সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর জনগণের আস্থা বাড়াতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ডেটা প্রকাশে স্বাধীনতা, পেশাদারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরো জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে সরকারি পরিসংখ্যানের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভা শেষে তিনি বিবিএসের প্রধান কার্যালয়ে নবস্থাপিত মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণ ল্যাব উদ্বোধন করেন।
মতবিনিময়সভায় মন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য ডেটাই সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই সরকারি তথ্য-উপাত্তের মান, গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে পরিসংখ্যান প্রকাশে পেশাদারি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বিবিএসের কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগবিধি হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি নীতি-নির্ধারণের প্রতিটি পর্যায়ে সরকারি পরিসংখ্যানের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া দেশে পরিসংখ্যান খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য একটি পরিসংখ্যান একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।
উদ্বোধন করা মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণ ল্যাব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি গবেষক, শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সরকারি মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে সরকারি তথ্য-উপাত্ত নতুন নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে এবং প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন আরো শক্তিশালী হবে।
তিনি আরো বলেন, বিবিএস নিয়মিতভাবে জাতীয় শুমারি ও বিভিন্ন জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাইক্রোডেটা উৎপাদন করে। নতুন এই ল্যাবের মাধ্যমে সেই উপাত্ত আরো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও গবেষণাবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা যাবে। ‘ডেটা থেকে জ্ঞান, জ্ঞান থেকে উন্নয়ন’—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ল্যাবটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, বিবিএসের মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণ ল্যাব শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এর মাধ্যমে জাতীয় ডেটার ব্যবহার আরো কার্যকর হবে এবং গবেষণা ও নীতি প্রণয়নের মান উন্নত হবে।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, মাইক্রোডেটায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উত্তরদাতাদের গোপনীয়তা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিবিএসের এই ল্যাব নিরাপদ ডেটা ব্যবহার, দায়িত্বশীল গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, বিবিএসের নতুন মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণ ল্যাবটি একটি নিরাপদ অনসাইট গবেষণা সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। অনুমোদিত শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও অন্যান্য ব্যবহারকারী জাতীয় শুমারি ও জরিপের নাম-পরিচয়বিহীন (ডি-আইডেন্টিফায়েড) মাইক্রোডেটা এখানে এসে বিশ্লেষণ করতে পারবেন। গবেষণা, থিসিস, নীতি বিশ্লেষণ, কর্মসূচি মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে এই ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




