• ই-পেপার

স্বাভাবিক হলো কাতারের সমুদ্রপথ

সবার দল ভাঙছেন থালাপতি বিজয়, রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ তিন দলের

অনলাইন ডেস্ক
সবার দল ভাঙছেন থালাপতি বিজয়, রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ তিন দলের

ভারতজুড়ে রাজ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক দল ভাঙ্গনের অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে। এবার নিজেদের ফাঁদে পড়েছে বিজেপি। তামিলনাড়ুতে তাঁদের দল ভাঙচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী থালপতি বিজয়। এমন অভিযোগে হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিল তামিলনাড়ুর গেরুয়া শিবির। শুধু বিজেপি নয়, একই অভিযোগ তুলেছেন দুই পুরোনো তামিল দল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকেও। মূল অভিযোগটা আসলে ডিএমকের।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে দীর্ঘ সময় শাসন করা দ্রাড়ির দলের ক্ষমতা অধ্যায় শেষ থালাপতির দল টিভিকের কাছে হেরে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হু হু করে শক্তি বাড়ছে টিভিকের। রাজ্যের প্রায় সব প্রান্ত থেকেই বিভিন্ন স্তরের নেতা যোগ দিচ্ছেন বিজয়ের দলে। একাধিক এআইএডিএমকে বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিজয়ের হাত ধরেছেন। ডিএমকের বহু জেলা ও ব্লক স্তরের নেতাও দলবদল করেছেন। একই পরিস্থিতি বিজেপির। মোটামুটি সব বিরোধী দলেই কমবেশি ভাঙন ধরিয়েছে টিভিকে।

একপ্রকার নিরুপায় হয়েই বিরোধীরা একযোগে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছেন। ডিএমকে, এআইএডিএমকে এবং বিজেপি আলাদা আলাদাভাবে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছেন। 

ডিএমকের অভিযোগ, সরকারের সমস্ত রকম ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। জয়ী জনপ্রতিনিধিদের চাপ দিয়ে দলবদল করানো হচ্ছে। বেআইনিভাবে বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। জেলেও অত্যাচারের সম্মুখীন হচ্ছেন তাঁরা। 

তিন বিরোধী দলই একযোগে দাবি করছে, বিজয়ের বিরুদ্ধে কোনও সাংবিধানিক পদক্ষেপ করুন রাজ্যপাল। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল বিশ্বনাথ রাজেন্দ্র আরলেকর তিন দলের অভিযোগের পাওয়া কথা স্বীকার করেছেন। এমনকী পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন।

বিজয় মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন দু’মাসও হয়নি। এরই মধ্যে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ। তবে পাল্টা অভিযোগ বিজেপিও করেছে। 

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর সরকারও ফেলার চেষ্টা হয়েছে। অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে ৩৫ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ডিএমকের তরফে। সেই অভিযোগের তদন্তও চলছে।

মুম্বাইয়ে রেড অ্যালার্ট জারি

অনলাইন ডেস্ক
মুম্বাইয়ে রেড অ্যালার্ট জারি
রয়টার্স ছবি

ভারতের মুম্বাই ও আশপাশের শহরগুলোতে রাতভর ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের কয়েকটি এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রবিবার সকালে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও আরও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে এমন আশঙ্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি রেখেছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। এমন অবস্থায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না গিয়ে সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে মুম্বাইয়ের নগর কর্তৃপক্ষ ব্রিহানমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি)।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের কয়েকটি এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি এবং কয়েকটি স্থানে ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। 

রবিবার সকালে মেট্রো ও ব্রিহানমুম্বাই ইলেকট্রিক সাপ্লাই অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের (বেস্ট) বাস চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে যাত্রীরা জানিয়েছেন, শহরতলির ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

এমন অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য বিএমসির ১৯১৬ নম্বর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে এবং সব ধরনের সতর্কবার্তা মেনে চলতে নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ এদিন বিকেল ৩টার পর ৪ দশমিক ১৯ মিটার উচ্চতার জোয়ারের পূর্বাভাস রয়েছে। এছাড়া আগামীকাল সোমবার ভোর ৩টা ৪১ মিনিটে ৩ দশমিক ৫১ মিটার উচ্চতার আরেকটি জোয়ার হতে পারে।

এর আগে শনিবারের প্রবল বর্ষণে মাত্র ১২ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এতে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়, বিভিন্ন সড়কে ধস নামে, গাছ উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ধসে পড়ে এবং সড়ক ও রেল চলাচল ব্যাহত হয়। টানা বৃষ্টিতে পাশের থানে, পালঘর, নবি মুম্বাই এবং পুনে অঞ্চলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ভূমিধস, কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নেওয়া হয়েছে।

আইএমডি জানিয়েছে, রোববারও কয়েকটি এলাকায় ভারি এবং বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া শহর ও আশপাশের এলাকায় ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বিএমসির তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩১০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ভিখরোলি পশ্চিমের বিল্ডিং প্রপোজাল অফিস এলাকায়। এরপর কোলাবা পাম্পিং স্টেশনে ৩০৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং ভিখরোলির ঠাকুর নগর মিউনিসিপ্যাল স্কুল এলাকায় ৩০১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ ছাড়া মালাবার হিল, মান্ডাভি ফায়ার স্টেশন, কোলাবা, মেমনওয়াড়া ফায়ার স্টেশন, ভিখরোলি ফায়ার স্টেশন, পাওয়াইয়ের পাসপোলি মিউনিসিপ্যাল স্কুল, ভান্ডুপ কমপ্লেক্স, আন্দেরি ফায়ার স্টেশন, চাকালা মিউনিসিপ্যাল স্কুল, জোগেশ্বরী এবং গোরেগাঁওয়ের আরে কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার দুপুরে রেললাইনে পানি জমে যাওয়ায় সেন্ট্রাল রেলওয়ে ও ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের শহরতলির ট্রেন চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।

এছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে মেট্রোর ২এ লাইনের পরিষেবাও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।

ইরান যুদ্ধ : প্রস্তুতি বাড়াতে যুদ্ধবিরতি?

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ : প্রস্তুতি বাড়াতে যুদ্ধবিরতি?
রয়টার্স ছবি

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ১৪ দফার একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নামের ওই চুক্তির ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কাজ করছে দুই দেশ।

তবে যুদ্ধবিরতির এই সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো ‘ভুল পদক্ষেপের’ জবাব ‘চূর্ণবিচূর্ণ ও নির্ণায়কভাবে’ দেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

আক্রমিনিয়া বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতির এই সময়কে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা একটি মুহূর্তও নষ্ট করব না বা কোনো অবহেলা করব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘শত্রুরা যদি কোনো ভুল করে, তাহলে তারা অবশ্যই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চূর্ণবিচূর্ণ ও নির্ণায়ক জবাবের মুখোমুখি হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বেসামরিক স্থাপনায় হাজারো বিমান হামলা চালায়।

খামেনির জানাজায় তিন ছেলের উপস্থিতি, আড়ালেই রয়ে গেলেন মোজতবা

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির জানাজায় তিন ছেলের উপস্থিতি, আড়ালেই রয়ে গেলেন মোজতবা
সংগৃহীত ছবি

নিহত ইরানি নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিয়েছেন লাখো মানুষ। তবে বাবার জানাজায় খামেনির তিন ছেলে উপস্থিত থাকলেও, তার উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।

তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা কফিনগুলোর পেছনে খামেনির তিন ছেলে—মোস্তফা, মেসাম ও মাসুদ খামেনিকে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিহতের পাশাপাশি মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই হামলায় মোজতবার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। মূলত এই শারীরিক অবস্থার কারণেই তিনি জনসমক্ষে আসছেন না।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান খামেনির জন্য সপ্তাহব্যাপী এক বিশাল গণ-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করেছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার (৪ জুলাই) খামেনির কফিনটি তার কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ ও ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিনের সঙ্গে বাইরে প্রদর্শন করা হয়। রবিবার (৫ জুলাই) জানাজার নামাজে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও অংশ নেন। এ সময় খামেনির ছেলেদের অশ্রুবিসর্জন করতে এবং উপস্থিত লাখো মানুষকে বুক চাপড়ে কাঁদতে দেখা যায়। এই বিশাল সমাগমের কারণে তেহরান মেট্রোতে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় রেকর্ড ৭০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে এক বিশাল মিছিলের পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহগুলো শিয়া মাদরাসা শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বুধবার (৮ জুলাই) মরদেহগুলো ইরাকের পবিত্র তীর্থস্থান নজফ ও কারবালায় পাঠানো হবে। সবশেষে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদে আরেকটি জানাজা শেষে খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে। এই কর্মসূচিগুলোতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিবহন, খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যাপক ব্যবস্থা করেছে ইরান সরকার।