• ই-পেপার

মুম্বাইয়ে স্কুল বাসে ভেঙে পড়ল বিশাল গাছ, হতাহত ১১

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিগগিরই কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিগগিরই কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই ইরানের
রয়টার্স ছবি

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো পর্যায়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইরান। তবে একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নসংক্রান্ত কারিগরি আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘মূলত আগামী কয়েক দিনে কোনো পর্যায়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।’

তবে একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায় ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নসংক্রান্ত কারিগরি আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, দোহায় যে আলোচনা হবে, তা ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা নয়; বরং সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক। এর মধ্যে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও রয়েছে।

অন্য পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে তবেই ইরানও নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে বাঘাইয়ের বলেন, সমঝোতা স্মারকে সব পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেই কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রেরও নির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি বলেন, দোহায় চলমান বৈঠকগুলো বৃহত্তর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ এবং এতে ইরানসংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার বর্তমানে দোহায় অবস্থান করছেন। তারা কাতারি কর্মকর্তা ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তবে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো সরাসরি রাজনৈতিক আলোচনা করছেন না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে দোহা ও অন্যান্য স্থানে যেসব বৈঠক হচ্ছে, সেগুলো মূলত কারিগরি পর্যায়ের। 

এদিকে চলতি মাসে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখা তৈরির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

বিদেশে জব্দকৃত ইরানের ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ার বিষয়ে কাতারের মুখপাত্র জানান, কাতারে আটকে থাকা ইরানের ৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল এখনো তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ওই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে, অর্থাৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হলেই অর্থ ছাড়ের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পাকিস্তানে ছাদধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে ছাদধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি টিউশন সেন্টারের ছাদধসে অন্তত ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। পুলিশের বরাতে এ খবর জানিয়েছে দ্য ডন

প্রতিবেদন মতে, আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। লাহোর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) অপারেশনস ফয়সাল কামরান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

লাহোর জেনারেল হাসপাতাল প্রকাশিত নিহতদের প্রাথমিক তালিকা অনুসারে নিহতদের মধ্যে অন্তত আটজনের বয়স ৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। সন্ধ্যা ৭টায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে লাহোর পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়ির মালিকসহ দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে ডিআইজিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অবহেলার জন্য দোষী প্রমাণিতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ডিআইজি কামরান বলেছেন, সম্প্রতি বাড়িটি নির্মাণকারী ঠিকাদারও গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন। বাড়িটির একটি অংশ নির্মাণাধীন ছিল এবং ছাদ ধসে পড়ার সময় শ্রমিকরা কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে রেসক্যু ১১২২-এর মুখপাত্রের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে থাকা তাদের দল জানিয়েছে যে আটকে পড়া শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রেসক্যু ১১২২-এর মুখপাত্র ফারুক আহমেদ ডন নিউজকে বলেন, ‘শিশুদের বয়স খুব কম এবং দুটি ঘর ব্যবহার করা হচ্ছিল। ছাদ ধসে পড়ায় শিশুরা আটকা পড়ে।’

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এধি রেসকিউ সার্ভিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি বাড়ির ঘরের ছাদ ‘হঠাৎ ধসে পড়েছে’। এতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে ধসে পড়া ছাদটি টিআর গার্ডার ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছিল।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ ছাদধসে মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করে ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য পুলিশ ও জেলা সরকারি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

লাহোর জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারিক মাহমুদ বলেছেন, ভবনটিতে একটি বেসরকারি টিউশন কেন্দ্র ছিল এবং এটি এলাকার এক নারী চালাতেন।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিকটবর্তী লাহোর জেনারেল হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের সেখানে আনা আহত শিশুদের অবিলম্বে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিশু উপস্থিত ছিল।

স্টারমারের ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের সামরিক পরিকল্পনায় কী রয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
স্টারমারের ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের সামরিক পরিকল্পনায় কী রয়েছে
রয়টার্স ছবি

ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তবে পদ থেকে পুরোপুরি সরার আগেই তার উত্তরসূরিকে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত ঋণ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই লক্ষ্যে তিনি ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা (ডিআইপি) ঘোষণা করেছেন। যার অর্থের বড় অংশ আসবে জ্বালানি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাজেট পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ঘোষিত এই পরিকল্পনা প্রায় ১১ মাস ধরে সরকারের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর প্রকাশ করা হয়। এই বিরোধের জেরে স্টারমারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তার রাজনৈতিক পতনেরও একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

স্টারমার জানান, আগামী চার বছরে প্রতিরক্ষা খাতে পূর্বনির্ধারিত ২৮৩ বিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত আরও ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে।

কোথায় ব্যয় হবে এই অর্থ?

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী—রয়্যাল এয়ার ফোর্সের জন্য নতুন স্টেলথ যুদ্ধবিমান কিনতে ৮ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় হবে। 

এ ছাড়া ৬৩ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় হবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে, যার মধ্যে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম ১২টি নতুন বিমানও রয়েছে। ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে ড্রোন প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে।

অর্থ স্থানান্তর

স্টারমার স্বীকার করেন, অতিরিক্ত অর্থের একটি বড় অংশ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মূলধনী বাজেট থেকে নেওয়া হবে। ফলে কিছু সড়ক, জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রকল্প বিলম্বিত, সীমিত বা বাতিল হতে পারে।

দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া—উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়ক ও জ্বালানি খাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে অপরিহার্য নয়—এমন প্রকল্প আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোবে না।

সামরিক আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্থানান্তর করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে স্টারমার সরাসরি অস্বীকার করেননি। তবে তিনি বলেন, সামরিক আবাসনে সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে, তবে সেটিকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজনের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে হয়েছে।

ঋণ নয়, আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর জোর

প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অর্থ জোগাতে ‘ডিফেন্স বন্ড’ চালুর প্রস্তাবও নাকচ করেন স্টারমার। তার ভাষায়, ডিফেন্স বন্ড মূলত ঋণ নেওয়ারই আরেকটি নাম।

তিনি বলেন, ঋণ বাড়ালে সুদের হারও বাড়বে। বর্তমানে প্রতি ১০ পাউন্ড সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ১ পাউন্ড শুধু সুদ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে।

সরকারি অর্থব্যবস্থা স্থিতিশীল করতে কঠোর পরিশ্রম করেছি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, মূল্যস্ফীতি ও মর্টগেজের (বন্ধক) সুদের হার কমাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আমরা ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাই না।

প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবি

তবে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোষিত অতিরিক্ত অর্থও যথেষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত বছর ব্যয় পর্যালোচনায় অতিরিক্ত ২৮ বিলিয়ন পাউন্ড চেয়েছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করেছিল।

বর্তমান পরিকল্পনায় সেই দাবির অর্ধেকের কিছু বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকার অবশ্য পরবর্তী পার্লামেন্টের কোনো এক সময়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

স্টারমার বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দায়িত্ব এবং তিনি আশা করেন, তার উত্তরসূরিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবেন।

এদিকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে তিনি আগামী ১৭ জুলাই লেবার পার্টির নেতা এবং ২০ জুলাই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।

ইরানি গবেষকের দাবি

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না যুক্তরাষ্ট্র

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদেশে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়া এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে ওয়াশিংটন স্বতঃস্ফূর্ত অঙ্গীকার রক্ষা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে তেহরান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ তোলেন তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলী আকবর দারেইনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দায়িত্ব রয়েছে কোনো শর্ত ছাড়াই দ্রুত ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করার। কিন্তু ওয়াশিংটন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। এ বিষয়ে দারেইনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো শর্ত ছাড়াই ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবিলম্বে ছাড়তে বাধ্য। কিন্তু তারা তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেনি।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি দুটি ধাপে বিভক্ত উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রথম ধাপে রয়েছে পারস্পরিক আস্থা তৈরির পদক্ষেপ এবং দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে না। এর ফলে চলমান আলোচনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে দাবি করেছেন ইরানি এই গবেষক। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কী করছে তা লক্ষ্য করুন। সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পক্ষ থেকে এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু তারা ইসরায়েল ও লেবাননের সঙ্গে আলাদা একটি চুক্তি করেছে, যা ওই সমঝোতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

এ ধরনের পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকটি আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে না। দারেইনি আরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থ আটকে রেখেছে এবং এখন সেই অর্থকেই আলোচনার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

এর আগে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের জব্দ সম্পদ, নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়গুলো বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থ ছাড়, আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ—এই তিনটি বিষয় বর্তমানে চলমান আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।