আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর বিপক্ষে আজ হারের শঙ্কা কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভর করেছিল সেলেসাওদের মনে। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র করে মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।












আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর বিপক্ষে আজ হারের শঙ্কা কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভর করেছিল সেলেসাওদের মনে। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র করে মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।












ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমারের থাকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। চোটে জর্জরিত ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার ফর্ম ও ফিটনেস নিয়ে সংশয়ও কম ছিল না। তবু ব্রাজিল সমর্থকদের বড় একটি অংশের কাছে নেইমারের উপস্থিতি মানে শুধু একটি ফুটবলীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরার বিপরীতে এক আশার প্রতীক।
মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে কাফ ইনজুরির কারণে মাঠে নামতে পারেননি ব্রাজিল দলের এই প্রাণভোমরা। বেঞ্চে বসেই দলের খেলা দেখতে হয়েছে তাকে। তবু ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন এই তারকা ফুটবলার।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের অনেকেই নেইমারের জার্সি গায়ে এসেছিলেন। তাদের মতে, ব্রাজিল দলে নেইমারের মতো একজন তারকার উপস্থিতি প্রয়োজন, যিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। অনেকের চোখে নেইমার এখনো দলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার নাম।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে বেশ চাপে ছিল ব্রাজিল। মাঝমাঠে আধিপত্য হারিয়ে বারবার সমস্যায় পড়তে হয় সেলেসাওদের। এমনকি প্রথমার্ধে গোলও হজম করে তারা। পরে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়।
ম্যাচজুড়ে ব্রাজিলের আক্রমণে সৃজনশীলতার ঘাটতি স্পষ্ট ছিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিছু মুহূর্তে জাদুকরী ফুটবলের ঝলক দেখালেও তার পাশে পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব চোখে পড়েছে। আর সেখানেই বারবার সামনে এসেছে নেইমারের নাম।
ব্রাজিলের ইতিহাসে পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো কিংবা কাকার মতো কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছেন নেইমার। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ। তাই অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, এই বিশ্বকাপেই হয়তো তার অসমাপ্ত গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হতে পারে।
মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামতে না পারলেও ম্যাচ শেষে নেইমারকে ঘিরে ছিল ভক্ত ও খেলোয়াড়দের ব্যাপক আগ্রহ। ব্রাজিল ও মরক্কো উভয় দলের খেলোয়াড়রাই তার সঙ্গে দেখা করতে এগিয়ে আসেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা-স্বপ্ন এখনো অটুট। আর সেই স্বপ্নপূরণে চোট কাটিয়ে নেইমারের মাঠে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে ব্রাজিল সমর্থকেরা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের ঘোষণা দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ইতিমধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নেমেছে টাইগাররা।
শেষ ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। কনকাশনের কারণে দলে নেই মেহেদী হাসান মিরাজ। তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান। এ ছাড়া পেসার নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন শরিফুল ইসলাম।
প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগেই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাই শেষ ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা স্বাগতিকদের।
অন্যদিকে, ইতিমধ্যে সিরিজ হারানো অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য অন্তত শেষ ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।

মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের সমতায় ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে রাখঢাক না রেখেই কথা বলেছেন সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি। শুরুটা যে মোটেও মনঃপূত হয়নি, তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে এই ইতালিয়ান মাস্টারের কণ্ঠে।
ম্যাচের মাত্র ২১ মিনিটেই ইসমাইল সাইবারির গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় ব্রাজিলিয়ান শিবির। পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচে ফেরে দল। তবে গোল পেলেও পুরো প্রথমার্ধে মাঠের খেলায় ছিল চরম ছন্নছাড়া ভাব, মরক্কোর প্রেসিংয়ের মুখে ভীতি ছড়াতে পারেনি সাম্বা বয়রা।
ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা ও আত্মসমালোচনা লুকিয়ে রাখেননি আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘আমাদের শুরুটা কোনোভাবেই ভালো বলা যাবে না। দলের ভেতর একটা প্রচ্ছন্ন উদ্বেগ কাজ করছিল। আমরা বারবার পজিশন হারিয়েছি, ওয়ান-টু-ওয়ান ডুয়েলগুলোতেও পরাস্ত হয়েছি। প্রথমার্ধের চেয়ে দ্বিতীয় হাফে কিছুটা উন্নতি হলেও তা যথেষ্ট ছিল না।’
ব্রাজিল বস আরো যোগ করেন, শুরুতেই স্নায়ুর চাপ সামলাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। শুরুতে ম্যাচের লাগাম ধরে রাখতে পারলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত বলে বিশ্বাস তার।
অবশ্য প্রতিপক্ষ মরক্কোর শক্তিমত্তাকে খাটো করে দেখছেন না এই অভিজ্ঞ কোচ। ড্র করলেও পুরো পয়েন্ট না পাওয়ার হতাশায় বুঁদ হয়ে থাকতে চান না তিনি।
আনচেলত্তি বলেন, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সব সময়ই স্নায়ুক্ষয়ী। প্রথম ম্যাচ খেলেই কেউ ট্রফি জিতে যায় না। ফলাফল একেবারে বিপর্যয়কর নয়, তবে আমাদের অনেক জায়গায় কাজ করতে হবে।’
দলের এমন পারফরম্যান্সের পরও স্বস্তি এনে দিয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। শিষ্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কোচ বলেন, ‘ভিনি দারুণ খেলেছে, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ও-ই সবচেয়ে বেশি ভীতি ছড়িয়েছে। ওর যে সামর্থ্য আছে, তাতে এই বিশ্বকাপে ও বড় অবদান রাখবে।’
ভুলত্রুটি শুধরে আগামী ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি।