• ই-পেপার

চীনের হুমকির মুখে ‘কমিউনিস্টবিরোধী’ শিক্ষা ফিরল তাইওয়ানে

ভারতে ভারি বৃষ্টিতে ১০ মৃত্যু, বন্ধ মহাসড়ক

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে ভারি বৃষ্টিতে ১০ মৃত্যু, বন্ধ মহাসড়ক
ছবি : এক্স থেকে নেওয়া।

ভারি বর্ষার কারণে মুম্বাই, পুনে এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে, পরিবহনব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে এবং বৃষ্টিজনিত ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মুম্বাই, পুনে, থানে, রায়গড় এবং পালঘরের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে এবং একটানা ভারি বর্ষণের সতর্কতা দিয়েছে।

সোমবার ভোরে কারজাত এবং লোনাভালার মধ্যবর্তী ভোরঘাট অংশে একাধিক ভূমিধসের কারণে মুম্বাই-পুনে রেল করিডর মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রেললাইনের ওপর বড় বড় পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনটি রেললাইনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডেকান কুইন, ইন্দ্রায়ণী এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ডেকান এক্সপ্রেস এবং সিংহগড় এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল বা অন্য পথে পাঠাতে বাধ্য হয়।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, টানা বৃষ্টির মধ্যেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাদল ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিষ্কার ও চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছে। ভূমিধসের কারণে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে এবং পুরনো মুম্বাই-পুনে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুম্বাই ও পুনের মধ্যে সড়ক যোগাযোগও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের টানেল-২-এর কাছে বড় ধরনের একটি ভূমিধসে মুম্বাইমুখী সড়ক ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায়। একই সময়ে বন্যার কারণে মাভাল ও তামহিনি ঘাট হয়ে যাওয়া বিকল্প সড়কগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু

ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে মুম্বাই মহানগর অঞ্চলে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মানখুর্দে তিনতলা একটি চাওল ভবন ধসে ৬ জন নিহত হন। কুরলায় রাস্তার পাশের একটি দোকানের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে ৬৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান। এ ছাড়া চেম্বুরে একটি স্কুলবাসের ওপর গাছ পড়ায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। সাকি নাকায় বন্যার পানিতে ঢেকে থাকা একটি খোলা ম্যানহোলে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে খারঘরের নিষিদ্ধ পান্ডাভকাড়া জলপ্রপাতে ডুবে দুই তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন।

স্কুল-কলেজ বন্ধ, ট্রেন চলাচলে বিলম্ব

মুম্বাইয়ের উপশহরীয় রেল চলাচল চালু থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলছে। সেন্ট্রাল রেলওয়ের ট্রেনগুলো ৬ থেকে ৮ মিনিট এবং ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের ট্রেনগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিলম্বে চলাচল করছে।

পরিস্থিতির কারণে মুম্বাই, পুনে, থানে ও নবি মুম্বাইয়ের স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের ডাব্বাওয়ালারাও দিনের জন্য তাদের সেবা স্থগিত করেছে। এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।

আলী খামেনির জানাজায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান

অনলাইন ডেস্ক
আলী খামেনির জানাজায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান
ছবি : এনডিটিভি।

নিহত সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা জনসমক্ষে উপস্থিত হন। দাফন অনুষ্ঠানে শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের আহ্বানও জোরালোভাবে উঠে আসে।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় টানানো পোস্টার, গ্রাফিতি এবং জনতার স্লোগানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কিছু বক্তা ও অংশগ্রহণকারী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ শ্লোগান দেন। 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে চার মাসের বেশি সময় বিলম্বের পর ইরান খামেনি এবং তার পরিবারের আরো চার সদস্যের জন্য এক সপ্তাহব্যাপী দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের প্রথম দিন নিহত হন।

জানাজার নামাজে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। অনেকে সারারাত মসজিদে অবস্থান করেন, আবার অনেকেই ভোরের আগে এসে উপস্থিত হন যাতে সকাল ৮টার নামাজে অংশ নিতে পারেন। ইরানের জাতীয় পতাকা ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত লাল পতাকা হাতে অনেক মানুষ খামেনির ছবি বহন করেন। এ সময় ভিড়ের মধ্যে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের ধ্বংস হোক’ স্লোগানও শোনা যায়।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে কিছু পোস্টার, গ্রাফিতি ও জনতার স্লোগানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে কবি মোহাম্মদ রসৌলি লাউডস্পিকারে বক্তব্য দেন। তিনি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানালে উপস্থিত জনতার একটি অংশ উল্লাস প্রকাশ করে।

২৯ বছর বয়সী মুদি দোকানের কর্মী গোলামরেজা সাবুনি বলেন, ‘আমি এখানে প্রতিবাদ জানাতে এবং প্রতিশোধের দাবি তুলতে এসেছি। তারা আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘ওরা আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে। আমাদেরও ওদের নেতা ট্রাম্পকে হত্যা করা উচিত।’

পরে আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত খলিল শিরঘোলামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় লেখেন, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু তার চিন্তা ও আদর্শ আরো ছড়িয়ে পড়েছে।’

তিনি দাবি করেন, খামেনির মৃত্যু তার অনুসারীদের বিশ্বাস ও আদর্শকে দুর্বল করতে পারেনি। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর বলেন, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মানুষ দুটি মূল বার্তা দিচ্ছেন—শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ইরানের নিহত নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া।

আলি খামেনির জানাজাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও ইসরায়েলি হুমকির মধ্যেই রবিবার ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা জনসমক্ষে উপস্থিত হন। এ সময় নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ভাই মাসুদ, মেইসাম ও মোস্তফাকে দেখা যায়। এ ছাড়া বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল আহমদ ভাহিদির ছবিও প্রকাশিত হয়। যুদ্ধের পর এই প্রথম তাদের জনসমক্ষে দেখা গেল।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এবং কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ ও চলমান উত্তেজনার মধ্যে তাদের এই উপস্থিতি দেশের ঐক্য, প্রতিরোধের মনোভাব এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আস্থার বার্তা দিয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি মোজতবা খামেনিকে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবাকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল। সে সময় মোজতবা খামেনিকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

৯৭ বছর বয়সী শিয়া ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আলী খামেনি, তার পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়গানিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি ছিল ছোট্ট নাতনির কফিন, যা অন্য কফিনগুলোর তুলনায় অনেক ছোট ছিল।

খামেনির মরদেহ ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে নেওয়া হবে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় তার কফিনসহ অন্যান্য কফিন নিয়ে শোকযাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উপলক্ষে অনেক সড়ক ও জনসাধারণের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে দাফনের মাধ্যমে শোকযাত্রা শেষ হবে।

শনিবার ও রবিবারের অনুষ্ঠানে কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে ইরানের বিভিন্ন শহরেও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দাফন অনুষ্ঠান ছিল জাতীয় ঐক্যের একটি প্রদর্শন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ইরান আংশিক নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবানন-সংক্রান্ত আঞ্চলিক ইস্যুতেও দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়েছে।

রবিবার মার্কিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক সংস্থা জানায়, গত ৭২ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৭০টি জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে শনিবারেই ১৮টি জাহাজ চলাচল করেছে।

সংস্থাটি আরো জানায়, ওমান ও ইরানের কাছাকাছি নৌপথে চলাচল স্থিতিশীল থাকলেও তা এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় কম। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে এবং মাইন অপসারণ ও জরিপ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

যুক্তরাষ্ট্র ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ নয়, ভারতকে টেনে ভ্যান্সকে নেতানিয়াহুর পাল্টা জবাব

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ নয়, ভারতকে টেনে ভ্যান্সকে নেতানিয়াহুর পাল্টা জবাব
সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, বিশ্বের যেসব দেশ ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন করে, তাদের মধ্যে ভারত অন্যতম। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আরো অনেক দেশ তাদের পাশে রয়েছে।

রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হলেও ভারত থেকেও তারা ব্যাপক সমর্থন পেয়ে থাকেন। নেতানিয়াহু বলেন, তিনি জেডি ভ্যান্সকে সম্মান করেন এবং তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভ্যান্সের সব বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকাকালে আমরা সবচেয়ে বড় বন্ধুকে পেয়েছি। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমাদের আর কোনো শক্তিশালী বন্ধু নেই।’ এরপর তিনি ভারতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘ভারত একটি বিশাল দেশ। সেখানে প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ বাস করেন। আমরা সেখান থেকে অসাধারণ সমর্থন পাই। আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভারতের মানুষের সমর্থনের অসংখ্য বার্তা আসে।’ তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কিছু অংশে ইসরায়েলের সমালোচনা দেখা গেলেও বাস্তবে বিশ্বের অনেক দেশ এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

নেতানিয়াহুর দাবি, বিভিন্ন দেশের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তা, সামরিক কৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে ইসরায়েলের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, ‘অনেক নেতা আমাকে ফোন করে বলেন, নিজেদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তারা প্রকাশ্যে সব সময় অবস্থান জানাতে পারেন না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তারা ইসরায়েলকে সম্মান করেন এবং আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে আগ্রহী।’ প্রযুক্তি খাতে ইসরায়েলের অবস্থান নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, সাইবার প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কারণে অনেক দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায়।

জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জবাব দিতেই নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। গত মাসে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেছিলেন, ইসরায়েলের উচিত তাদের ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক অবস্থান না নেওয়া। সে সময় ভ্যান্সের এই মন্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে। ইসরায়েলের কিছু নেতা ওই আলোচনা এবং সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে ভ্যান্স বলেছিলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারের সদস্য হলে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করতেন না। 

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন। ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পও জানিয়েছেন, টেলিফোনে আলোচনার পর দুই নেতা শিগগিরই মুখোমুখি বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলের কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাম্পের ব্যস্ত সফরসূচির কারণে বৈঠকটি আগামী সপ্তাহে হতে পারে। ইরান, লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সেই মতভেদ থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলের আগামী অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে দুই নেতা ওয়াশিংটনে বৈঠক করতে সম্মত হয়েছেন।


 

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ
ছবি: রয়টার্স

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন অভিযোগের বিচার শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। এ জন্য দেশটির সিনেট অভিশংসন আদালত হিসেবে বসবে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে সারা দুতের্তের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই এই বিচার শুরু হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বিচার দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিচার শুরুর আগে রাজধানী ম্যানিলায় সিনেট ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিচার শুরুর দিন সারা দুতের্তের সমর্থক ও বিরোধী- উভয় পক্ষই বিক্ষোভ করতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের দেখা বিচার-সংক্রান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিচার শুরুর দিনে সারা দুতের্তে অথবা তার আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবেন। পুরো বিচারপ্রক্রিয়া ৯২ দিন চলার কথা রয়েছে। 

সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি স্থায়ীভাবে সরকারি যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য হয়ে যেতে পারেন। এতে ২০২৮ সালে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনাও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। ওই নির্বাচনেই প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ছয় বছরের মেয়াদ শেষ হবে। ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অজানা উৎস থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া গোপন রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট মার্কোসকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে সারা দুতের্তে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচার শুরুর আগে তিনি অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দিতে রাজি হননি। তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট মার্কোস ও তাঁর রাজনৈতিক মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সিনেট সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।

২০২২ সালের নির্বাচনে ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও সারা দুতের্তে একই জোট থেকে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। সে সময় ফিলিপাইনের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক পরিবারের সমর্থন একত্রিত করতেই এই জোট গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সারা দুতের্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের মেয়ে। রদ্রিগো দুতের্তে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশে গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে নেদারল্যান্ডসের হেগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আটক রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আগামী ৩০ নভেম্বর তার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

রদ্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল ভিত্তি তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান। ওই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন দরিদ্র এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল, পশ্চিমা দেশ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। যদিও রদ্রিগো দুতের্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সারা দুতের্তের অভিযোগ, তার ৮১ বছর বয়সী বাবাকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার পেছনে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের ভূমিকা রয়েছে। দুই পরিবারের পররাষ্ট্রনীতিতেও বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মার্কোস ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বাড়তে থাকা তৎপরতার বিরোধিতা করে আসছে তার সরকার। 

অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী ফিলিপাইনের নৌবাহিনী ও জেলেদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জলকামান ব্যবহার করলেও সারা দুতের্তে প্রকাশ্যে তার নিন্দা করেননি। এ কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। গত মাসে ফিলিপাইনের প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সমর্থকদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সারা দুতের্তেকে দোষী সাব্যস্ত করতে ২৪ সদস্যের সিনেটে অন্তত ১৬ জন সিনেটরের সমর্থন লাগবে। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং সরকারি পদে থাকার অধিকার হারাতে পারেন।

এদিকে বিচার শুরুর আগেই দুতের্তে-সমর্থক কয়েকজন সিনেটর আইনি সমস্যায় পড়েছেন। দুতের্তে-ঘনিষ্ঠ সিনেটর জিংগয় এস্ট্রাডাকে গত মাসে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য দুর্নীতির মামলা হয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দুতের্তে-সমর্থক আরেক সিনেটর রোদান্তে মারকোলেতার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের নির্বাচনী অনুদান গ্রহণ এবং সম্পদের ঘোষণায় সেই অর্থ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনিও কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া সাবেক জাতীয় পুলিশপ্রধান ও বর্তমান সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা আত্মগোপনে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রদ্রিগো দুতের্তের আমলের হত্যাকাণ্ডে সহঅভিযুক্ত হিসেবে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। দুতের্তের মাদকবিরোধী অভিযান বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।