• ই-পেপার

ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ এনসিপিআই ঝড়!

দার্জিলিংয়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিনা মূল্যে কোচিংয়ের উদ্যোগ শ্রিংলার

অনলাইন ডেস্ক
দার্জিলিংয়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিনা মূল্যে কোচিংয়ের উদ্যোগ শ্রিংলার

ভারতের উত্তরবঙ্গের তরুণদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দার্জিলিং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (ডিডব্লিউএস)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য ও ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। এ উদ্যোগের আওতায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিংয়ের সুযোগ পাবেন। খবর ইকোনমিক টাইমসের।

সোমবার সংগঠনটি ‘ডিডব্লিউএস উৎকর্ষ’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। ভারতের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্ল্যাটফরম ফিজিকস ওয়ালা-এর সঙ্গে অংশীদারত্বে এটি চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কাঠামোগত কোচিং প্রদান করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন বিশিষ্ট অতিথি। তাদের মধ্যে ছিলেন লোকসভার সংসদ সদস্য জয়ন্ত কুমার রায়, নর্থবেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মহেন্দ্র নাথ রায় এবং সাবেক আইপিএস এবং ফিজিকস ওয়ালার সিইও কে. সত্যনারায়ণ।

এই কর্মসূচির আওতায় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ১৬টি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোচিং পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে অগ্নিবীর, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এসআই ও কনস্টেবল, এসএসবি/সিআইএসএফ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা, কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিস (সিডিএস), ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি (এনডিএ), এয়ার ফোর্স কমন অ্যাডমিশন টেস্ট (এএফসিএটি), সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (সিএপিএফ), স্টাফ সিলেকশন কমিটি (এসএসসি), ডব্লিউবিপিএসসি এবং ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা।

ডিডব্লিউএস উৎকর্ষের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফিজিকস ওয়ালার প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন শিক্ষার প্ল্যাটফরমে পূর্ণাঙ্গ কোচিং সুবিধা পাবেন। মেধাবী শিক্ষার্থীকে মানসম্মত প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বাধাগুলো সহজতর করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। সাধারণত এসব কোচিংয়ের খরচ ১৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

ভর্তির ক্ষেত্রে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ নীতি অনুসরণ করা হবে। একজন প্রার্থী শুধু একটি কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন, এতে বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী সুবিধা পেতে পারে। রেজিস্ট্রেশন ও আধার কার্ড যাচাইয়ের পর নির্বাচিত প্রার্থীরা বিনা মূল্যে তাদের নির্ধারিত কোর্সে অংশ নিতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, উত্তরবঙ্গের তরুণদের মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা, দৃঢ়তা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তবে অনেক পরিবার মানসম্মত কোচিংয়ের খরচ বহন করতে হিমশিম খায়।

তিনি বলেন, ডিডব্লিউএস উৎকর্ষ সেই ব্যবধান কমানোর একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সুযোগকে আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল না রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শ্রিংলা আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে তাদের সরকারি চাকরি, প্রতিরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা। তরুণদের ওপর বিনিয়োগ মানেই আমাদের অঞ্চলের ভবিষ্যতের ওপর বিনিয়োগ।

ভিডিও বার্তায় ফিজিকস ওয়ালার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আলাখ পান্ডে বলেন, মানসম্মত শিক্ষা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অধিকার। ভৌগোলিক বা আর্থিক অবস্থার কারণে এটি সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের তরুণদের জন্য বিনা মূল্যে উচ্চমানের কোচিং প্রদান করতে ডিডব্লিউএসের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে তারা গর্বিত।

এই উদ্যোগটি ডিডব্লিউএসের তরুণ শিক্ষার্থীদের সহায়তায় নতুন পর্বের সূচনা করেছে। গত দুই বছরে সংগঠনটি বিনা মূল্যে ইউপিএসসি কোচিং পরিচালনা করেছে। সেখানে ১২০ জনের বেশি প্রার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস, আরবিআই এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে চাকরি পেয়েছেন।

৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া
ছবি : ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হনেছে। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দেশটির একাংশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এরপর শক্তিশালী আফটারশকও অনুভূত হয়েছে। 

ভূমিকম্পের প্রথম ঝাঁকুনিটি মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু শহরে এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তীব্রভাবে অনুভূত হয়। শহরটিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এ ঘটনায় বিক্ষিপ্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পালু শহর থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। পরবর্তী সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫.২, ৫.০ এবং ৪.৯।

ইন্দোনেশিয়া বেশ কয়েকটি সক্রিয় ভূকম্পন চ্যুতির ওপর অবস্থিত। তাই দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয় এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও একটি সাধারণ ঘটনা।

এর আগে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মামুজু শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে অন্তত ১০০ জন নিহত হন এবং আফটারশকের ভয়ে হাজার হাজার মানুষ দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে ঘুমিয়েছিলেন। 

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৭.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ও এর পর সৃষ্ট প্রায় ৩ মিটার উঁচু সুনামিতে পালু এবং আশপাশের এলাকায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
 

অবৈধ ইসরায়েলি বসতি টিকিয়ে রাখতে অর্থ দিচ্ছে ইউরোপ- প্রতিবেদন

অনলাইন ডেস্ক
অবৈধ ইসরায়েলি বসতি টিকিয়ে রাখতে অর্থ দিচ্ছে ইউরোপ- প্রতিবেদন
ছবি: রয়টার্স

এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলো টিকিয়ে রাখতে অর্থের জোগান দিতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখছে ইউরোপ। তদন্তে দেখা গেছে, দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমির অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত ফল ও সবজি নিয়মিতভাবে ইসরায়েলে উৎপাদিত বলে ঘোষণা করেন ইসরায়েলি রপ্তানিকারকেরা। এরপর সেগুলো ইউরোপের বাজারে পাঠানো হয়।

আইনি সহায়তাভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল ইকো’ ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি রপ্তানি নথি পরীক্ষা করেছে। এসব নথি বিদেশে পাঠানো ৬ হাজার ৮০০টির বেশি চালানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে পাঠানো প্রতি প্রায় ছয়টির মধ্যে একটি চালানে বসতিতে উৎপাদিত পণ্য ছিল। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নে পাঠানো প্রতি প্রায় পাঁচটি চালানের মধ্যে  একটিতে এমন পণ্য পাওয়া গেছে। এর বড় অংশই ইসরায়েলে উৎপাদিত বলে ভুল তথ্য দিয়ে পাঠানো হয়েছে।

কানাডার আইন বিশেষজ্ঞ এবং ফিলিস্তিনবিষয়ক জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি মাইকেল লিংক এই সমস্যাকে ‘পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বসতিতে উৎপাদিত পণ্য প্রকাশ্যেই লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। ভুয়া ঠিকানার মাধ্যমে সেগুলো অন্য পথে পাঠানো হচ্ছে। আবার অনেক সময় ইসরায়েলের স্বীকৃত সীমান্তের ভেতরে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনের আসল জায়গা গোপন করার ফলে রপ্তানিকারকেরা ইসরায়েলি পণ্যের জন্য নির্ধারিত কম বা শূন্য শুল্কের সুবিধা দাবি করতে পারেন। এর মাধ্যমে যে আয় হয়, তা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত বসতিগুলো টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।

প্রতিবেদনে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, ইউরোপের আমদানিকারকেরা ‘ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রমকে আর্থিকভাবে টিকিয়ে রাখতে’ ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ইউরোপের শুল্ক কর্তৃপক্ষ এসব ঠেকাতে খুব কম পদক্ষেপ নিচ্ছে।

গ্লোবাল ইকো জানিয়েছে, তারা এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।


 

প্রত্যাশার চেয়ে ১০ বিলিয়ন ডলার বেশি সংগ্রহ করল স্পেসএক্স

অনলাইন ডেস্ক
প্রত্যাশার চেয়ে ১০ বিলিয়ন ডলার বেশি সংগ্রহ করল স্পেসএক্স
ছবি : রয়টার্স

প্রাথমিক ধারণার চেয়েও আরো অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার (৭.৫ বিলিয়ন পাউন্ড) সংগ্রহ করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) সম্পন্ন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কম্পানি স্পেসএক্স। নিউইয়র্কের নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে শেয়ার বিক্রি করে কম্পানির মোট সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫.৭ বিলিয়ন ডলার। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর ব্লুমবার্গের হিসাব অনুযায়ী স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ বা লক্ষ কোটিপতির মর্যাদা লাভ করেছেন।

স্পেসএক্স-এর শেয়ারের জন্য বাজারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী। এই বিপুল চাহিদা সামাল দিতে আইপিও-র দায়িত্বে থাকা গোল্ডম্যান স্যাক্স, ব্যাংক অব আমেরিকা ও জেপি মরগ্যানের মতো বড় ব্যাংকগুলো ‘গ্রিনশু’ নামক একটি বিশেষ আর্থিক ধারা প্রয়োগ করে। এই নিয়মের অধীনে ব্যাংকগুলো সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ৩৩ লাখ শেয়ার কিনে নেয়, যার ফলে মূল পরিকল্পনার চেয়েও এই ১০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। 

আইপিও চালুর পর সোমবার (১৫ জুন) শেয়ার বাজারে স্পেসএক্স-এর জয়জয়কার বজায় ছিল। প্রথম দিকে বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৩৫ ডলার প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা কোম্পানির বাজার মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় সোমবার কম্পানির শেয়ারের দাম ১৯ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতিটির মূল্য ১৯২ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়।

যেহেতু ইলন মাস্কের সম্পদের বেশিরভাগ অংশই সরাসরি স্পেসএক্স-এর শেয়ারে বিনিয়োগ করা, তাই তার এই নতুন ট্রিলিয়নেয়ার মর্যাদা পুরোপুরি শেয়ার বাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল। শেয়ারের দাম কমলে তিনি দ্রুত এই খেতাব হারাতেও পারেন। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে দিন দিন প্রতিযোগিতা এবং সরকারি নজরদারি বাড়ছে। এই অবস্থায় কম্পানিটি তাদের এই আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি কতদিন ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।