও অনেকে তাদের শুভ কামনা জানিয়েছেন।