• ই-পেপার

রাউজানে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

  • সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

গাইবান্ধায় এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায়ে ৬ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায়ে ৬ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

গাইবান্ধায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অসদুপায় গ্রহণ করায় ৬ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

বুধবার (৮ জুলাই) পরীক্ষা চলার সময় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেন কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, ওই ৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গাইবান্ধা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৪, তুলসীঘাট শামসুল হক ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। তুলসীঘাট শামসুল হক ডিগ্রি কলেজের বহিষ্কৃত ২ জনের মধ্যে ১ জন জেনারেল শাখার ও অন্যজন বিএম শাখার পরীক্ষার্থী।

গাইবান্ধা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব সাইফুল ইসলাম জানান, তাদের প্রশ্নপত্রের উল্টোদিকে প্রশ্নের সমাধান ও বসার বেঞ্চে লেখা উত্তর পাওয়া গেছে।

তুলসীঘাট শামসুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব শফিক আহম্মেদ সরকার ওই কেন্দ্রে বিএম ও জেনারেল শাখার একজন করে ২ শাখার ২ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের কাছে কাগজে লেখা নকল পাওয়া গেছে।

বিধান অনুযায়ী বহিষ্কৃতরা আগামী পরীক্ষাগুলো দিতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, বুধবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলে ১টা পর্যন্ত। গাইবান্ধার ৫০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ১৯ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৮ হাজার ৬৩৯ জন। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৬০ জন।

খুলনায় বস্তার মধ্যে রক্তাক্ত নারীর লাশ, তদন্তে পুলিশ

খুলনা অফিস
খুলনায় বস্তার মধ্যে রক্তাক্ত নারীর লাশ, তদন্তে পুলিশ
প্রতীকী ছবি

খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় এক অজ্ঞাত নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে ওই ভবনের সামনে একটি বড় প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। বস্তার এক পাশ দিয়ে তাজা রক্ত বের হতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে কাছে গিয়ে বস্তার ভেতরে মানুষের মরদেহ রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়ে তারা খুলনা থানায় খবর দেন।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে সিআইডির বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আলামত সংগ্রহের পর পরিচয় জানা যেতে পারে। পরে লাশটির ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলেও ওসি জানান।

শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নির্ঘুম তীরবর্তী মানুষ

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নির্ঘুম তীরবর্তী মানুষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

টানা ৪ দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। চলমান বৃষ্টি না থামলে পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে শঙ্খ নদীর তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার জনসাধারণ নির্ঘুম পাহারায় রয়েছেন ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায়। অনেক পরিবার নিজেদের সহায়-সম্বল, আসবাব সরাতে ব্যস্ত রয়েছে সারাক্ষণ।

অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর সংলগ্ন যে সব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এর মধ্যে রয়েছে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী রায় জোয়ারা, বার্মা কলোনি, চাগাচর, বরমা, বৈলতলী, সেনার চর এলাকা। আরো রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড়, বাজালিয়া, কালিয়াইশ, নলুয়া, আমিলাইশ, ধর্মপুর, চরতি ও খাগরিয়া ইউনিয়ন এলাকার শত শত পরিবার।

চন্দনাইশ উপজেলার চাগাচর এলাকার মামুনুর রশীদ জানান, গত ২-৩ বছর লাগাতার বৃষ্টি না থাকার কারণে শঙ্খ নদীর ঢল তেমন না থাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়নি। এতে আমরা স্বস্তিতে ছিলাম। চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির এবং কালো মেঘের ঘনীভূতের কারণে পাহাড়েও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। শঙ্খ নদীর পানি বেড়ে তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে। তাই আমাদের এলাকার শঙ্খ নদীর পাড়ে অবস্থিত মানুষদের সারারাত জেগে থাকতে হচ্ছে।

দোহাজারী রায় জোয়ারা এলাকার বৃদ্ধ জাফর আহমেদ জানান, গত ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যায় আমাদের রায় জোয়ারা এলাকার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। তাই অনেক পরিবার চলতি ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় নিজ নিজ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন ইতোমধ্যে।

সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন জানান, সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়ন এলাকার শঙ্খ নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। শঙ্খে নদীর তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। ইতোমধ্যে সব ধরনের সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তায় উপর পানির ঢলে অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী পড়েছে। চন্দনাইশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে নিম্নাঞ্চলের জনসাধারণকে স্থানীয় হাইস্কুলে ও ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নেওয়ার জন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

চন্দনাইশের ইউএনও আব্দুর রহমান জানান, শঙ্খ নদীর পানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ও নদীর তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি ছেড়ে নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সাতকানিয়ার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গ্রাম পুলিশদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সব এলাকায় মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা অংশে ৫ ঘণ্টাব্যাপী যানজট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা অংশে ৫ ঘণ্টাব্যাপী যানজট, যাত্রীদের দুর্ভোগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মাহসড়কে চান্দিনা অংশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী লেনে ওই যানজট প্রায় ৫ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এতে ঢাকাগামী যাত্রীসহ দূরদূরান্তের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নূরীতলা এলাকায় যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে পুকুরে পড়ে যায় একটি লং ভেহিকল (লরি)। এতে সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ ২ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় আরো এক যাত্রী।

ওই দুর্ঘটনার পর থেকে যানজট সৃষ্টি হতে থাকে। দুর্ঘটনা কবলিত লং ভেহিকল (লরি) টি উদ্ধার করতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ফলে ঢাকামুখী লেনটি বন্ধ থাকে। এই ১ ঘণ্টার মধ্যে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় মহাসড়কে বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

যানজটে আটকাপড়া সততা পরিবহনের যাত্রী শরীফুল ইসলাম জানান, তিনি চান্দিনা বাস স্টেশন থেকে রাত ৮টায় মাধাইয়া স্টেশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। হাড়িখোলা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে তাকে বহনকারী গাড়িটির ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িগুলো নিয়ম ভেঙে মহাসড়কের একটি লাইল দিয়ে চলাচল করার কারণে ওই যানজট হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে রাত ৯টায় সরেজমিনে চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকা পর্যন্ত যানজট দেখা গেছে। তবে রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যানবাহন ধীর গতিতে ঢাকা অভিমুখে চলতে শুরু করে।

এ ব্যাপারে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির শিকদার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লং ভেহিকল (লরি) উদ্ধার করতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এ সময় ঢাকামুখী লেন বন্ধ থাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এখন গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।