ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তিনি জানিয়েছেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের হাতে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।’ তুরস্কে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য জোটের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন রাষ্ট্রপতির এই দাবি ডেনমার্ক ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে তার অনড় অবস্থান প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের মতে, এই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে সত্যিকার অর্থে সাহায্য করার জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করে না। ট্রাম্প আরো বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাছাড়া অঞ্চলটি চীন ও রাশিয়ার জাহাজ দ্বারা পরিবেষ্টিত, যা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। রাশিয়ার হাত থেকে ডেনমার্ককে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও তারা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে রাজি হচ্ছে না বলে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আঙ্কারায় এক ভাষণে কড়া জবাব দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মিত্র দেশগুলোর উচিত ডেনিশ রাজ্যের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা। ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পেতে চায়—এটি তাদের একটি সুপরিচিত অবস্থান। তবে আমি আশা করি, এটাও সবাই সমানভাবে জানেন যে এমনটা কোনোদিনই ঘটতে যাচ্ছে না।’ ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগমুহূর্তে এই কূটনৈতিক লড়াই শুরু হলেও ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আঙ্কারার এই সম্মেলনে সুদূর উত্তর, আর্কটিক বা গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুতে এগেদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কেবল তার নিজের জনগণের দ্বারাই নির্ধারিত হওয়া উচিত। সবসময় এমনই হয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এমনই থাকবে।’ তবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডকে অধিগ্রহণ বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই চেষ্টা দীর্ঘদিনের। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও গত জুন মাসে জানিয়েছিলেন যে, এই জটিল বিষয়টি নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে প্রতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সর্বশেষ ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি বিষয়টিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে।





