• ই-পেপার

প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে সাধারণ জ্বর

  • কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জটিলতায়
  • ঘটছে মৃত্যুও

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ত্রিমুখী চাপে মধ্যবিত্তরা

অনলাইন ডেস্ক
ত্রিমুখী চাপে মধ্যবিত্তরা
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি : সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম মজুরি হার ও সঞ্চয় হারানোর শঙ্কা থাকায় মধ্যবিত্তরা চাপে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম থাকায় মানুষ কাজ করেও আগের অবস্থানে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, মজুরি চাপ এবং সঞ্চয় কমে যাওয়া এই ত্রিমুখী চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংকট তৈরি করছে। রপ্তানি বাড়লেই কর্মসংস্থান বাড়বে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। টাকার মান কমলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়াবে।

গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।  তিনি বলেন, বাজেটে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সংবেদনশীলতা থাকলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক কাঠামো দুর্বল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও সঞ্চয় সুরক্ষা না হলে তারা উপকার পাবে না। সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে তথ্যভিত্তিক তদারকি বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর সদস্য রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিক্ষা খাতে আসলে বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ করা হয়েছে। দুই নয়। তবুও এটি ইতিবাচক। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের করসীমা বাড়লেও বাস্তবে করের চাপ বাড়ছে। স্কুলে ওয়াশ-সুবিধা অত্যন্ত খারাপ, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়লেও ব্যবহার কম, সক্ষমতা ও আমলাতান্ত্রিক সমন্বয়ের ঘাটতি বড় বাধা। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ২০২১ সাল থেকেই জাতীয় বাজেটে জেন্ডার সংবেদনশীল বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্থবিরতা ও সংকোচন দেখা যাচ্ছে। সামগ্রিক বাজেটের আকার বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় এই খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে। নারীর প্রত্যক্ষ জনসেবা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উপখাতগুলোতে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে সহিংসতা প্রতিরোধ ও আইনি সহায়তার মতো কাজগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্র্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অযৌক্তিকভাবে প্রায় দ্বিগুণ ধরা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে, ঘাটতি বড়। এডিপি বাস্তবায়ন দুর্বল ও শেষ সময়ে ফুলিয়ে দেখানো হয়। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও উপেক্ষিত। তাই বাজেটের আকার কমিয়ে বাস্তবসম্মত করা প্রয়োজন ছিল। নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, সামাজিক সুরক্ষায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও অধিকাংশই সামান্য বৃদ্ধি। ফ্যামিলি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ হলেও লক্ষ্যভিত্তিক নয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ ও মর্যাদাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়েছে, ফলে প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, কৃষি অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হলেও বাজেটে এর গুরুত্ব কমছে। জিডিপিতে অবদান বেশি হলেও এই খাতে বিনিয়োগ কম, ফলে প্রবৃদ্ধি থমকে যাচ্ছে ও আমদানি নির্ভরতার ঝুঁকি বাড়ছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান, সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হেড অব পলিসি অ্যাডভোকেসি ফাইয়াজউদ্দিন আহমেদ, এডুকো বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম তাজিন হোসেন প্রমুখ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফ্ল্যাটে ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহার চায় রিহ্যাব

অনলাইন ডেস্ক
ফ্ল্যাটে ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহার চায় রিহ্যাব
সংগৃহীত ছবি

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ জমির মালিকদের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব এবং নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি উপেক্ষা করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আবাসন খাত বর্তমানে ক্রেতা সংকট, উচ্চ নির্মাণ ব্যয়, অর্থায়ন সংকট এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর আরোপ এবং বিদ্যমান উচ্চ নিবন্ধন ব্যয় বহাল রাখা আবাসন খাতকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে জমির মালিককে প্রদত্ত সাইনিং মানির ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে এর পাশাপাশি ডেভেলপারের নির্মিত ফ্ল্যাটের ওপরও জমির মালিককে ১৫ শতাংশ কর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে যৌথ উন্নয়ন (জয়েন্ট ভেঞ্চার) প্রকল্প নিরুৎসাহিত হবে, নতুন প্রকল্প কমে যাবে এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে জমি, ফ্ল্যাট ও বিল্ডিং ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর পরিশোধ সাপেক্ষে বিনা প্রশ্নে ‘স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এজন্য প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে অবস্থান করছে। এ অর্থ আবাসনসহ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পেলে তা অর্থনীতির মূলধারায় ফিরে আসবে এবং বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রিহ্যাব মনে করে, নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থকে বৈধ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার ফলে অর্থনীতির মূলধারায় নতুন অর্থ প্রবাহিত হবে এবং আবাসন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩  এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম রিজিয়ন) মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান, পরিচালক আলহাজ মো. গোলাম কিবরিয়া মজুমদার, এ জেড এম কামরুদ্দিন, মো. জহির আহমেদ, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, শেখ কামাল, এম ফখরুল ইসলাম, এ এস এম আবদুল গাফফার মিয়াজী ও মো. এমদাদুল হোসেন সোহেল উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য শেষে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রিহ্যাব নেতারা।​​​​

ছাগলের পেটে তালগাছ

চোরের পকেটে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
ছাগলের পেটে তালগাছ
সংগৃহীত ছবি

বজ্রপাত প্রতিরোধে ২০১৭ সালে ১০০ কোটি টাকা খরচ করে লাগানো হয়েছিল তালগাছ। বছর না ঘুরতেই দেখা যায় কোথাও গরু-ছাগলের পেটে চলে গেছে। কোথাও গাছ না লাগিয়েই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তালগাছে প্রতিরোধ কৌশল ব্যর্থ হলে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড বসানো হয়। কিছু জায়গায় সেই দণ্ডের তামার তারসহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যায় চোর। বজ্রপাতে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ মানুষের প্রাণহানি হলেও কাজে আসছে না কোনো কৌশল।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগের ব্যর্থ প্রকল্পগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মাঠভিত্তিক জরিপ করে পরিকল্পনা করছে সরকার। এবারও ১৪ লাখ তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেসব এলাকায় গাছের সংখ্যা কম সেখানে লাগানো হবে। ৬৪ জেলার প্রশাসককে তালগাছের সংখ্যা জরিপ করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা বিশেষ করে হাওড়াঞ্চলে ‘মাল্টিপারপাস শেড’ নির্মাণ করা হবে। আকাশে বজ্রমেঘ দেখলেই কৃষকরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারবেন। এ শেডে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা থাকবে। এ শেড কৃষকরা ধান মাড়াই, স্বল্প সময়ের জন্য ধান মজুতসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমানোর জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বজ্রপাতের ঝুঁকিহ্রাস ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করে তা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি ‘ইন্টিগ্রেটেড ভয়েস রেসপন্স’ বা আইভিআর প্রযুক্তির সাহায্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার ও বিশেষ মহড়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কৃষক ছাউনিতে বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং ব্যাপক হারে তালগাছ রোপণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বজ্রপাতে এক যুগে ৩ হাজার ৪২৫ জন মারা গেছে। ২০১৪ সালে ১৭০, ২০১৫ সালে ২২৬, ২০১৬ সালে ৩৯১, ২০১৭ সালে ৩০৭, ২০১৮ সালে ৩৫৯, ২০১৯ সালে ১৫৮, ২০২০ সালে ২৫৫, ২০২১ সালে ৩৬৩, ২০২২ সালে ৩৩৭, ২০২৩ সালে ৩৫০, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ২৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন বজ্রপাতে। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ৭ দিনেই ৭১ জন মারা গেছেন। এ বছর মৃত্যু শতাধিক।

জানা গেছে, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় টিআর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বরাদ্দ করা হয় ১৫ কোটি টাকা। এ টাকা দিয়ে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় ৩৪৩টি বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। তবে সব এলাকায় স্থাপন করা হয়নি। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫টি জেলায় বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপনের জন্য ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছিল। এসব দণ্ডের অনেক যন্ত্রাংশ চুরি ও খোয়া যায়। ফলে সরকারের শুধু অর্থই খরচ হয়েছে, বাস্তবে কাজে আসেনি। পরে এগুলো পুনরায় স্থাপন করতে হয়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

সরকারের তোষামোদ নয় সত্য তুলে ধরুন

অনলাইন ডেস্ক
সরকারের তোষামোদ নয় সত্য তুলে ধরুন
সংগৃহীত ছবি

গণমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, সময় টিভির জুবায়ের বাবু, ডিবিসির লোটন ইকরাম, মোহনা টেলিভিশনের রাশেদুল হক, একাত্তর টেলিভিশনের শফিক আহমেদ, জিটিভির গাউসুল আজম বিপু, দেশ টিভির মহিউদ্দীন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরিফুল ইসলাম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, নাগরিক টিভির ইরফানুল হক নাহিদ, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, বাংলা টিভির এম এম বাদশা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় দেশের টেলিভিশন শিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা জানান, আলোচনার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবু আবদুল্লাহ এম. ছালেহ (সালেহ শিবলী) জানান, অর্থনীতি ও সমাজনীতির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ জুন এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে টেলিভিশন শিল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প খাত হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দ্রুত একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

রাজধানীর চার বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ : রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল দ্রুত ঢাকার বাইয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে এ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ক তৃতীয় দফার সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই প্রশাসক।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, এআই ক্যামেরা স্থাপনসহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় ট্রাফিক সিগন্যালিং এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুফল প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বলা হয়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, গাবতলী এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। এ সংকট দূর করতে নগরীর ভিতর থেকে এসব টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ঢাকার বাইরে বা উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে যাবে পূর্বাঞ্চলে এবং পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গির কাছে স্থানান্তরিত হবে। গাবতলী আন্তনগর বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুর এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে।

কাল শ্রীমঙ্গল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : আগামীকাল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন এবং উপকারভোগীদের হাতে কার্ড তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের লোকজনকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। উপকারভোগীদের তালিকা যাচাইবাছাই ও চূড়ান্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার বেলা ১টায় শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ সফরের মাধ্যমে জেলার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন